ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

নিষিদ্ধ হলেও মানছে না কেউ, প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ

নিষিদ্ধ হলেও মানছে না কেউ, শ্রীমঙ্গলে প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ
নজরদারি না থাকায় নিষিদ্ধ সত্ত্বেও শ্রীমঙ্গলের সব বাজারে পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে। ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। ব্যবহৃত ওইসব পলিথিনের আশ্রয়স্থল হচ্ছে ময়লার ভাগাড় ও জলাশয়। এসব পলিথিন শেষ পর্যন্ত মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। এছাড়া যত্রতত্র পলিথিন পুড়িয়ে ফেলার কারণেও পানি, বায়ু ও মাটি দূষিত হচ্ছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছের বাজারসহ সর্বত্রই নিষিদ্ধ ছোট, বড়, মাঝারি পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। এর মধ্যে রয়েছে হাতলসহ ও হাতল ছাড়া পলিথিন ব্যাগ। প্রকাশ্যেই আইন ভঙ্গ করে ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন। বিভিন্ন অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত ও বিপণিবিতাণগুলোতেও আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে পলিথিন ব্যবহার করে চলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার পলিথিন বিক্রি করা হচ্ছে। কোন কিছুতেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না এই নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার। আর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব অপচনশীল দ্রব্যে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে জনজীবন ও জীব বৈচিত্র্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের স্টেশন রোডের মেসার্স মর্ডাণ ভ্যারাইটিজ স্টোর, লোকনাথ ভ্যারাইটিজ স্টোর, সাদিয়া ভেরাইটিজ স্টোর, সোনার বাংলা রোডের পলাশ স্টোর, নতুন বাজার রোডের মেসার্স বিসমিল্লাহ স্টোর এবং হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার সড়কে মার্কেটের একাধিক দোকানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। এছাড়াও উপজেলার ভৈরববাজার, সাতগাঁও বাজার, সিন্দুরখান বাজার, লছনা, শাহজীবাজার, মির্জাপুর, শমসেরগঞ্জ, বৌলাশীরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে এসব মালামাল বিক্রি হচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, কাঁচা বাজার, মাছ বাজারসহ সকল হাট বাজারেই দেখা গেছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ এইচডিপিই (হাইয়ার ডেনসিটি পলি ইথালিন) পলিব্যাগ। যার ব্যবহার মানুষের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নীরব থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পলিব্যাগ উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। সেখান থেকে এনে শহর ও মফস্বলের ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে হাটেবাজারে পলিথিন বিক্রি করছেন। অপচনশীল এই পলিথিন যত্রতত্র ফেলার কারণে পানি মাটি ও বাতাস দূষিত হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগ-ব্যাধিতে। এছাড়াও নালা, নর্দমা, খালবিল যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে এতে পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়ে জলজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ নানা রোগজীবাণু ছড়াছে। পলিথিন হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছে না।

শ্রীমঙ্গলের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, পলিথিন যেমন নষ্ট করছে মাটির উর্বরতা তেমনি আমাদের পয়ঃনিস্কাসন ব্যবস্থাও নষ্ট হচ্ছে দিন দিন। পলিথিনের কারনে গাছ তার জীবনীশক্তি হারাচ্ছে, তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ এই পলিথিনের উৎপাদন বিপনণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রদর্শন মজুদ ও বিতরণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও কিভাবে দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি করছে, খোঁজ নিয়ে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহারের ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে সকল নাগরিকদের সচেতন থাকারও অনুরোধ করেছেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

নিষিদ্ধ হলেও মানছে না কেউ, প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ

আপডেট সময় ১০:৫২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

নিষিদ্ধ হলেও মানছে না কেউ, শ্রীমঙ্গলে প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ
নজরদারি না থাকায় নিষিদ্ধ সত্ত্বেও শ্রীমঙ্গলের সব বাজারে পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে। ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। ব্যবহৃত ওইসব পলিথিনের আশ্রয়স্থল হচ্ছে ময়লার ভাগাড় ও জলাশয়। এসব পলিথিন শেষ পর্যন্ত মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। এছাড়া যত্রতত্র পলিথিন পুড়িয়ে ফেলার কারণেও পানি, বায়ু ও মাটি দূষিত হচ্ছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছের বাজারসহ সর্বত্রই নিষিদ্ধ ছোট, বড়, মাঝারি পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। এর মধ্যে রয়েছে হাতলসহ ও হাতল ছাড়া পলিথিন ব্যাগ। প্রকাশ্যেই আইন ভঙ্গ করে ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন। বিভিন্ন অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত ও বিপণিবিতাণগুলোতেও আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে পলিথিন ব্যবহার করে চলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার পলিথিন বিক্রি করা হচ্ছে। কোন কিছুতেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না এই নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার। আর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব অপচনশীল দ্রব্যে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে জনজীবন ও জীব বৈচিত্র্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের স্টেশন রোডের মেসার্স মর্ডাণ ভ্যারাইটিজ স্টোর, লোকনাথ ভ্যারাইটিজ স্টোর, সাদিয়া ভেরাইটিজ স্টোর, সোনার বাংলা রোডের পলাশ স্টোর, নতুন বাজার রোডের মেসার্স বিসমিল্লাহ স্টোর এবং হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার সড়কে মার্কেটের একাধিক দোকানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। এছাড়াও উপজেলার ভৈরববাজার, সাতগাঁও বাজার, সিন্দুরখান বাজার, লছনা, শাহজীবাজার, মির্জাপুর, শমসেরগঞ্জ, বৌলাশীরসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে এসব মালামাল বিক্রি হচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, কাঁচা বাজার, মাছ বাজারসহ সকল হাট বাজারেই দেখা গেছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ এইচডিপিই (হাইয়ার ডেনসিটি পলি ইথালিন) পলিব্যাগ। যার ব্যবহার মানুষের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নীরব থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। দেশে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পলিব্যাগ উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। সেখান থেকে এনে শহর ও মফস্বলের ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে হাটেবাজারে পলিথিন বিক্রি করছেন। অপচনশীল এই পলিথিন যত্রতত্র ফেলার কারণে পানি মাটি ও বাতাস দূষিত হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগ-ব্যাধিতে। এছাড়াও নালা, নর্দমা, খালবিল যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে এতে পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়ে জলজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ নানা রোগজীবাণু ছড়াছে। পলিথিন হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছে না।

শ্রীমঙ্গলের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, পলিথিন যেমন নষ্ট করছে মাটির উর্বরতা তেমনি আমাদের পয়ঃনিস্কাসন ব্যবস্থাও নষ্ট হচ্ছে দিন দিন। পলিথিনের কারনে গাছ তার জীবনীশক্তি হারাচ্ছে, তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ এই পলিথিনের উৎপাদন বিপনণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রদর্শন মজুদ ও বিতরণ আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও কিভাবে দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি করছে, খোঁজ নিয়ে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহারের ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে সকল নাগরিকদের সচেতন থাকারও অনুরোধ করেছেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন।