১১ সিন্দুর ও কালনী ট্রেন এর মালিক আব্দুর রাজ্জাক শ্রমিক শোষণ, অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ভূক্তভূগি শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত “১১ সিন্দূর এক্সপ্রেস” ট্রেনটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত রয়েছে অস্বচ্ছ ঠিকাদারি, শ্রমিক শোষণ, খাদ্য পরিবেশন দুর্নীতি, টিকিট কালোবাজারি, এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নিয়োগ-বাণিজ্য। এই ট্রেনটির ক্যান্টিন, খাবার সরবরাহ ও পরিষেবা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ঋড়ড়ফ ধহফ ইবাবৎধমব খঃফ. এবং ইযঁঃধহ ইবাবৎধমব খঃফ. নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে, যার পেছনে রয়েছেন প্রভাবশালী ঠিকাদার ও রাজনৈতিক সংযোগযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক।তিনি বিগত সৈরাচার সরকারের আমলে ওবাদুল কাদেরের ভাগিনা পরিচয়ে পরিচিত।তার দাপটে গত ১৫ বৎসর রেল মন্ত্রণালয়ে রেলের ট্রেন্ডারবাজী ছিল শীর্ষ। আ:রাজ্জাক কিছু রেল ওয়ের কর্মকতাকে হাত করে ওবাদুল কাদেরের পিএসকে দিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার গুলো ভাগিয়ে নিতেন।যার কিছু ভাগ যুবলীগের খালেদ, ও বাবর পেতো।কমলাপুরের বিশাল এক রাজত্বে রাজত্ব করতেন।
১. ঠিকাদারি দুর্নীতি ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ
ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাক তার দুই কোম্পানি দিয়ে একইসঙ্গে একাধিক ট্রেনের ক্যান্টিন/খাবার ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
১১ সিন্দূর এক্সপ্রেস ও কালনী এক্সপ্রেস উভয় ট্রেনের খাদ্য সরবরাহ চুক্তি একই গোষ্ঠীর হাতে। বিভিন্ন টেন্ডারপ্রক্রিয়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে অন্যদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন, নথিপত্র অনুযায়ী একই মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
২. শ্রমিক শোষণ ও চুক্তি লঙ্ঘন
যেসব শ্রমিক ১১ সিন্দূর এক্সপ্রেসে খাবার পরিবেশন, পানি সরবরাহ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিযুক্ত, প্রায় ৬৫ জন।তাদেরকে মাসিক ১২হাজার টাকা মজুরি দেওয়ার কথা খাকলে ও প্রতি মাসে বেতন শ্রমিকদের হাতে সই স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে উঠানের পর আবার কোম্পানীর কাছে ফেরত দিয়ে আসতে হয়।এমন শ্রমিক তার দুই ট্রেনে ৩৫জন আছে। বাকী আরোও ৩০জন আছে তাদের কোন বেতন নেই,কোনো নিয়োগপত্র, স্বাস্থ্যবীমা, আইনি নিরাপত্তা নেই,বিনা মজুরিতে শ্রমিকরা কাজ করেন।
অবৈধ আয়ের পদ্ধতি : বিনা টিকিটে যাত্রী উঠিয়ে, ট্রেনের ফাঁকা জায়গায় চেয়ার বসিয়ে ও “টিকিটবিহীন চাদাঁ আদায়” করে প্রতিদিন বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়।এখানে যে টাকা ইনকাম হয় তারথেকে প্রতিদিন শ্রমিকদের ১৫০০ টাকা করে “ম্যানেজারদের” কাছে জমা দিতে হয়।যাত্রাবিরতিতে খাবার বিক্রির সুযোগ থাকলেও শ্রমিকদের আয় থেকে জোর করে কমিশন কেটে নেওয়া হয়।
খাবারের মান ও মূল্য ট্রেনে পরিবেশিত খাবার বেশীর ভাগ সময় বাসি ও নিম্নমানের হয়।যাত্রীদের অভিযোগ: ৩০-৫০ টাকার খাবার ১০০+ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। খাবারে ময়লা, পানি ছাঁকানো নয়, প্লাস্টিক বোতলে দূষিত পানি সরবরাহের ঘটনা নিয়মিত। যাত্রীদের ফেসবুক পোস্ট ও ট্রেনভিত্তিক ফোরামে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আব্দুর রাজ্জাক বতমানে কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে আরেকটা টেনের টেন্ডার নিয়েছেন। উভয়ের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ঋড়ড়ফ ধহফ ইবাবৎধমব খঃফ. ও ইযঁঃধহ ইবাবৎধমব খঃফ. ুচুক্তি নবায়ন বা অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এসব কিছু প্রভাবশালী মহলের সংযোগ ব্যবহার করা হয়।রেলওয়ের কিছু অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছেন, তদন্ত হলেও “উপরে থেকে চাপ আসে” বলে তা থেমে যায়।ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা অনিয়ম
