ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

ছাত্রলীগ-কোটাবিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার শঙ্কা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় দেশের প্রত্যেক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ঢাবিসহ দেশের প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগ। স্বাভাবিক কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) সোমবার পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর থাকার পরও বহিরাগতরা কীভাবে হামলা করে? সরকার সহিংসভাবে এই আন্দোলনকে দমন করতে চাইছে। কোটা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্র সমাজের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’

অন্যদিকে সোমবার রাতেই নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে একই সময়ে প্রতিবাদ সমাবেশ পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠন।

সোমবারের হামলায় ছাত্রলীগের ৫০০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছে দাবি করে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিভিন্ন হলের অন্তত ১০০ টির বেশি রুম ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যারা কোটা আন্দোলনকে ইস্যু করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করা পর্যন্ত ছাত্রলীগ মাঠ ছাড়বে না।

সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চতুর্মুখী হামলায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। সোমবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। তারপরই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপরও ছাত্রলীগের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে আন্দোলনকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছে এবং হল থেকে বের করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে গতকাল সোমবারও কোটা আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। এরপর দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ঘোষিত কর্মসূচি শুরু করলে তাতে হামলার ঘটনা থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত তা সহিংসতায় রূপ নেয়। স্বাভাবিক কারণেই আজও উভয়পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

ছাত্রলীগ-কোটাবিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার শঙ্কা

আপডেট সময় ১২:১৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায় দেশের প্রত্যেক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ঢাবিসহ দেশের প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগ। স্বাভাবিক কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) সোমবার পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর থাকার পরও বহিরাগতরা কীভাবে হামলা করে? সরকার সহিংসভাবে এই আন্দোলনকে দমন করতে চাইছে। কোটা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্র সমাজের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’

অন্যদিকে সোমবার রাতেই নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে একই সময়ে প্রতিবাদ সমাবেশ পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠন।

সোমবারের হামলায় ছাত্রলীগের ৫০০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছে দাবি করে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিভিন্ন হলের অন্তত ১০০ টির বেশি রুম ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যারা কোটা আন্দোলনকে ইস্যু করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করা পর্যন্ত ছাত্রলীগ মাঠ ছাড়বে না।

সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চতুর্মুখী হামলায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। সোমবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। তারপরই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপরও ছাত্রলীগের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে আন্দোলনকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছে এবং হল থেকে বের করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে গতকাল সোমবারও কোটা আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। এরপর দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ঘোষিত কর্মসূচি শুরু করলে তাতে হামলার ঘটনা থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত তা সহিংসতায় রূপ নেয়। স্বাভাবিক কারণেই আজও উভয়পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।