ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গৃহায়ন প্রকল্পে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে হেমাইতপুর চরশিবরামপুরে বিএনপি কর্মীদেরকে জামাত-শিবিরের প্রাননাশের হুমকি জামায়াতের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা দেশব্যাপী স্পষ্ট হয়ে গেছে ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান : রাত পোহালেই ত্রয়োদশ সংসদ ভোট সবাইকে ভোট দেওয়া ও জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির রাজধানীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : জামায়াত কর্মীসহ ৫ জনের কারাদণ্ড ভোটের আগেই ‘লাল’ পাসপোর্ট সমর্পণ, উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণ আলেমদের নির্দেশনা পাবে রেকর্ড গড়ছে ‘ত্রয়োদশ’ : ইতিহাসের সর্বোচ্চ দল ও প্রতীকের লড়াই অসুস্থ রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান
বুয়েট ছাত্র ফারদিন খুন

মামলা হয়নি, সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে রহস্য

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধারের পর দুদিনেও মামলা হয়নি। রামপুরায় নাকি সিদ্ধিরগঞ্জে মামলা করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে ফারদিন কেন খুন হলেন, কারা তাকে খুন করল-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তার সর্বশেষ অবস্থান নিয়েও রহস্য দেখা দিয়েছে। ফারদিনের এক বান্ধবী ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নানা সূত্রে তদন্ত অব্যাহত আছে।

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো কিছু পাইনি।

আমরা চেষ্টা করছি রহস্য উদ্ঘাটনের। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত যুগান্তর থেকে ফোনে চেষ্টা করেও ফারদিনের বাবা নুরউদ্দিন রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মামলা নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা চলছে। যে থানায় মামলা করলে তদন্তে সুবিধা হবে সেই থানাতেই মামলা করব।

ফারদিনের চাচা মহিউদ্দিন বাদল রাতে যুগান্তরকে বলেন, নুরউদ্দিন রানা অন্য স্বজনদের নিয়ে সকাল ৯টায় বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাসায় ফেরেননি। কোন থানায় মামলা করবেন, সেই ব্যাপারে বোঝাপড়া করছেন।

ফারদিনের পরিবারের দাবি, ফারদিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন সব সময়। অংশ নিতেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে।

আগ্রহ ছিল গবেষণায়। যুক্ত ছিলেন ডিবেটিং ক্লাবেও। অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হিসাবে টিউশনি করতে হতো তাকে। খুন হওয়ার মতো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাহলে কারা খুন করল এ প্রশ্নের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। র‌্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মতো করে তদন্তে নেমেছে।

রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, থানায় ফারদিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা দিতে আসেননি। তিনি বলেন, আমরা ফারদিনের বান্ধবী বুশরা ও বন্ধু শীর্ষ সংশপ্তককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে বুশরা জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বর বিকাল ৫টার দিকে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের সাক্ষাৎ হয় সিটি কলেজ এলাকায়।

এরপর তারা রিকশায় ইয়ামচা নামে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। সেখান থেকে রিকশায় তারা নীলক্ষেতে যান। একটা বই কেনেন। এরপর রিকশায় টিএসসিতে যান। সেখানে তারা আইসক্রিম খান। এরপর রাত ১০টার দিতে বুশরাকে ফারদিন রামপুরার কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে দেন।

ওসি আরও বলেন, আমরা জনসন রোড এবং কেরানীগঞ্জে তার সর্বশেষ অবস্থান পেয়েছি। তিনি কেন কেরানীগঞ্জ গেলেন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি বলেন, ফারদিনের বন্ধু শীর্ষ সংশপ্তকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, ডিবেটিংয়ের বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে ফারদিনের। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য দেননি। তারা দুজন পুলিশ হেফাজতে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমাদের হেফাজতে নেই। তবে অন্য কোনো সংস্থার কাছে আছে কিনা তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

পুলিশ বলছে, রাজধানীর রামপুরা বা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ যে কোনো থানাতেই মামলা করার সুযোগ রয়েছে। পরিবার যে থানায় চায়, সেই থানায়ই মামলা করতে পারবে। বুধবার রাত ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ফারদিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি।

৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্বেগ : ফারদিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান বুধবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিন্ন মত দমন, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে যতটা তৎপর, দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের ভূমিকা ততই শ্লথ।

একজন শিক্ষার্থী ৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার হদিস পাওয়া গেল না, পরে তার লাশ উদ্ধার করতে হলো। অথচ আমাদের বাহিনীগুলোর রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মানুষের জীবন বাঁচাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা এই ব্যর্থতার নিন্দা জানাই।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গৃহায়ন প্রকল্পে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে

বুয়েট ছাত্র ফারদিন খুন

মামলা হয়নি, সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে রহস্য

আপডেট সময় ১০:১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধারের পর দুদিনেও মামলা হয়নি। রামপুরায় নাকি সিদ্ধিরগঞ্জে মামলা করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে ফারদিন কেন খুন হলেন, কারা তাকে খুন করল-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তার সর্বশেষ অবস্থান নিয়েও রহস্য দেখা দিয়েছে। ফারদিনের এক বান্ধবী ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নানা সূত্রে তদন্ত অব্যাহত আছে।

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো কিছু পাইনি।

আমরা চেষ্টা করছি রহস্য উদ্ঘাটনের। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত যুগান্তর থেকে ফোনে চেষ্টা করেও ফারদিনের বাবা নুরউদ্দিন রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মামলা নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা চলছে। যে থানায় মামলা করলে তদন্তে সুবিধা হবে সেই থানাতেই মামলা করব।

ফারদিনের চাচা মহিউদ্দিন বাদল রাতে যুগান্তরকে বলেন, নুরউদ্দিন রানা অন্য স্বজনদের নিয়ে সকাল ৯টায় বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাসায় ফেরেননি। কোন থানায় মামলা করবেন, সেই ব্যাপারে বোঝাপড়া করছেন।

ফারদিনের পরিবারের দাবি, ফারদিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন সব সময়। অংশ নিতেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে।

আগ্রহ ছিল গবেষণায়। যুক্ত ছিলেন ডিবেটিং ক্লাবেও। অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হিসাবে টিউশনি করতে হতো তাকে। খুন হওয়ার মতো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাহলে কারা খুন করল এ প্রশ্নের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। র‌্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মতো করে তদন্তে নেমেছে।

রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, থানায় ফারদিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা দিতে আসেননি। তিনি বলেন, আমরা ফারদিনের বান্ধবী বুশরা ও বন্ধু শীর্ষ সংশপ্তককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে বুশরা জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বর বিকাল ৫টার দিকে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের সাক্ষাৎ হয় সিটি কলেজ এলাকায়।

এরপর তারা রিকশায় ইয়ামচা নামে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। সেখান থেকে রিকশায় তারা নীলক্ষেতে যান। একটা বই কেনেন। এরপর রিকশায় টিএসসিতে যান। সেখানে তারা আইসক্রিম খান। এরপর রাত ১০টার দিতে বুশরাকে ফারদিন রামপুরার কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে দেন।

ওসি আরও বলেন, আমরা জনসন রোড এবং কেরানীগঞ্জে তার সর্বশেষ অবস্থান পেয়েছি। তিনি কেন কেরানীগঞ্জ গেলেন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি বলেন, ফারদিনের বন্ধু শীর্ষ সংশপ্তকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, ডিবেটিংয়ের বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে ফারদিনের। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য দেননি। তারা দুজন পুলিশ হেফাজতে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমাদের হেফাজতে নেই। তবে অন্য কোনো সংস্থার কাছে আছে কিনা তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

পুলিশ বলছে, রাজধানীর রামপুরা বা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ যে কোনো থানাতেই মামলা করার সুযোগ রয়েছে। পরিবার যে থানায় চায়, সেই থানায়ই মামলা করতে পারবে। বুধবার রাত ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ফারদিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি।

৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্বেগ : ফারদিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান বুধবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিন্ন মত দমন, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে যতটা তৎপর, দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের ভূমিকা ততই শ্লথ।

একজন শিক্ষার্থী ৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার হদিস পাওয়া গেল না, পরে তার লাশ উদ্ধার করতে হলো। অথচ আমাদের বাহিনীগুলোর রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মানুষের জীবন বাঁচাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে না। আমরা এই ব্যর্থতার নিন্দা জানাই।