ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে বদলি, যোগ না দিলে স্ট্যান্ড রিলিজ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের ময়মনসিংহে সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সৌদি থেকে দেড় কেজি সোনার চুড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আটক নোয়াখালীর শরীফ পাটগ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৪ আসামি কুমিল্লা মাউশি পরিচালকের বিরুদ্ধে একের পর এক পাহাড়সম অভিযোগ বাঙ্গরায় মামাকে হত্যার অভিযোগ ভাগ্নের বিরুদ্ধে খুলনায় বাড়ির মালিকের লাঠির আঘাতে ভাড়াটিয়া নিহত গার্মেন্টসের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের উদ্যোগ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে দায়িত্বে থাকছেন যারা
ঘুষের নতুন নাম ‘অনারিয়াম’

কুমিল্লা মাউশি পরিচালকের বিরুদ্ধে একের পর এক পাহাড়সম অভিযোগ

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে ‘অনারিয়াম’ নামে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৯৩টি স্কুল-কলেজ ও কলেজ রয়েছে। সাড়ে তিন মাস আগে পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়া শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ের বাইরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং অফিসের ভেতরে গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর পরিচালক শহিদ উল্লা মজুমদারের নেতৃত্বে উপপরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিন লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পর ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ দাবি করা হয়। ‘আ’ আদ্যক্ষরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হলে প্রধান তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দেন। ‘ন’ ও ‘ব’ আদ্যক্ষরের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ১০ হাজার টাকা করে দেন। বরুড়া উপজেলায় পরিদর্শনের আগেও ফোন করে ১০ হাজার টাকা করে প্রস্তুত রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম থাকলে দাবির পরিমাণ আরও বাড়ত বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর ভাষ্য, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারজন কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় বের হন। এ সময় সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিন অধ্যক্ষের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য প্রতিষ্ঠানও ৩২ হাজার টাকা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা দেওয়া হয়নি বলে জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের তদন্ত বা কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই পরিচালক প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে টাকা চাওয়া হয়। চাকরি রক্ষার তাগিদে তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

তাঁদের আরও অভিযোগ, শহিদ উল্লা মজুমদার ২০০৭ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে উপসচিব (অ্যাকাডেমিক) পদে কর্মরত থাকার সময়ও নানা অনিয়মে জড়িয়েছিলেন। মাউশিতে যোগ দিতে ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলেও তিনি বলে বেড়ান বলে দাবি করেন তাঁরা।

এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা গবেষণা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায়ের অভিযোগ করেছেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, তিনি কোনো ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সত্য নয়। পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে বদলি, যোগ না দিলে স্ট্যান্ড রিলিজ

ঘুষের নতুন নাম ‘অনারিয়াম’

কুমিল্লা মাউশি পরিচালকের বিরুদ্ধে একের পর এক পাহাড়সম অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে ‘অনারিয়াম’ নামে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৯৩টি স্কুল-কলেজ ও কলেজ রয়েছে। সাড়ে তিন মাস আগে পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়া শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ের বাইরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং অফিসের ভেতরে গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর পরিচালক শহিদ উল্লা মজুমদারের নেতৃত্বে উপপরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিন লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পর ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ দাবি করা হয়। ‘আ’ আদ্যক্ষরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হলে প্রধান তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দেন। ‘ন’ ও ‘ব’ আদ্যক্ষরের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ১০ হাজার টাকা করে দেন। বরুড়া উপজেলায় পরিদর্শনের আগেও ফোন করে ১০ হাজার টাকা করে প্রস্তুত রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম থাকলে দাবির পরিমাণ আরও বাড়ত বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর ভাষ্য, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারজন কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় বের হন। এ সময় সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিন অধ্যক্ষের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য প্রতিষ্ঠানও ৩২ হাজার টাকা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা দেওয়া হয়নি বলে জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের তদন্ত বা কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই পরিচালক প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে টাকা চাওয়া হয়। চাকরি রক্ষার তাগিদে তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

তাঁদের আরও অভিযোগ, শহিদ উল্লা মজুমদার ২০০৭ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে উপসচিব (অ্যাকাডেমিক) পদে কর্মরত থাকার সময়ও নানা অনিয়মে জড়িয়েছিলেন। মাউশিতে যোগ দিতে ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলেও তিনি বলে বেড়ান বলে দাবি করেন তাঁরা।

এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা গবেষণা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায়ের অভিযোগ করেছেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, তিনি কোনো ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সত্য নয়। পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।