যাত্রীদের অভিযোগ,টিকিট কালোবাজারি,সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া, রাতের বেলা চা-নাশতা ও খাবার জোর করে বিক্রির চেষ্টা,গার্ড বা ট্রেন ইনচার্জের নিয়ন্ত্রণহীনতা, বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির সময়, এই ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী তুলেও নিয়মিত টাকা নেওয়া হয়,
ভিডিও সাক্ষাৎকার: সাবেক শ্রমিক “মোঃ আরিফুল ইসলাম (বরিশাল)আমি চাকুরি নেওয়ার সময় ১১ সিন্দুর ট্রেনের মালিক আ:রাজ্জাক “সুরুচি ফাস্ট ফুট এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানীর ম্যানেজার রহমত উল্লা ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময় আমাকে দুই বৎসরের জন্য নিয়োগ দেয়।মাসিক বেতন ১২ হাজার আরো অন্যান ইনকামসহ ১৭ হাজার টাকা পড়বে।সেই মোতাবেক কাজ শুরু করি ০১/০৪/২০২২ সালে,৫মাস কাজ করার পর আমার সামান্য ভূল ধরে আমাকে বাদ দিয়েছে। আমরা ১৪ ঘণ্টা কাজ করতাম, কোনো ছুটি ছিল না, খাবারের টাকাও কেটে রাখতো।আমাদেরকে কোন বেতন দিতো না, সুরুচি ফাস্ট ফুট এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানীর মাধ্যমে প্রতিমাসে ১০হইতে ১৫ জনকে নিয়োগ দেন প্রত্যেকজন থেকে ১ লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নেন।এটা হলো এই কোম্পানির মূল ব্যবসা।আবার প্রতিমাসে ৭জন ৮জন করে বাদ দিয়ে দেন। তাদের জামানত ফেরত দেন না। টাকা চাইলে অনেক পাওয়ার দেখায় হুমকি দমকি দিয়ে বিদায় করেন।
সাবেক শ্রমিক মোঃ রফিকুল ইসলাম,(বরগুনা)সে তার সাক্ষাৎকারে বলেন সে চাকুরী নিয়েছেন ২ লক্ষ টাকা দিয়ে মাত্র ৯ মাস কাজ করার পর আমার জ্বর হয়েছে ৫ দিন ডিউটিতে না যাওয়ার কারনে আমাকে বাদ দিয়েছে। আমার ৯ মাসের বেতন একটাকা ও দেয় নাই, একমাত্র অবৈধ ইনকামই আমাদের ইনকাম।
সাবেক শ্রমিক: মো: কামরুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ)সে বলেন এই ট্রেনের একমাত্র ব্যবস্যা হলো নারী ব্যবসা।ও লোক নিয়োগ এবং ছাটাই করা।এই পর্যন্ত শত শত শ্রমিক মাসে মাসে সর্বচ্চো হারিয়ে যেতে হয়েছে, অগনিত।
আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদেরের বাগীনাবলে প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ গুলো করে আসছে। এখন আবার পরিচয় দেন বিএনপির নেতা।কিছু বিএনপি নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এখন আবার কালনি নামে আরেক টি ট্রেনের কন্টাকনিয়েছেন। ঐ নেতাদের বিস্তারিত পরবতী নিউজে আসবে।
ট্রেন যাত্রী “নাজমুল হাসান বলেন আমি ১৬০ টাকা দিয়ে এক প্লেট বিরিয়ানি নিয়েছিলাম, খাওয়া যায়নি। ফিরিয়ে দিতে চাইলে খারাপ ব্যবহার করে, মান সম্মানের প্রশ্নে টাকা দিয়ে সিটে বসে আছি।
এক কথায় ১১ সিন্দূর এক্সপ্রেস: রেলে চলমান শোষণ ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট,“যাত্রী নয়, ঠিকাদারই রাজা: ট্রেন ক্যান্টিনে দুর্নীতির ছায়া” “রেলওয়ে ট্রেন ক্যান্টিন: কাগজে খাবার, বাস্তবে শোষণ”
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















