সংবাদ শিরোনাম ::
মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন সঞ্জিত ১২ বছরে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় বরিশালে এলজিইডিতে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলোচনায় রহমত-ই-খুদা লতিফপুরের চানপুর-হাটুভাঙা রাস্তার বেহাল দশা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার এসআই জনি কান্তি দে’র বিরুদ্ধে ৮৪ কেজি গাঁজা আত্মসাতের অভিযোগ কর্মীদের নামে শত কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বিদেশে পলাতক আদনান ইমাম শতকোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার কামরুল ও তার স্ত্রী রিক্তা মুক্তিযোদ্ধা বাবার সরকারি ‘বীর নিবাস’ বিক্রির অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে বাঁ পায়ের জাদুতে গোল করে চমক দেখালেন জাইমা রহমান সন্ধ্যার মধ্যে ৯ দেশের জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু আর্জেন্টিনার, কেমন হতে পারে স্কালোনির একাদশ

প্রতিদিন কতটুকু আম, লিচু বা জাম খেতে পারবেন?

গ্রীষ্ম এলে ফলের বাজার এক চক্কর ঘুরে দেখতেও বেশ লাগে। পাকা আম, রসাল লিচু, টসটসে জাম…আহা! এই ফলগুলো যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। তবে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্রতিদিন কয় টুকরা আম, লিচু বা জাম খেতে পারবেন, তা বয়স, রোগব্যাধি ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন মাঝারি আকারের ১ থেকে ২টি আম, ৮ থেকে ১০টি লিচু অথবা ছোট এক বাটি (১০০-১৫০ গ্রাম) জাম খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের রোগীদের মিষ্টি ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আম, লিচু ও জামে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা খুব অল্প পরিমাণে এই ফলগুলো খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ডায়াবেটিসের রোগীরা ফল খাওয়ার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ফল খাওয়ার পরপরই কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় অন্যান্য খাবার কমিয়ে দেওয়া উচিত।
আম: প্রতিদিন ১ থেকে ২ টুকরা (৪০-৫০ গ্রাম) পর্যন্ত খাওয়া নিরাপদ, তবে খাবার শেষে বা সকালের দিকে খাওয়াই ভালো।
লিচু: মাঝারি আকারের ৩ থেকে ৪টি লিচু; বিশেষ করে ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সীমিত রাখা উচিত।
জাম: জাম তুলনামূলক কম চিনিযুক্ত এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। দিনে এক মুঠো (৮-১০টি) জাম খাওয়া যেতে পারে।
হৃদ্‌রোগ
হৃদ্‌রোগীদের জন্য এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী। কারণ, এগুলোয় অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে।
তবে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। সীমিত পরিমাণে (সুস্থ ব্যক্তির যতটা খাওয়া উচিত, তার চেয়ে পরিমাণে কিছুটা কম) গ্রহণ করা উচিত।

কিডনি রোগ
কিডনি রোগীদের পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। আম ও জামে মাঝারি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।
আম ও লিচু: দিনে ১ থেকে ২ টুকরাই যথেষ্ট; সঠিক সময় ও পরিমাণে খেতে হবে।
জাম: নিরাপদ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, দিনে ৮ থেকে ১০টি জাম খাওয়া যেতে পারে।
লিচুতে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পরিমাণে বেশি খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।

লিচুতে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ফলগুলো উপকারী হতে পারে; কারণ, এগুলোয় সোডিয়ামের পরিমাণ কম এবং পটাশিয়াম থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় দিনে ১ থেকে ২ টুকরা আম, ৩ থেকে ৫টি লিচু, এক মুঠো জাম নিরাপদ। তবে পরিমাণে অতিরিক্ত নয়।
কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আয়রন শোষণে সহায়ক জাম এবং আমের ভিটামিন সি উপকারী হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার আগে সব সময় ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত, যেন জীবাণুর সংক্রমণ না হয়।

আয়রন শোষণে সহায়ক জাম
ওজন নিয়ন্ত্রণ
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের মিষ্টি ফল সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
আম, লিচু ও জাম—গ্রীষ্মকালীন এই ফলগুলো আমাদের শরীরের জন্য উপকারী, তবে ‘পরিমাণমতো’ খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতা, বয়স ও দৈহিক অবস্থা অনুযায়ী প্রতিদিনের পরিমাণ ভিন্ন হবে। যেকোনো রোগীর জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন সঞ্জিত ১২ বছরে গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়

প্রতিদিন কতটুকু আম, লিচু বা জাম খেতে পারবেন?

