ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে বেনামে বন্ড প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ এআইয়ের নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প, ভুল বানান নিয়ে হাস্যরস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় মানুষ হাসবে: গোলাম পরওয়ার নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা লালপুরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর ৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত এবার দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি, মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ নির্ঘুম রাতে আচমকা গাছ ভেঙে মৃত্যু গৃহবধূর, প্রাণে বাঁচলেন স্বামী-শি’শু
পীরগঞ্জের মিঠিপুরে অচল রাস্তা সচল করলেন গ্রামবাসী

নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের নাটমিঠিপুর ও ছোট কাশিমপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের খানাখন্দে ভরা অচল রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেছেন গ্রামবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠিপুর ইউনিয়নের ছোট কাশিমপুর ও লাটমিঠিপুর গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচলসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ভোগান্তি কমাতে গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের তরুণ, যুবক ও প্রবীণরা সম্মিলিতভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন। তারা নিজেদের অর্থে ইটের খোয়া, বালু ও মাটি সংগ্রহ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা ও পানি সরিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গফুর ফরুক বলেন, “বৃষ্টি হলেই আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের এই দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের নজরে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছি।”

গৃহবধূ রোশনারা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, পরিশ্রম করে সংসার চালাই। বৃষ্টি হলে কয়েক দিন ভ্যানও চলতে চায় না। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে প্রায় দুই মাইল কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ আরও বেশি।”

পঞ্চাশচর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার লতিফ বলেন, “এই দুই গ্রামের চারদিকে প্রায় দুই মাইল দূরে পাকা রাস্তা। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সড়কটি টেকসইভাবে উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, “রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে বেনামে বন্ড প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ

পীরগঞ্জের মিঠিপুরে অচল রাস্তা সচল করলেন গ্রামবাসী

নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ০৪:১৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের নাটমিঠিপুর ও ছোট কাশিমপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের খানাখন্দে ভরা অচল রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেছেন গ্রামবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠিপুর ইউনিয়নের ছোট কাশিমপুর ও লাটমিঠিপুর গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচলসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ভোগান্তি কমাতে গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের তরুণ, যুবক ও প্রবীণরা সম্মিলিতভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন। তারা নিজেদের অর্থে ইটের খোয়া, বালু ও মাটি সংগ্রহ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা ও পানি সরিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গফুর ফরুক বলেন, “বৃষ্টি হলেই আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের এই দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের নজরে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছি।”

গৃহবধূ রোশনারা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, পরিশ্রম করে সংসার চালাই। বৃষ্টি হলে কয়েক দিন ভ্যানও চলতে চায় না। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে প্রায় দুই মাইল কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ আরও বেশি।”

পঞ্চাশচর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার লতিফ বলেন, “এই দুই গ্রামের চারদিকে প্রায় দুই মাইল দূরে পাকা রাস্তা। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সড়কটি টেকসইভাবে উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, “রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”