ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্রীড়া সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিতে প্রস্তুত, আত্মরক্ষায়ও পিছপা নয় ইরান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে: সাদিক কায়েম ধর্মের শিক্ষা প্রতিফলিত হোক মানুষের কর্মে: ডিসি জাহিদ ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী আইসিটি খাতের উন্নয়নে জাতীয়তাবাদী ফোরামের নতুন কমিটি ফাইনালে ভারতের কাছে গোলের ব্যবধান কমাতে চায় বাংলাদেশ মেহেরপুরের গাংনীর করমদি গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১ জনের মৃত্যু ঢাকা-দাম্মাম-জেদ্দা-রিয়াদ রুটে বিমানের নতুন সূচি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আওয়ামী লীগ নেতা নিখিল কুমার নাথ, উঠছে প্রশ্ন

সুরা লাইলের শিক্ষা: দান, তাকওয়া ও সৎপথের গুরুত্ব

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২১ বার পড়া হয়েছে

মানুষের জীবনযাপন, উপার্জন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন একেক রকম। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয় করেন এবং সৎপথ অনুসরণ করেন। আবার কেউ কৃপণতা করেন, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করেন এবং সত্যকে অস্বীকার করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা লাইল মানুষের এই দুই বিপরীত জীবনধারা তুলে ধরে সাফল্য ও ব্যর্থতার পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছে।

সুরা লাইল পবিত্র কোরআনের ৯২তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় ২১টি আয়াত রয়েছে। রাত ও দিনের শপথের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সুরায় বলা হয়েছে, মানুষের চেষ্টা ও কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন।

সুরাটির ৫ থেকে ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করে, তার জন্য আল্লাহ সহজ পথ সুগম করে দেবেন।

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, দান শুধু সম্পদ ব্যয়ের বিষয় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে দানের সঙ্গে আল্লাহভীতি ও আন্তরিকতাও জরুরি।

৮ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে কৃপণতা করে, নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে। তার জন্য কঠিন পথ সহজ করে দেওয়া হবে। আর তার সম্পদ ধ্বংসের সময় কোনো কাজে আসবে না।

এই শিক্ষা বর্তমান সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ-সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক পরিচিতি মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় না করে শুধু জমিয়ে রাখলে তা প্রকৃত সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না।

সুরাটির শেষাংশে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয়কারী ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়েছে। ১৮ থেকে ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ দান করে, তার ওপর কারও এমন কোনো প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না, যার প্রতিদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে দান করে। বরং সে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে।

সুরা লাইলে মূল শিক্ষা হলো, মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার ঈমান, নিয়ত ও কাজের ওপর। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎপথ বেছে নেওয়া, কৃপণতা ও অহংকার পরিহার করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়া সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

সুরা লাইলের শিক্ষা: দান, তাকওয়া ও সৎপথের গুরুত্ব

আপডেট সময় ০৬:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের জীবনযাপন, উপার্জন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন একেক রকম। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয় করেন এবং সৎপথ অনুসরণ করেন। আবার কেউ কৃপণতা করেন, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করেন এবং সত্যকে অস্বীকার করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা লাইল মানুষের এই দুই বিপরীত জীবনধারা তুলে ধরে সাফল্য ও ব্যর্থতার পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছে।

সুরা লাইল পবিত্র কোরআনের ৯২তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সুরায় ২১টি আয়াত রয়েছে। রাত ও দিনের শপথের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সুরায় বলা হয়েছে, মানুষের চেষ্টা ও কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন।

সুরাটির ৫ থেকে ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করে, তার জন্য আল্লাহ সহজ পথ সুগম করে দেবেন।

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, দান শুধু সম্পদ ব্যয়ের বিষয় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে দানের সঙ্গে আল্লাহভীতি ও আন্তরিকতাও জরুরি।

৮ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে কৃপণতা করে, নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে। তার জন্য কঠিন পথ সহজ করে দেওয়া হবে। আর তার সম্পদ ধ্বংসের সময় কোনো কাজে আসবে না।

এই শিক্ষা বর্তমান সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ-সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক পরিচিতি মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় না করে শুধু জমিয়ে রাখলে তা প্রকৃত সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না।

সুরাটির শেষাংশে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয়কারী ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়েছে। ১৮ থেকে ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ দান করে, তার ওপর কারও এমন কোনো প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না, যার প্রতিদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে দান করে। বরং সে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে।

সুরা লাইলে মূল শিক্ষা হলো, মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার ঈমান, নিয়ত ও কাজের ওপর। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎপথ বেছে নেওয়া, কৃপণতা ও অহংকার পরিহার করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য।