পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জিয়াউর রহমান নামের এক অটো চালক গাড়ি এক্সিডেন্ট করে আহত হওয়ার ঘটনায় মিথ্যা মারামারির মামলা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অটো চালক জিয়াউর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘটিচোরা গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমান এর সাথে পাশ্ববর্তী টিকিকাটা ইউনিয়নের কবির হোসেনের মেয়ে সিমা আক্তারের সাথে চার বছর আগে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
পুত্র সন্তানটি গর্ভেধারন করার আগেই তার বাবার বাড়ি থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এনে ননদের জামাই নিজাম মল্লিক (মিজান) কে বিদেশ পাঠায়। এরপর থেকে সিমা অসুস্থ হলে জিয়াউর রহমান তাকে কোন ধরনের জিজ্ঞাসা করত না। এমনকি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার সময় সিজারের টাকা পয়সা না দিয়ে কোন প্রকার সহায়তা করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমতাবস্থায় সিমা বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে তাদের উপর নির্যাতন সহ একাধিক অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছে জিয়াউর রহমান।
এক পর্যায়ে সিমার পরিবার নিরুপায় হয়ে টাকার জন্য মঠবাড়িয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার পরিপেক্ষিতে জিয়াউর রহমান বেপরোয়া হয়ে সিমা আক্তার সহ তার পরিবারের লোকজনকে গায়েল করতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ সহ হুমকি দামকি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটায় এবং সম্প্রতি কবির হোসেনকে জামাই মারধর করেন। বিষয়টি নিয়ে কবির হোসেন মঠবাড়িয়া থানায় অভিযোগ করে কোন প্রকার বিচার পায়নি। এদিকে অটোচালক জিয়াউর রহমান ২৭ শে নভেম্বর মঠবাড়িয়া মমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কে অটো নিয়ে এক্সিডেন্টের কারনে ডান হাত ভেঙে যায় এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
কিন্তু অটো চালক পূর্ব বিরোধের রেশমিটাতে অটো গাড়ি এক্সিডেন্টকে সাজিয়ে মঠবাড়িয়া ডাকবাংলো সড়কে তিন রাস্তার মোড় বটতলা নামক স্থান দিয়ে সিমা আক্তারের ভাই রিয়াজ হাওলাদার তাকে মারধর করেছে বলে মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সিমা আক্তারের ভাই রিয়াজ হাওলাদার বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে রিয়াজ হাওলাদারের বাবা ভ্যান চালক কবির হোসেন অসহায়ত্বের জিবন পার করছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে রিয়াজ হাওলাদার একজন ছাত্র।
তিনি কোন অপরাধের সাথে জড়িত না। আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাচ্ছেন আমি উক্ত ঘটনার সঠিক বিচার চাই। বিষয়টি নিয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমি ইতিমধ্যে ঘটনাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি এবং মিথ্যা প্রমানিত হলে বাদী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
আঃ রহমান আল নোমান (মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর) 






















