ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১০ জানুয়ারি, চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারাগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যাত্রা শুরু, প্রতিভা অন্বেষণে মাঠে শিশুরা আত্রাইয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাবান বিতরণ মুরাদনগরে চোরাই সিএনজিসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক আত্রাইয়ে গ্রাম আদালতের এজলাস উদ্বোধন, স্বল্প খরচে বিচারসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা পে-ফিক্সেশনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট: জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা শিবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি কোটালীপাড়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত বিএডিসিতে এখনো শক্তিশালী আওয়ামী প্রভাব খাটানো বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক, নেপথ্যে কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির

প্লট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার

ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১০ কাঠার প্লট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিন সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটের দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে মহানগর দায়রা আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটের দিকে এজলাসে ওঠানো হয় তাকে। শুনানি শেষে আদালত খায়রুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোনাইম নবী শাহিন তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী হাফিজুর রহমান এই জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে খায়রুল হকসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ ও এস্টেট) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ২ নম্বর শিক্ষা সম্প্রসারণ সড়কে (নায়েম রোড) পৌনে ১৮ কাঠা জমির ওপর ৬ তলা পৈতৃক বাড়ি রয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের। কিন্তু তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯ এর বিধি ১৩ লঙ্ঘনের মাধ্যমে হলফনামা দাখিল করে রাজউকের ১০ কাঠা প্লট বাগিয়ে নেন।

এতে আরও বলা হয়, খায়রুল হক প্লট বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। রাজউকের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সুদ মওকুফের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও প্লট বরাদ্দের জন্য সাময়িক বরাদ্দপত্রে শর্ত ভঙ্গ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ কিস্তির টাকা জমা না দিয়ে অবসরের পর অর্থাৎ বরাদ্দের ৫ বছর পর সুদবিহীনভাবে টাকা জমা দেন। এ ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে সুদ বাবদ ৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৪০ টাকা পরিশোধ না করে সরকারের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১০ জানুয়ারি, চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত

প্লট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:৫১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১০ কাঠার প্লট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিন সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটের দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে মহানগর দায়রা আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটের দিকে এজলাসে ওঠানো হয় তাকে। শুনানি শেষে আদালত খায়রুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোনাইম নবী শাহিন তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী হাফিজুর রহমান এই জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে খায়রুল হকসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ ও এস্টেট) আ.ই.ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ২ নম্বর শিক্ষা সম্প্রসারণ সড়কে (নায়েম রোড) পৌনে ১৮ কাঠা জমির ওপর ৬ তলা পৈতৃক বাড়ি রয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের। কিন্তু তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯ এর বিধি ১৩ লঙ্ঘনের মাধ্যমে হলফনামা দাখিল করে রাজউকের ১০ কাঠা প্লট বাগিয়ে নেন।

এতে আরও বলা হয়, খায়রুল হক প্লট বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। রাজউকের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সুদ মওকুফের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও প্লট বরাদ্দের জন্য সাময়িক বরাদ্দপত্রে শর্ত ভঙ্গ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ কিস্তির টাকা জমা না দিয়ে অবসরের পর অর্থাৎ বরাদ্দের ৫ বছর পর সুদবিহীনভাবে টাকা জমা দেন। এ ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে সুদ বাবদ ৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৪০ টাকা পরিশোধ না করে সরকারের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।