মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব দুপুর ২টার সময় বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলা সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের যুগান্তকারী কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় দেশব্যাপী খানা/পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও ৫৭টি সিটি করপোরেশন ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত পিএমটি পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পাঁচটি কোয়ান্টাইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) ভাগ করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী, ৮৬০ বা তার কম নম্বরপ্রাপ্ত নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে সব নারী পরিবারপ্রধানই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; ভাতা পাবেন শুধু প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলভুক্ত নিম্ন স্কোরপ্রাপ্ত পরিবারের নারীপ্রধানেরা।
তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে ইনপুট দেবেন।
সরকারের লক্ষ্য, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৮৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা। উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি সুবিধা থাকবে এবং এটি টাকাপে পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
আজাদ বাহার জামালী, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 




















