রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের নাটমিঠিপুর ও ছোট কাশিমপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের খানাখন্দে ভরা অচল রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেছেন গ্রামবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠিপুর ইউনিয়নের ছোট কাশিমপুর ও লাটমিঠিপুর গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচলসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
ভোগান্তি কমাতে গত এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের তরুণ, যুবক ও প্রবীণরা সম্মিলিতভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছেন। তারা নিজেদের অর্থে ইটের খোয়া, বালু ও মাটি সংগ্রহ করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে কাদা ও পানি সরিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গফুর ফরুক বলেন, “বৃষ্টি হলেই আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যায়। ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের এই দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের নজরে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছি।”
গৃহবধূ রোশনারা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, পরিশ্রম করে সংসার চালাই। বৃষ্টি হলে কয়েক দিন ভ্যানও চলতে চায় না। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে প্রায় দুই মাইল কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ আরও বেশি।”
পঞ্চাশচর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার লতিফ বলেন, “এই দুই গ্রামের চারদিকে প্রায় দুই মাইল দূরে পাকা রাস্তা। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সড়কটি টেকসইভাবে উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, “রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 






















