ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার’: শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকটের কারণ জানাতে তাড়াইল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ একাধিক অভিযোগ, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার, তবুও বিমানে বহাল জহিরুল ইসলাম পিএসজি ও রিয়ালের বিপক্ষে প্রস্তুত বার্সেলোনা: ওলমো দেবী দুর্গার সাজে নজর কাড়লেন পরীমনি ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ প্রণালি: আরাঘচি জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা’: হাসনাত গোলখরা কাটিয়ে দিয়াজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক সাভার ডিবির এসআই মতিউর ও এএসআই মেহেদীর বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ বেতাগীতে ‘জুলাই স্মৃতি পৌর পাঠাগার’ উদ্বোধন করলেন চিফ হুইপ
আটকের পর অর্থের বিনিময়ে মুক্তি

সাভার ডিবির এসআই মতিউর ও এএসআই মেহেদীর বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি অভিযানিক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান। গত দুই মাসে মাদক কারবারিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন বিবরণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে প্রকাশের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদটি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কেন সংবাদটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংবাদটি সরিয়ে ফেলার কারণ এবং এতে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

টাকা দিলেই মাদক কারবারিদের মুক্তি?

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের পরও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এর মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা ও পুলিশের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই মাসে ডিবির একটি অভিযানিক দলের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরও মামলায় অল্প পরিমাণ মাদক দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

নিশ্চিন্তপুরে নারীকে আটকের পর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগের একটি ঘটনা আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার। সেখানে এক নারী মাদক কারবারিকে আটকের পর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদীর বিরুদ্ধে।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিশ্চিন্তপুরের বুড়িপাড়া এলাকায় একটি ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে একটি রিকশায় তুলে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে ডিবির একটি হায়েস মাইক্রোবাসে তুলে তাঁর হাতে জোরপূর্বক হেরোইন দিয়ে ছবি তোলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, হাত থেকে হেরোইন ফেলে দেওয়ার পর এক নারী কনস্টেবল তাঁকে মারধর করেন।

ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় আগামী তিন বছর নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি ঘটনার পর অন্তত তিন দিন এলাকাটির বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থলের এক ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর সামনে থেকেই ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর সামনে কোনো মাদক উদ্ধার করতে দেখা যায়নি। ওই নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।

কাইচাবাড়িতে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের পর অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজাসহ জাফর ও নাছিমা নামের দুই ব্যক্তিকে আটকের অভিযোগ রয়েছে ডিবির এসআই মতিউর, এএসআই মেহেদী ও তাঁদের দলের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আটকের পর নাছিমাকে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নাছিমা তিন দিন আগে ময়মনসিংহে ২০০ কেজি গাঁজাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও সূত্রটি জানায়। সাত লাখ টাকা ডিবি কার্যালয়ের কাছাকাছি সুমনের বিকাশের দোকানের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাফরকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর বিরুদ্ধে চার কেজি গাঁজার জায়গায় মাত্র আধা কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে চার লাখ টাকা হেমায়েতপুরের একটি ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়। বাকি ৫৫ হাজার টাকা জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বর থেকে সুমনের দোকানের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়। জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ছিল ৩২৩ এবং সুমনের দোকানের নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা ছিল ২০২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাফরকে আগেও ছাড়ার অভিযোগ

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার শমসের প্লাজার সামনে থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ জাফরকে আটক করা হয়েছিল। পরে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই অর্থ হাশেম প্লাজার সামনের ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

কাইচাবাড়ি ও নিশ্চিন্তপুর ছাড়াও আমিনবাজার, কাউন্দিয়া এবং শ্রীপুর এলাকায় একই কায়দায় মাদক কারবারিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক সোর্স ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের আটক করা এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আমিনবাজারে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর আমিনবাজারের বরদেশী এলাকা থেকে ‘হাতকাটা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া গত ৭ আগস্ট আমিনবাজার এলাকায় জাহি ও তাঁর ছেলে আগুনকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের অভিযোগ রয়েছে। পরে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই মামলায় জাহির বিরুদ্ধে ১০ পিস এবং আগুনের বিরুদ্ধে ৯০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনাটি আমিনবাজারের একটি হোটেলের মালিক ও স্থানীয় এক মেম্বারের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া হেরোইন কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কাউন্দিয়া ও মজিতপুরেও একই ধরনের অভিযোগ