আপডেট সময় ০৫:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

গ্রীষ্ম এলে ফলের বাজার এক চক্কর ঘুরে দেখতেও বেশ লাগে। পাকা আম, রসাল লিচু, টসটসে জাম…আহা! এই ফলগুলো যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। তবে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্রতিদিন কয় টুকরা আম, লিচু বা জাম খেতে পারবেন, তা বয়স, রোগব্যাধি ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন মাঝারি আকারের ১ থেকে ২টি আম, ৮ থেকে ১০টি লিচু অথবা ছোট এক বাটি (১০০-১৫০ গ্রাম) জাম খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের রোগীদের মিষ্টি ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আম, লিচু ও জামে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা খুব অল্প পরিমাণে এই ফলগুলো খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ডায়াবেটিসের রোগীরা ফল খাওয়ার আগে রক্তে শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করে নিতে পারেন। ফল খাওয়ার পরপরই কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় অন্যান্য খাবার কমিয়ে দেওয়া উচিত।
আম: প্রতিদিন ১ থেকে ২ টুকরা (৪০-৫০ গ্রাম) পর্যন্ত খাওয়া নিরাপদ, তবে খাবার শেষে বা সকালের দিকে খাওয়াই ভালো।
লিচু: মাঝারি আকারের ৩ থেকে ৪টি লিচু; বিশেষ করে ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সীমিত রাখা উচিত।
জাম: জাম তুলনামূলক কম চিনিযুক্ত এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। দিনে এক মুঠো (৮-১০টি) জাম খাওয়া যেতে পারে।
হৃদ্‌রোগ
হৃদ্‌রোগীদের জন্য এই ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী। কারণ, এগুলোয় অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে।
তবে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। সীমিত পরিমাণে (সুস্থ ব্যক্তির যতটা খাওয়া উচিত, তার চেয়ে পরিমাণে কিছুটা কম) গ্রহণ করা উচিত।

কিডনি রোগ
কিডনি রোগীদের পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। আম ও জামে মাঝারি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।
আম ও লিচু: দিনে ১ থেকে ২ টুকরাই যথেষ্ট; সঠিক সময় ও পরিমাণে খেতে হবে।
জাম: নিরাপদ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, দিনে ৮ থেকে ১০টি জাম খাওয়া যেতে পারে।
লিচুতে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পরিমাণে বেশি খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।

লিচুতে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ফলগুলো উপকারী হতে পারে; কারণ, এগুলোয় সোডিয়ামের পরিমাণ কম এবং পটাশিয়াম থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় দিনে ১ থেকে ২ টুকরা আম, ৩ থেকে ৫টি লিচু, এক মুঠো জাম নিরাপদ। তবে পরিমাণে অতিরিক্ত নয়।
কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আয়রন শোষণে সহায়ক জাম এবং আমের ভিটামিন সি উপকারী হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার আগে সব সময় ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত, যেন জীবাণুর সংক্রমণ না হয়।

আয়রন শোষণে সহায়ক জাম
ওজন নিয়ন্ত্রণ
যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের মিষ্টি ফল সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
আম, লিচু ও জাম—গ্রীষ্মকালীন এই ফলগুলো আমাদের শরীরের জন্য উপকারী, তবে ‘পরিমাণমতো’ খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতা, বয়স ও দৈহিক অবস্থা অনুযায়ী প্রতিদিনের পরিমাণ ভিন্ন হবে। যেকোনো রোগীর জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।