ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার আ. লীগ ভোট চুরি করেছে, বিএনপি ফলাফল: হাসনাত দেশেই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী মা ইলিশ শিকারের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণভোটেই, সংবিধানে নয়: ফুয়াদ আত্মসমর্পণ করা ১৫৯ ইয়েমেনি সেনাকে মুক্তি দিল হুথিরা কোন কারণে বুকে পাথর চাপা দিয়ে জুলাই সনদে সই করেছিল জামায়াত, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা: ডিবি মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

লালপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবককে অপহরণ, বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ

নাটোরের লালপুর উপজেলার সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড় থেকে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবককে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের বাবা লালপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আনছার আলী (৫৫), পিতা মৃত আব্দুল জব্বার প্রামাণিক, সাং- সাতপুকুরিয়া, ডাকঘর- রাকসা, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর। তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে মো. আলতাব হোসেন (২৯) গত ২ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি গত ৪ অক্টোবর লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর- ১৯৫, ট্র্যাকিং নম্বর- XYSCJU।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বাদী জানতে পারেন, বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে অপহরণ করেছেন বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—

১. মো. লিটন আলী, পিতা ইমরাকুল আলী, সাং- সাতপুকুরিয়া, ডাকঘর- রাকসা, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর। তিনি সাতপুকুরিয়া মোড়ের লিটন ফার্নিচারের মালিক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. সুমির প্রামাণিক, পিতা নেপাল চন্দ্র প্রামাণিক, সাং- রুইগাড়ি, ডাকঘর- গোপালপুর, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে লালপুর থানাধীন সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড় থেকে তাঁর ছেলেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর ছেলে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ বিষয়ে প্রথম অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দেননি বলে বাদী উল্লেখ করেন। অন্য অভিযুক্তদের খুঁজতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি বা পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

নিখোঁজের সময় মো. আলতাব হোসেনের পরনে ছিল সবুজ রঙের হাফহাতা গেঞ্জি ও সবুজ প্যান্ট।

এ অবস্থায় নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জিডি ও এজাহারের কপি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসী জানান, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সন্ধান চেয়ে পরিবারের আবেদন: নিখোঁজ মো. আলতাব হোসেনের সন্ধান পেলে ০১৭৮১-৩৩৮৯৯০ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫

লালপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবককে অপহরণ, বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের লালপুর উপজেলার সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড় থেকে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবককে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের বাবা লালপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আনছার আলী (৫৫), পিতা মৃত আব্দুল জব্বার প্রামাণিক, সাং- সাতপুকুরিয়া, ডাকঘর- রাকসা, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর। তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে মো. আলতাব হোসেন (২৯) গত ২ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি গত ৪ অক্টোবর লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর- ১৯৫, ট্র্যাকিং নম্বর- XYSCJU।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বাদী জানতে পারেন, বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে অপহরণ করেছেন বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—

১. মো. লিটন আলী, পিতা ইমরাকুল আলী, সাং- সাতপুকুরিয়া, ডাকঘর- রাকসা, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর। তিনি সাতপুকুরিয়া মোড়ের লিটন ফার্নিচারের মালিক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. সুমির প্রামাণিক, পিতা নেপাল চন্দ্র প্রামাণিক, সাং- রুইগাড়ি, ডাকঘর- গোপালপুর, থানা- লালপুর, জেলা- নাটোর।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে লালপুর থানাধীন সাতপুকুরিয়া সেন্টার মোড় থেকে তাঁর ছেলেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর ছেলে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ বিষয়ে প্রথম অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দেননি বলে বাদী উল্লেখ করেন। অন্য অভিযুক্তদের খুঁজতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি বা পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

নিখোঁজের সময় মো. আলতাব হোসেনের পরনে ছিল সবুজ রঙের হাফহাতা গেঞ্জি ও সবুজ প্যান্ট।

এ অবস্থায় নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জিডি ও এজাহারের কপি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসী জানান, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সন্ধান চেয়ে পরিবারের আবেদন: নিখোঁজ মো. আলতাব হোসেনের সন্ধান পেলে ০১৭৮১-৩৩৮৯৯০ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।