ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন বোরহানউদ্দিনে মাদকের আস্তানায় পুলিশের হানা, ৮৫ গ্রাম গাঁজা-মোবাইলসহ ধরা খেলো নাছির! সোহাগের রহস্যজনক মৃত্যু: তালেবের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন? মাদক-জুয়া থেকে কথিত অর্থ লেনদেন, মুগদা ফাঁড়ি ঘিরে গুরুতর অভিযোগ বাসাইলের বাসুলিয়ায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী পথচারীর মৃত্যু ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর প্রশাসন বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান চড়া দামে মাছ-মুরগি-ডিম, বাড়তি দামেও তেলের সংকট ইতালির বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল মমি করা কুমিরের মাথা

নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

ইসলামে সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন সরাসরি নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাক্বারা: ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহতাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা: ০৩)
নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ
বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে যা করতে হবে
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।’ অর্থাৎ, নামাজ ছাড়া ধর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে না। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪২৮)

নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ
একই সুরা দুই রাকাতে পড়লে নামাজে কোনো সমস্যা হবে কি?
আরেক হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ তার মাঝের গোনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। (মুসলিম: ২৩১)

তবে, প্রতিদিন নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের অজান্তেই আমরা অনেক ভুল করে থাকি। যে কারণে আমাদের নামাজ বিশুদ্ধ হয় না। আর শরিয়তের ভাষায়, যার নামাজ শুদ্ধ হলো না, তার কিছুই হলো না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একজন সাহাবি মসজিদে এসে নামাজ আদায় করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের এক কোনায় অবস্থান করছিলেন। সাহাবি এসে তাকে সালাম দিলেন। নবীজি (সা.) তাকে বললেন, যাও তুমি আবার নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। সাহাবি ফিরে গেলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর নবীজিকে (সা.) সালাম করলেন। তিনি বললেন, তোমার প্রতিও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। তৃতীয়বার সাহাবি বললেন, আমাকে অবগত করুন। নবীজি (সা.) বললেন, যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তার আগে ভালোভাবে অজু করবে।

অতঃপর কেবলার দিকে ফিরবে এবং তাকবির দেবে। কোরআনের যতটুকু তোমার কাছে সহজ মনে হয় তা পাঠ করবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে এবং রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে ধীরস্থিরভাবে সোজা হয়ে বসবে। আবার ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর পুরো নামাজ এভাবে আদায় করবে।’ (বোখারি: ৬৬৬৭)

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, উল্লিখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, নামাজে শুধু ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করাই যথেষ্ট নয়। বরং মনোযোগ, একনিষ্ঠতা ও ধীরস্থিরতা সব কিছুই প্রয়োজন। ফলে অমনোযোগিতা ও নিষ্ঠার অভাবে কখনো নিজের অজান্তেই মুসল্লিরা নামাজে ভুল করে বসে। নিম্নে এমন কিছু ভুল তুলে ধরা হলো:

১. নামাজে তাড়াহুড়া করা
মাওলানা কয়েছ আহমদ বলেন, নামাজের ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কেননা নবীজি (সা.) নামাজের বিধানগুলো ধীরস্থিরভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজের ধীরস্থিরতা অবলম্বনের উপায় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির করা। যেমন সিজদায় গেলে সিজদায় ব্যবহৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো স্থির রাখা।

২. মনে মনে কেরাত পড়া
কেরাত পাঠ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ঠোঁট ও জিহ্বার ব্যবহার আবশ্যক। জিহ্বা ও ঠোঁট না নাড়িয়ে সম্পূর্ণ মনে মনে কিরাত পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয় না। কেননা নামাজে কোরআন তিলাওয়াত বা পাঠ করতে বলা হয়েছে। আর তা মুখে উচ্চারণ না করলে প্রমাণিত হয় না। তাকে চিন্তা-ভাবনা বলা হয়, পাঠ বলা হয় না।

৩. সিজদার অঙ্গগুলো মাটিতে স্পর্শ না করা
সিজদার সময় অনেকে নাক ও পায়ের আঙুলগুলো ভূমিতে লাগল কি না তা খেয়াল করেন না। অথচ হাদিসের ভাষ্য মতে সিজদার সময় সাতটি অঙ্গ ব্যবহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করতে বলা হয়েছে। তা হলো, কপালের ওপর। এসময় রাসুল (সা.) তাঁর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন নাক, দুই হাত, দুই টাকনু ও দুই পায়ের আঙুলের দিকে। ’(বোখারি: ৮১২)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘কেউ যদি সাত অঙ্গের কোনো অঙ্গ সিজদার সময় ব্যবহার না করে, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না।’ (শরহুল মুসলিম)

হানাফি মাজহাব অনুসারে কেউ যদি তিন তাসবিহের চেয়ে বেশি সময় ইচ্ছা করে কোনো একটি অঙ্গ যদি মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে, তবে তার নামাজ হবে না।

৪. তাকবির না বলেই রুকুতে চলে যাওয়া
ইমামকে রুকু অবস্থায় দেখলে রাকাত ধরার জন্য বহু মানুষ একটি তাকবির দিয়েই রুকুতে চলে যান। অথচ তার জন্য তাহরিমার তাকবির ছাড়াও রুকুতে যাওয়ার জন্য আরো একটি তাকবির পাঠ করা আবশ্যক ছিল। আবার অনেকে রুকুতে যেতে যেতে তাকবিরে তাহরিমা পাঠ করেন। অথচ বিশেষ অপারগতা ছাড়া তাকবিরে তাহরিমা দাঁড়িয়ে পাঠ করা আবশ্যক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ

আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন সরাসরি নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাক্বারা: ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহতাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা: ০৩)
নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ
বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে যা করতে হবে
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।’ অর্থাৎ, নামাজ ছাড়া ধর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে না। (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪২৮)

নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৪ ভুল করেন অধিকাংশ মানুষ
একই সুরা দুই রাকাতে পড়লে নামাজে কোনো সমস্যা হবে কি?
আরেক হাদিসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ তার মাঝের গোনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। (মুসলিম: ২৩১)

তবে, প্রতিদিন নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের অজান্তেই আমরা অনেক ভুল করে থাকি। যে কারণে আমাদের নামাজ বিশুদ্ধ হয় না। আর শরিয়তের ভাষায়, যার নামাজ শুদ্ধ হলো না, তার কিছুই হলো না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একজন সাহাবি মসজিদে এসে নামাজ আদায় করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের এক কোনায় অবস্থান করছিলেন। সাহাবি এসে তাকে সালাম দিলেন। নবীজি (সা.) তাকে বললেন, যাও তুমি আবার নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। সাহাবি ফিরে গেলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর নবীজিকে (সা.) সালাম করলেন। তিনি বললেন, তোমার প্রতিও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং নামাজ আদায় করো। কেননা তুমি (যথাযথভাবে) নামাজ আদায় করোনি। তৃতীয়বার সাহাবি বললেন, আমাকে অবগত করুন। নবীজি (সা.) বললেন, যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে তার আগে ভালোভাবে অজু করবে।

অতঃপর কেবলার দিকে ফিরবে এবং তাকবির দেবে। কোরআনের যতটুকু তোমার কাছে সহজ মনে হয় তা পাঠ করবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে এবং রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে ধীরস্থিরভাবে সোজা হয়ে বসবে। আবার ধীরস্থিরভাবে সিজদা করবে এবং সিজদা থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর পুরো নামাজ এভাবে আদায় করবে।’ (বোখারি: ৬৬৬৭)

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, উল্লিখিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, নামাজে শুধু ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করাই যথেষ্ট নয়। বরং মনোযোগ, একনিষ্ঠতা ও ধীরস্থিরতা সব কিছুই প্রয়োজন। ফলে অমনোযোগিতা ও নিষ্ঠার অভাবে কখনো নিজের অজান্তেই মুসল্লিরা নামাজে ভুল করে বসে। নিম্নে এমন কিছু ভুল তুলে ধরা হলো:

১. নামাজে তাড়াহুড়া করা
মাওলানা কয়েছ আহমদ বলেন, নামাজের ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কেননা নবীজি (সা.) নামাজের বিধানগুলো ধীরস্থিরভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজের ধীরস্থিরতা অবলম্বনের উপায় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির করা। যেমন সিজদায় গেলে সিজদায় ব্যবহৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো স্থির রাখা।

২. মনে মনে কেরাত পড়া
কেরাত পাঠ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ঠোঁট ও জিহ্বার ব্যবহার আবশ্যক। জিহ্বা ও ঠোঁট না নাড়িয়ে সম্পূর্ণ মনে মনে কিরাত পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয় না। কেননা নামাজে কোরআন তিলাওয়াত বা পাঠ করতে বলা হয়েছে। আর তা মুখে উচ্চারণ না করলে প্রমাণিত হয় না। তাকে চিন্তা-ভাবনা বলা হয়, পাঠ বলা হয় না।

৩. সিজদার অঙ্গগুলো মাটিতে স্পর্শ না করা
সিজদার সময় অনেকে নাক ও পায়ের আঙুলগুলো ভূমিতে লাগল কি না তা খেয়াল করেন না। অথচ হাদিসের ভাষ্য মতে সিজদার সময় সাতটি অঙ্গ ব্যবহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করতে বলা হয়েছে। তা হলো, কপালের ওপর। এসময় রাসুল (সা.) তাঁর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন নাক, দুই হাত, দুই টাকনু ও দুই পায়ের আঙুলের দিকে। ’(বোখারি: ৮১২)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘কেউ যদি সাত অঙ্গের কোনো অঙ্গ সিজদার সময় ব্যবহার না করে, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না।’ (শরহুল মুসলিম)

হানাফি মাজহাব অনুসারে কেউ যদি তিন তাসবিহের চেয়ে বেশি সময় ইচ্ছা করে কোনো একটি অঙ্গ যদি মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে, তবে তার নামাজ হবে না।

৪. তাকবির না বলেই রুকুতে চলে যাওয়া
ইমামকে রুকু অবস্থায় দেখলে রাকাত ধরার জন্য বহু মানুষ একটি তাকবির দিয়েই রুকুতে চলে যান। অথচ তার জন্য তাহরিমার তাকবির ছাড়াও রুকুতে যাওয়ার জন্য আরো একটি তাকবির পাঠ করা আবশ্যক ছিল। আবার অনেকে রুকুতে যেতে যেতে তাকবিরে তাহরিমা পাঠ করেন। অথচ বিশেষ অপারগতা ছাড়া তাকবিরে তাহরিমা দাঁড়িয়ে পাঠ করা আবশ্যক।