ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হিসাবরক্ষক মাসুম রেজার প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এলেনবাড়ি গণপূর্তে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী ১৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন -ভিসি ড.এস.এম হেমায়েত জাহান যে কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সি পরতে বাধ্য হচ্ছে আর্জেন্টিনা চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ব্রুনাই শ্রমবাজারে হাইকমিশনার নওরিন আহসানকে ঘিরে বিতর্ক

নানা সমস্যায় জর্জরিত জাবির আইন ও বিচার বিভাগ

  • জাবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • ৭১৯ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকটে ধুকছে বিভাগটি। বিভাগের ১১ জন শিক্ষকের ৯ জনই রয়েছেন ছুটিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসসূত্রে জানা যায়,সহযোগী অধ্যাপক কে এম সাজ্জাদ মহসীন , তাপস কুমার দাস , সুপ্রভাত পাল , শায়লা আলম আশা ; সহকারী অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ , ফেরদৌস রহমান , বনশ্রী রানী ; প্রভাষক, তামান্না আজিজ তুলি , আ জ ম উমর ফারুক সিদ্দিকী , লিমা আক্তার ছুটিতে রয়েছেন। এতে করে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাইরে থেকে শিক্ষক আনতে হচ্ছে বিভাগকে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর নিয়ম অনুসারে কোন বিভাগের সবোর্চ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষক ছুটিতে থাকতে পারেন। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে ছুটিতে আছে জানতে চাইলে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন রবিউল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নিয়মই ঠিক মতো মানা হয়না। পূর্বের নজির আছে এমন ছুটি নেওয়ার। তাই ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে ধার করা একটিমাত্র কক্ষ রয়েছে আইন বিভাগের। নেই সেমিনার লাইব্রেরির পর্যাপ্ত সুবিধা ও আলাদা ডিন অফিস। এতে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
অনুষদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের আগস্টে বিভাগের কার্যক্রম চালু হলেও কক্ষ সংকট থাকায় জহির রায়হান মিলনায়তনের ওপর একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কক্ষটিকে দু’ভাগ করে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। ক্লাসরুমের অভাবে এক বর্ষের ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেমিনার লাইব্রেরির অভাবে আইনের গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বইগুলোও সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আইন বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্য নেই কোনো মিটিং কক্ষ।
এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডীন আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্লাস সংকট চরমে। আমাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হয়েছে, আমরা সেটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি।
এদিকে ৫ আগস্টের পর তৎকালীন ডিন তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে রেজাল্ট ম্যানুপুলেশনের অভিযোগ এনে পুনরায় মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি এখনো তদন্তধীন রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিসাবরক্ষক মাসুম রেজার প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ

নানা সমস্যায় জর্জরিত জাবির আইন ও বিচার বিভাগ

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকটে ধুকছে বিভাগটি। বিভাগের ১১ জন শিক্ষকের ৯ জনই রয়েছেন ছুটিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসসূত্রে জানা যায়,সহযোগী অধ্যাপক কে এম সাজ্জাদ মহসীন , তাপস কুমার দাস , সুপ্রভাত পাল , শায়লা আলম আশা ; সহকারী অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ , ফেরদৌস রহমান , বনশ্রী রানী ; প্রভাষক, তামান্না আজিজ তুলি , আ জ ম উমর ফারুক সিদ্দিকী , লিমা আক্তার ছুটিতে রয়েছেন। এতে করে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাইরে থেকে শিক্ষক আনতে হচ্ছে বিভাগকে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর নিয়ম অনুসারে কোন বিভাগের সবোর্চ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষক ছুটিতে থাকতে পারেন। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে ছুটিতে আছে জানতে চাইলে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন রবিউল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নিয়মই ঠিক মতো মানা হয়না। পূর্বের নজির আছে এমন ছুটি নেওয়ার। তাই ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে ধার করা একটিমাত্র কক্ষ রয়েছে আইন বিভাগের। নেই সেমিনার লাইব্রেরির পর্যাপ্ত সুবিধা ও আলাদা ডিন অফিস। এতে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
অনুষদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের আগস্টে বিভাগের কার্যক্রম চালু হলেও কক্ষ সংকট থাকায় জহির রায়হান মিলনায়তনের ওপর একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে কক্ষটিকে দু’ভাগ করে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। ক্লাসরুমের অভাবে এক বর্ষের ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেমিনার লাইব্রেরির অভাবে আইনের গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বইগুলোও সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আইন বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্য নেই কোনো মিটিং কক্ষ।
এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডীন আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্লাস সংকট চরমে। আমাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ভর্তি হয়েছে, আমরা সেটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি।
এদিকে ৫ আগস্টের পর তৎকালীন ডিন তাপস কুমার দাসের বিরুদ্ধে রেজাল্ট ম্যানুপুলেশনের অভিযোগ এনে পুনরায় মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি এখনো তদন্তধীন রয়েছে।