ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পীরগঞ্জে করতোয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, লাখ টাকা জরিমানা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিস্তর অভিযোগ রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত সিদ্ধান্ত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘মামলা না তুললে লাশ ফেলে দেব’, এজেআর কুরিয়ারের মামলার বাদীকে হুমকি রাজশাহীতে রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, সংবাদকর্মীর স্ত্রী টুম্পাসহ আহত ৩ কালু-আকবর গংদের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ গোপালগঞ্জে সরকারি স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বাবার বাড়ি থেকে নাশতা কম আনায় মারধরের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু এমপির বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, সাংবাদিককে বললেন ‘ভাইরাল করে দেন’ মিথ্যাচার করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় ওসির বাকবিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে৷

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওইদিনের ঘটনাটা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ না৷ আমরা যে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই জিডি করে রাখি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করেননি। নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেও য়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন৷

এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।

এ সময় ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া পাল্টা বলেন, আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন। রুমিন ফারহানা এর উত্তরে বলেন, সে (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।

রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। ওনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে পুলিশের একটা টিম রাখা ওইসময় কঠিন ছিল।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ওনি (ওসি) বলেন যে ওনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। আর ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার থেকে পয়সা নেয়া, ইটের ভাটার পয়সা নেয়াসহ বিস্তর অভিযোগ। এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ৷ দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে করতোয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, লাখ টাকা জরিমানা

রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় ওসির বাকবিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাকবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে৷

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওইদিনের ঘটনাটা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ না৷ আমরা যে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই জিডি করে রাখি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করেননি। নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেও য়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন৷

এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।

এ সময় ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া পাল্টা বলেন, আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন। রুমিন ফারহানা এর উত্তরে বলেন, সে (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।

রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। ওনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে পুলিশের একটা টিম রাখা ওইসময় কঠিন ছিল।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ওনি (ওসি) বলেন যে ওনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। আর ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার থেকে পয়সা নেয়া, ইটের ভাটার পয়সা নেয়াসহ বিস্তর অভিযোগ। এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ৷ দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।