ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি শোধনে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ কারওয়ান বাজার ও কৃষি মার্কেটে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ২০৪ লিটার সয়াবিন তেল বিনষ্ট পূজার ছুটিতে মেট্রোরেলের ট্রেনের ব্যবধান ১০–২০ মিনিট ঝামেলা নিয়েই জীবন কাটবে, মেনে নিয়েছি’: পরীমনি জামায়াত আমিরের বক্তব্য শুনে মানুষ হাসি-তামাশা করছে: রাশেদ খান নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির সাক্ষাৎকার শুরু এসএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল সৈয়দ আল মাহিদ সিদ্দিক তাজ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী ঔষধ প্রশাসনের ‘আলাদিনের প্রদীপ’ সৈকত কুমার কর: জিম্মি দেশের ওষুধ খাত কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো, আড়তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত অভিযোগ: দুদকে অভিযোগ

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এই নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। নোটিশে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে স্থগিত বা থমকে যাওয়া দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করা হলেও পরবর্তীতে তা কোন পর্যায়ে রয়েছে বা কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, পূর্বের সেই অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যত কোনো আলো দেখেনি। ফলে জনস্বার্থে পুরাতন অভিযোগটি পুনরায় সচল করে বিস্তারিত তদন্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন, অনুমোদন ও নবায়ন সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে নোটিশে। এতে উল্লেখ করা হয়, সরেজমিন পরিদর্শন না করেই কয়েকটি ওষুধ ফ্যাক্টরিকে উৎপাদনের অনুমোদন প্রদান এবং পুরনো ফ্যাক্টরির নবায়নের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ ধরনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঔষধ প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সংস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যেও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটির প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

যেহেতু ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ওষুধ সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রশাসনিক শৃঙ্কলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্নের আহ্বান জানান, যাতে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ড. মো. আকতার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নোটিশের ভিত্তিতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যতীত এসব অভিযোগকে এখনো প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেক্সটাইলের বর্জ্য পানি শোধনে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ

ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক আকতারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত অভিযোগ: দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এই নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। নোটিশে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে স্থগিত বা থমকে যাওয়া দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করা হলেও পরবর্তীতে তা কোন পর্যায়ে রয়েছে বা কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, পূর্বের সেই অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যত কোনো আলো দেখেনি। ফলে জনস্বার্থে পুরাতন অভিযোগটি পুনরায় সচল করে বিস্তারিত তদন্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন, অনুমোদন ও নবায়ন সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তে ড. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে নোটিশে। এতে উল্লেখ করা হয়, সরেজমিন পরিদর্শন না করেই কয়েকটি ওষুধ ফ্যাক্টরিকে উৎপাদনের অনুমোদন প্রদান এবং পুরনো ফ্যাক্টরির নবায়নের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

ওষুধ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ ধরনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঔষধ প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সংস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যেও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাটির প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

যেহেতু ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ওষুধ সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রশাসনিক শৃঙ্কলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্নের আহ্বান জানান, যাতে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ড. মো. আকতার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নোটিশের ভিত্তিতে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যতীত এসব অভিযোগকে এখনো প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।