স্বৈরাচার হাসিনার আমলে অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীই ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে। নিজের ক্ষমতা বাড়াতে অনেকেই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র-জনতার উপর হামলার উদ্দেশ্যে দিয়েছেন অর্থ। যাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক পালিয়েছে সাজার ভয়ে আর কিছু এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
গত বছরের ১ জুন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র জনতা কর্তৃক সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী আন্দোলন শুরু হয়। যাহার ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে রামপুরা থানাধীন টিভি সেন্টার এলাকায় আন্দোলকারীরা অবস্থান নেয়।
আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ দাবিতে চলাকালীন সময় রামপুরা থানাধীন টিভি সেন্টারের সামনে স্থানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, কিরিচ, দা, অস্ত্রশস্ত্র রড দিয়ে আক্রমণ চালায়। অভিযোগ আছে সেসব দেশীয় অস্ত্র কেনার অর্থ ও বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে সাহায্য করে কিছু সরকারি কর্মকর্তা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরও কমেনি তাদের দাপট বরং দল পালটিয়ে এখনও সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছে।
তাদের মধ্যে মো. সাইফুজ্জামান চুন্নু, পিতা- আব্দুস সালাম মৃধা, সাং- দক্ষিণ দরান্দী, উপজেলা ও জেলা পটুয়াখালী ও মো. আমান উল্লাহ অন্যতম। তারা ছিলেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত কাছের লোক। যার ফলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অর্থ জোগান দিতে উৎসাহী ছিলেন তারা। আমান উল্লাহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন এক কাজের বিল দুই মন্ত্রণালয় থেকে তোলার অভিযোগ ওঠে। সে সময় এ নিয়ে জোগান তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। মো. আতিকুল ইসলাম সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও আওয়ামী লীগের অর্থদাতা বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এমন কোন অনিয়ম দুর্নীতি নেই যা তিনি করেনি।
এছাড়াও অর্থ দিয়ে আন্দোলন নৎসাত করার চেষ্টা করেন, আবুল কালাম আজাদ, সাবেক কর্মকর্তা, ঢাকা গণপূর্তত বিভাগ-৩; মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্; পবিত্র কুমার দাস, কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তর; মো. ইউসূফ, গণপূর্ত ইএম কারখানা বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতা; এ.এন মাজহারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প-৫, গণপূর্ত বিভাগ ৩। এবং গণপূর্তের প্রকৌশলী ময়নুল
গত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে এরা বিভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতাদের থেকে নিয়েছেন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও তারা সরাসরি বিভিন্ন রামপুরা এলাকার আওয়ামী নেতাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। যার ফলে হতাহত হন অগণিত ছাত্র-জনতা।
এ জন্য তাদের নামে ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে মো. সুমন হাওলাদার বাদী হয়ে সি.আর মামলা নং-১১৮/২০২৫, ধারা ঃ ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধি ধারায় মামলা দায়ের করেন।
এদের নামে রয়েছে একাধিক মামলাও। এতকিছুর পরেও তারা কোনো শাস্তির মুখোমুখি হয়নি। বরং আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করার জন্য এখনও বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, উপরিউক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। পিছনে আছে অদৃশ্য শক্তি, তাই আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
মামলার বাদী জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর যখন হাসিনা পালিয়ে যায়, এরপর আমরা রামপুরা এলাকার কিছু আওয়ামী যুবলীগ নেতাকে ধরি এবং তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন তারা উপরিউক্ত লোকদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলিধারালো ছুরি ও ককটেল কেনার টাকা পেয়েছিল বলে জানায়।
এসব বিষয়ে জানতে সেসব কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তার বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সংবাদ শিরোনাম ::
গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অর্থদাতা অসাধু কর্মকর্তারা এখনও বহাল তবিয়তে
-
স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ০৯:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
- ৭২৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ























