সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা
প্রথম পর্ব

রাজউকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর একজন সামান্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হয়ে মাত্র ২৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে কোটিপতি বনে গেছেন মো. আব্দুল মোমিন। তার নামে ও বেনামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, জমি, ব্যাংক ব্যালেন্স ও এফডিআরসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য, যা যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জাদু।
রাজউকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আব্দুল মোমিনের মূল বেতন ২৮ হাজার টাকা। অথচ তার নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ কাঠা জমির উপর নির্মিত হয়েছে “শান্তির নীড় সুলতানা মহল” নামে সাততলা একটি আলিশান ভবন। যার বাজার মূল্য ১৫ কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একজন সামান্য কর্মচারীর পক্ষে এত বড় বাড়ি তৈরি সম্ভব নয়। এ বাড়ি যে দুর্নীতির টাকায় নির্মিত, সে বিষয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত।
সূত্র বলছে, আগেও তার দুর্নীতির খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর তিনি বাড়ির নামফলক মুছে ফেলেন। তবে এলাকাবাসী বলছেন, রাজউক হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া, কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হওয়ায় এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, কমলাপুরের জসিমউদ্দিন রোডে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নামের একটি নয়তলা ভবনে আব্দুল মোমিনের রয়েছে ১৭২৫ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর বি-৬)। এর বাজার মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি। ফ্ল্যাটটির অভ্যন্তরে রয়েছে প্রায় এক কোটি টাকার আসবাবপত্র।
শুধু তাই নয়, সাভারের ভাদাইলে হোসেন প্লাজার পাশে রয়েছে দুই বিঘা জমি ও টিনশেড ঘর, যা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। এছাড়া পূর্বাচলে স্ত্রী সুলতানার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার প্লট। আরও জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার এফডিআর।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বরাতে জানা যায়, বহুল আলোচিত ‘প্লট কেলেঙ্কারির হোতা’ গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আব্দুল মোমিন। একসময় দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে চাকরি করতেন তিনি। ২০০১ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ২০০৯ সালে চাকরি ফিরে পেতে মামলা করেন। ২০১৩ সালে হাইকোর্টের আদেশে ফেরত পান চুক্তিভিত্তিক চাকরি, আর ২০১৭ সালে স্থায়ী হন। এরপরই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ফুলেফেঁপে ওঠেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, “আমি কিছুদিন আগে হজ করে এসেছি।” এরপর ফোন কেটে দেন। তার এই উত্তর সংবাদকর্মী মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
রাজউকে স্তরে স্তরে যে লাগামহীন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই আব্দুল মোমিন।”
বর্তমানে রাজউক চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, চেয়ারম্যানের এই অভিযানে আব্দুল মোমিনের মতো দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
মো. আব্দুল মোমিনের দূর্নীতির তথ্য নিয়ে আরও থাকছে দ্বিতীয় পর্বে….

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

প্রথম পর্ব

রাজউকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ

আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর একজন সামান্য ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হয়ে মাত্র ২৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে কোটিপতি বনে গেছেন মো. আব্দুল মোমিন। তার নামে ও বেনামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, জমি, ব্যাংক ব্যালেন্স ও এফডিআরসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য, যা যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জাদু।
রাজউকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আব্দুল মোমিনের মূল বেতন ২৮ হাজার টাকা। অথচ তার নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ কাঠা জমির উপর নির্মিত হয়েছে “শান্তির নীড় সুলতানা মহল” নামে সাততলা একটি আলিশান ভবন। যার বাজার মূল্য ১৫ কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একজন সামান্য কর্মচারীর পক্ষে এত বড় বাড়ি তৈরি সম্ভব নয়। এ বাড়ি যে দুর্নীতির টাকায় নির্মিত, সে বিষয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত।
সূত্র বলছে, আগেও তার দুর্নীতির খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর তিনি বাড়ির নামফলক মুছে ফেলেন। তবে এলাকাবাসী বলছেন, রাজউক হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া, কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হওয়ায় এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, কমলাপুরের জসিমউদ্দিন রোডে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নামের একটি নয়তলা ভবনে আব্দুল মোমিনের রয়েছে ১৭২৫ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর বি-৬)। এর বাজার মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি। ফ্ল্যাটটির অভ্যন্তরে রয়েছে প্রায় এক কোটি টাকার আসবাবপত্র।
শুধু তাই নয়, সাভারের ভাদাইলে হোসেন প্লাজার পাশে রয়েছে দুই বিঘা জমি ও টিনশেড ঘর, যা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। এছাড়া পূর্বাচলে স্ত্রী সুলতানার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার প্লট। আরও জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার এফডিআর।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বরাতে জানা যায়, বহুল আলোচিত ‘প্লট কেলেঙ্কারির হোতা’ গোল্ডেন মনিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আব্দুল মোমিন। একসময় দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে চাকরি করতেন তিনি। ২০০১ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ২০০৯ সালে চাকরি ফিরে পেতে মামলা করেন। ২০১৩ সালে হাইকোর্টের আদেশে ফেরত পান চুক্তিভিত্তিক চাকরি, আর ২০১৭ সালে স্থায়ী হন। এরপরই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ফুলেফেঁপে ওঠেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, “আমি কিছুদিন আগে হজ করে এসেছি।” এরপর ফোন কেটে দেন। তার এই উত্তর সংবাদকর্মী মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
রাজউকে স্তরে স্তরে যে লাগামহীন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই আব্দুল মোমিন।”
বর্তমানে রাজউক চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, চেয়ারম্যানের এই অভিযানে আব্দুল মোমিনের মতো দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা হবে।
মো. আব্দুল মোমিনের দূর্নীতির তথ্য নিয়ে আরও থাকছে দ্বিতীয় পর্বে….