ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নানা আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যরা।

পতাকা উত্তোলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক, শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় কেক কাটা হয়। পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা যে পরিকল্পনা করেছি এবং আমাদের যেটা দেখানো হয়েছে, সেটি যদি একনেকে পাস হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র বদলে যাবে।”

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প জমা দিয়েছে। অনেক পরিশ্রমের পর প্রকল্পটি সবুজপাতা ও ইউজিসির ধাপ পেরিয়ে এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আবু সাঈদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তরবঙ্গ বা বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর বুকে একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছয়টি অনুষদের অধীনে ২২টি বিভাগ রয়েছে। এখানে প্রায় আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা আয়োজনে বেরোবির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

আপডেট সময় ০৭:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যরা।

পতাকা উত্তোলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক, শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় কেক কাটা হয়। পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা যে পরিকল্পনা করেছি এবং আমাদের যেটা দেখানো হয়েছে, সেটি যদি একনেকে পাস হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র বদলে যাবে।”

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প জমা দিয়েছে। অনেক পরিশ্রমের পর প্রকল্পটি সবুজপাতা ও ইউজিসির ধাপ পেরিয়ে এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আবু সাঈদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তরবঙ্গ বা বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর বুকে একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছয়টি অনুষদের অধীনে ২২টি বিভাগ রয়েছে। এখানে প্রায় আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।