কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আমতলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাটি বিক্রির অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সাবঠিকাদার ও ৬ নম্বর মৈশাতুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকলে, সে বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মো. ইদ্রিছ, মৈশাতুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জামাল হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়া বলেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম তাঁদের বলেছিলেন, খনন করা মাটি রাখার ব্যবস্থা করে দিলে তিনি তা সেখানে রেখে দেবেন। কিন্তু মাটি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তিনি মাটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেন।
মৈশাতুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন বলেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম গ্রামবাসীকে নিয়ে বসেছিলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে মাটি রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু আশপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সবার সম্মতিতে তিনি অন্যত্র মাটি সরিয়ে নেন।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, তাঁরা যাচাই-বাছাই করে জানতে পেরেছেন, আশপাশে মাটি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম মাটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বৃহত্তর মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে তিনি তার জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন।
তিনি আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাঁকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। তাঁকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সংসদ সদস্যকে ভুল বোঝানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আমতলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজের ঠিকাদারি নেওয়া এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব তাঁর। এ দায়িত্ব থেকে তিনি পিছপা হতে চান না।
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিছু ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যোগ দেওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইভাবে, প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ তাঁর সম্মানহানি করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন ও দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিচার চাই, প্রতিহিংসা নয়। আমি সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 























