দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আসাদ সবুজের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় অমানবিক আচরণের ঘটনায় মাননীয় পুলিশ সুপার তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানান তিনি। এদিকে, যে ভূমিসংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ চাঁদাবাজির মামলার শিকার হয়েছেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
আজ বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ঘোষণা দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন, বেতাগী শাখার সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার ও রাসেল সিকদার এবং প্রেস ক্লাবের সদস্য কাশেম হাওলাদার প্রমুখ।
মনে রাখা উচিত, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গণমাধ্যমকে রক্ষায় রাষ্ট্রের এখনই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা উচিত। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সব সময়ই গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে পৃথক করতে চায়। এরা দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী; এরা রাষ্ট্রের মঙ্গল চায় না। এরাই গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ কর্মসূচি পরিচালনা করেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের।
ইত্তিজা হাসান (মনির), বরগুনা প্রতিনিধি 

























