শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগান। শিক্ষক নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেন এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখান। সেই মহান শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে।

একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় পড়ান না। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখান শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির কারণে জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পাওয়া যায় অসংখ্য তথ্য। কোন তথ্য সঠিক, কোনটি ভুল এবং কীভাবে জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে—তা শেখানোর দায়িত্ব এখনো শিক্ষকের। প্রযুক্তি একজন শিক্ষার্থীর হাতে তথ্য তুলে দিতে পারে, কিন্তু একজন শিক্ষক তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। শিক্ষক আত্মবিশ্বাস হারালে সাহস দেন, ভুল করলে শিক্ষার্থীদের সংশোধন করে দেন এবং শিক্ষার্থীদের জীবনের সঠিক আলোর পথ দেখিয়ে দেন।
শুক্রবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নরসিংদীতে র্যালি, শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
বক্তব্য দেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আব্দুল খালেক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানসহ অনেকে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষক।
শিক্ষকের হাত ধরেই প্রজন্মের স্বপ্ন দেখতে শেখে, স্বপ্নকে সাহসে রূপ দেয় এবং একদিন সেই স্বপ্নকে বাস্তবতায় পরিণত করে। শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান করা নয়—সম্মান করা আগামী দিনের ভবিষ্যৎকে। শিক্ষকরা জাতি গড়ার নীরব কারিগর। তাঁদের হাতে গড়ে ওঠে আগামী দিনের স্বপ্ন, সমাজ ও ভবিষ্যৎ।
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার 






















