ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচবিবিতে আপন‌ চাচাকে পিটিয়ে হত্যা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার জয়হার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইদুল ইসলাম (৬০) নামে আপন চাচাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে ভাতিজা জয়নাল, আয়নাল ও আল আমিনের বিরুদ্ধে।

গতকাল ভোর রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘটনার পর আসামীরা বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছেন জয়নালসহ তার পরিবারের লোকজন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার জয়হার গ্রামের সাইদুল ইসলামের সঙ্গে তার আপন ভাই শহিদুল ইসলামের জয়হার গ্রামের ফসলের মাঠে ২৫ শতক জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে।
সেই ধারাবাহিকতায় গতপরশু সকালের দিকে শহিদুল ইসলামের ছেলে জয়নাল ও তার ভাইয়েরা মিলে বিবাদমান ওই ২৫ শতক জমিতে গিয়ে আইল দেয়।
পরে বিকেলে ওই জমিতে আইল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাইদুল ইসলাম তার ভাতিজাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে ভাতিজা জয়নাল ও তার ভাইয়েরা মিলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এসময় নিহত সাইদুলের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের চিৎকারে পরিবার লোকজন ও প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা বেগুম (৫৫) বলেন, বুধবার সকালের দিকে আমার ভাসুরের ছেলে জয়নাল, আয়নাল ও তার ছোট ভাই মিলে মাঠে আমাদের জমিতে গিয়ে আইল দিয়ে আসে। পরে তারা বাড়ীতে আসলে আমার স্বামী এনিয়ে ভাতিজা জয়নালের সঙ্গে কথা বলে যে, আমার জমিতে তোমরা কেন আইল দিয়ে এসেছো তোমরা তো জমি পাবেনা। তখন আমার ভাসুরের ছেলে জয়নাল, আয়নাল ও আল আমিন এসে আমার স্বামীকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করতে থাকে।
এসময় প্রতিবেশীরা ছু্টে এসে মারপিট করতে নিষেধ করলে তখন তারা চলে যায়।

নিহতের বড় মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, জমির আইল দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ভাইয়েরা প্রথমে দুপুরের দিকে বাড়ীতে ঢুকে প্রথমে চড়, থাপ্পড় মেরে চলে যায়।
এরপর বিকেলের দিকে পুনরায় তারা লাঠী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে আমার বাবা মাটিতে লুটে পড়ে যায়। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে তারা বাবার উপরে উঠে পা দিয়ে খু্ঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারে। তখন প্রতিবেশীরা আসলে তারা চলে যায়। পরে আমরা বাবাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেলে ভর্তি করি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচবিবিতে আপন‌ চাচাকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১১:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার জয়হার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাইদুল ইসলাম (৬০) নামে আপন চাচাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে ভাতিজা জয়নাল, আয়নাল ও আল আমিনের বিরুদ্ধে।

গতকাল ভোর রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘটনার পর আসামীরা বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছেন জয়নালসহ তার পরিবারের লোকজন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার জয়হার গ্রামের সাইদুল ইসলামের সঙ্গে তার আপন ভাই শহিদুল ইসলামের জয়হার গ্রামের ফসলের মাঠে ২৫ শতক জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে।
সেই ধারাবাহিকতায় গতপরশু সকালের দিকে শহিদুল ইসলামের ছেলে জয়নাল ও তার ভাইয়েরা মিলে বিবাদমান ওই ২৫ শতক জমিতে গিয়ে আইল দেয়।
পরে বিকেলে ওই জমিতে আইল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাইদুল ইসলাম তার ভাতিজাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে ভাতিজা জয়নাল ও তার ভাইয়েরা মিলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এসময় নিহত সাইদুলের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের চিৎকারে পরিবার লোকজন ও প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা বেগুম (৫৫) বলেন, বুধবার সকালের দিকে আমার ভাসুরের ছেলে জয়নাল, আয়নাল ও তার ছোট ভাই মিলে মাঠে আমাদের জমিতে গিয়ে আইল দিয়ে আসে। পরে তারা বাড়ীতে আসলে আমার স্বামী এনিয়ে ভাতিজা জয়নালের সঙ্গে কথা বলে যে, আমার জমিতে তোমরা কেন আইল দিয়ে এসেছো তোমরা তো জমি পাবেনা। তখন আমার ভাসুরের ছেলে জয়নাল, আয়নাল ও আল আমিন এসে আমার স্বামীকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করতে থাকে।
এসময় প্রতিবেশীরা ছু্টে এসে মারপিট করতে নিষেধ করলে তখন তারা চলে যায়।

নিহতের বড় মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, জমির আইল দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচা ভাইয়েরা প্রথমে দুপুরের দিকে বাড়ীতে ঢুকে প্রথমে চড়, থাপ্পড় মেরে চলে যায়।
এরপর বিকেলের দিকে পুনরায় তারা লাঠী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে আমার বাবা মাটিতে লুটে পড়ে যায়। তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে তারা বাবার উপরে উঠে পা দিয়ে খু্ঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারে। তখন প্রতিবেশীরা আসলে তারা চলে যায়। পরে আমরা বাবাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেলে ভর্তি করি।