সাভারের আমিনবাজারে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্দিয়া এলাকায় সোর্স সোহেলের মাধ্যমে মাদক কারবারি শিখার বাবা ও মাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিন লাখ চার হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৪ আগস্ট সাভারের মজিতপুরে জাহাঙ্গীর ও তাঁর ভাইকে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই মতিউর ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে।

আশুলিয়ার শ্রীপুরের সুবন্ধী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সুলতানের স্ত্রী ও ছেলেকে ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, ভাদাইল এলাকায় সোর্স পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির মাধ্যমে সুজন নামের এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সুজনের সঙ্গে আটক নাজমুল ও আনোয়ারকেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে, গড়ে উঠেছে সোর্স নেটওয়ার্ক

অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদী হাসান। এর মধ্যে এএসআই মেহেদী ঢাকা জেলা উত্তর ডিবিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে এলাকায় তিনি নিজস্ব সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের আটক এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অভিযান, মামলা, জব্দতালিকা, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার এসআই মতিউরের

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মতিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে তো ভাই, আমাদের তো একেবারে অর্ধেক মেরে ফেলছে। এগুলো তো মিথ্যা।”

মামলার পরিমাণ বাড়ানো-কমানো এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না না, এ একটা বিষয় নিয়েই সবার মোটামুটি আমায় ফোন দিয়েছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। বলিনি যে তা না, চা-টা খাইছি আরকি। সমস্যা নাই, আপনি ফোন দিয়েছেন, দেখা করব আপনার সঙ্গে।”

তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তদন্তের আশ্বাস ডিবি ওসির

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম খানের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁদের নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সরানোর কারণ কী?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গেছে। তবে সংবাদটি কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি সরানোর পেছনে আর্থিক লেনদেন, কোনো মহলের চাপ, নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল-তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সত্য, মিথ্যা নাকি আংশিক সত্য, তা নির্ধারণেও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত দুই ডিবি সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও ওসি সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগে উল্লিখিত প্রায় ৩৮ লাখ টাকার কোনো অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার’: শফিকুর রহমান

আটকের পর অর্থের বিনিময়ে মুক্তি

সাভার ডিবির এসআই মতিউর ও এএসআই মেহেদীর বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি অভিযানিক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান। গত দুই মাসে মাদক কারবারিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন বিবরণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে প্রকাশের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদটি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কেন সংবাদটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংবাদটি সরিয়ে ফেলার কারণ এবং এতে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

টাকা দিলেই মাদক কারবারিদের মুক্তি?

শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়মিত অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের পরও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এর মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা ও পুলিশের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই মাসে ডিবির একটি অভিযানিক দলের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরও মামলায় অল্প পরিমাণ মাদক দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

নিশ্চিন্তপুরে নারীকে আটকের পর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগের একটি ঘটনা আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার। সেখানে এক নারী মাদক কারবারিকে আটকের পর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদীর বিরুদ্ধে।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিশ্চিন্তপুরের বুড়িপাড়া এলাকায় একটি ঝালমুড়ির দোকানের সামনে থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে একটি রিকশায় তুলে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে ডিবির একটি হায়েস মাইক্রোবাসে তুলে তাঁর হাতে জোরপূর্বক হেরোইন দিয়ে ছবি তোলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, হাত থেকে হেরোইন ফেলে দেওয়ার পর এক নারী কনস্টেবল তাঁকে মারধর করেন।

ওই নারীর অভিযোগ, পরে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় আগামী তিন বছর নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি ঘটনার পর অন্তত তিন দিন এলাকাটির বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থলের এক ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর সামনে থেকেই ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর সামনে কোনো মাদক উদ্ধার করতে দেখা যায়নি। ওই নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।

