ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন”

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোরে লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার অভিযোগে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজানের শব্দ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেন বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনের নাম মোহাম্মদ ফাইজান। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) নাজিবাবাদে ‘সমাধান দিবস’ নামের একটি অভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে আজানের শব্দ শুনতে পান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। এরপর বিষ্ণোই কোতোয়ালি থানার পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইক জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর (প্রাথমিক অভিযোগ) নথিভুক্ত করে পুলিশ। এ ছাড়া শান্তিভঙ্গের অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে একজন উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক বিট কনস্টেবলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পর জেলার সব থানাকে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মাইক নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে—এ মর্মে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ নিয়ম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মাইকের বিরুদ্ধে বিজনোর জেলাজুড়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে কর্তৃপক্ষ মোট ২ হাজার ৫০৯টি মাইক সরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ১ হাজার ৩২৩টি, মন্দির থেকে ১ হাজার ১১৬টি এবং গুরুদুয়ারা থেকে ৭০টি মাইক সরানো হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো যেসব মাইক রয়েছে, সেগুলো যেন নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করতে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি শব্দে মাইক চালাতে দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় এসব নির্দেশনা কার্যকর করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

“উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন”

আপডেট সময় ০৭:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোরে লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার অভিযোগে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজানের শব্দ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেন বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মুয়াজ্জিনের নাম মোহাম্মদ ফাইজান। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) নাজিবাবাদে ‘সমাধান দিবস’ নামের একটি অভিযোগ শুনানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে আজানের শব্দ শুনতে পান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই। এরপর বিষ্ণোই কোতোয়ালি থানার পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইক জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে শব্দদূষণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর (প্রাথমিক অভিযোগ) নথিভুক্ত করে পুলিশ। এ ছাড়া শান্তিভঙ্গের অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে একজন উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক বিট কনস্টেবলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পর জেলার সব থানাকে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মাইক নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে চলছে—এ মর্মে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ নিয়ম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মাইকের বিরুদ্ধে বিজনোর জেলাজুড়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে কর্তৃপক্ষ মোট ২ হাজার ৫০৯টি মাইক সরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ১ হাজার ৩২৩টি, মন্দির থেকে ১ হাজার ১১৬টি এবং গুরুদুয়ারা থেকে ৭০টি মাইক সরানো হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো যেসব মাইক রয়েছে, সেগুলো যেন নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করতে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি শব্দে মাইক চালাতে দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় এসব নির্দেশনা কার্যকর করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।