কাইচাবাড়িতে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের পর অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজাসহ জাফর ও নাছিমা নামের দুই ব্যক্তিকে আটকের অভিযোগ রয়েছে ডিবির এসআই মতিউর, এএসআই মেহেদী ও তাঁদের দলের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আটকের পর নাছিমাকে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নাছিমা তিন দিন আগে ময়মনসিংহে ২০০ কেজি গাঁজাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও সূত্রটি জানায়। সাত লাখ টাকা ডিবি কার্যালয়ের কাছাকাছি সুমনের বিকাশের দোকানের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাফরকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর বিরুদ্ধে চার কেজি গাঁজার জায়গায় মাত্র আধা কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে চার লাখ টাকা হেমায়েতপুরের একটি ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়। বাকি ৫৫ হাজার টাকা জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বর থেকে সুমনের দোকানের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হয়। জাফরের স্ত্রীর বিকাশ নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ছিল ৩২৩ এবং সুমনের দোকানের নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা ছিল ২০২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাফরকে আগেও ছাড়ার অভিযোগ

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার শমসের প্লাজার সামনে থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ জাফরকে আটক করা হয়েছিল। পরে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই অর্থ হাশেম প্লাজার সামনের ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

কাইচাবাড়ি ও নিশ্চিন্তপুর ছাড়াও আমিনবাজার, কাউন্দিয়া এবং শ্রীপুর এলাকায় একই কায়দায় মাদক কারবারিদের আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক সোর্স ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের আটক করা এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আমিনবাজারে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর আমিনবাজারের বরদেশী এলাকা থেকে ‘হাতকাটা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া গত ৭ আগস্ট আমিনবাজার এলাকায় জাহি ও তাঁর ছেলে আগুনকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের অভিযোগ রয়েছে। পরে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই মামলায় জাহির বিরুদ্ধে ১০ পিস এবং আগুনের বিরুদ্ধে ৯০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনাটি আমিনবাজারের একটি হোটেলের মালিক ও স্থানীয় এক মেম্বারের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া হেরোইন কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কাউন্দিয়া ও মজিতপুরেও একই ধরনের অভিযোগ

সাভারের আমিনবাজারে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার দুই দিন পর, ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্দিয়া এলাকায় সোর্স সোহেলের মাধ্যমে মাদক কারবারি শিখার বাবা ও মাকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিন লাখ চার হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৪ আগস্ট সাভারের মজিতপুরে জাহাঙ্গীর ও তাঁর ভাইকে ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই মতিউর ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে।

আশুলিয়ার শ্রীপুরের সুবন্ধী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সুলতানের স্ত্রী ও ছেলেকে ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটকের পর দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, ভাদাইল এলাকায় সোর্স পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির মাধ্যমে সুজন নামের এক ব্যক্তিকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটকের পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সুজনের সঙ্গে আটক নাজমুল ও আনোয়ারকেও অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে, গড়ে উঠেছে সোর্স নেটওয়ার্ক

অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদী হাসান। এর মধ্যে এএসআই মেহেদী ঢাকা জেলা উত্তর ডিবিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে এলাকায় তিনি নিজস্ব সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের আটক এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অভিযান, মামলা, জব্দতালিকা, কল রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার এসআই মতিউরের

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মতিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “এসব বিষয় নিয়ে তো ভাই, আমাদের তো একেবারে অর্ধেক মেরে ফেলছে। এগুলো তো মিথ্যা।”

মামলার পরিমাণ বাড়ানো-কমানো এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না না, এ একটা বিষয় নিয়েই সবার মোটামুটি আমায় ফোন দিয়েছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। বলিনি যে তা না, চা-টা খাইছি আরকি। সমস্যা নাই, আপনি ফোন দিয়েছেন, দেখা করব আপনার সঙ্গে।”

তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তদন্তের আশ্বাস ডিবি ওসির

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম খানের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁদের নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সরানোর কারণ কী?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গেছে। তবে সংবাদটি কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি সরানোর পেছনে আর্থিক লেনদেন, কোনো মহলের চাপ, নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল-তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সত্য, মিথ্যা নাকি আংশিক সত্য, তা নির্ধারণেও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত দুই ডিবি সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও ওসি সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআই মতিউর রহমান ও এএসআই মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগে উল্লিখিত প্রায় ৩৮ লাখ টাকার কোনো অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।