ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সীমান্তের যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৬৮০০ পিস ভারতীয় পাতার বিড়ি জব্দ দুর্নীতির অভিযোগের পরও এলজিইডির পিডি আতিকুল, অধস্তন কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ এনজিওকর্মী শাহানারা আক্তার উপাধ্যক্ষ, নিয়োগ শর্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ মিললেও পদ্মা অয়েলের সাইদুলের কমেনি দাপট তিন সরকার পেরিয়েও রেলওয়ের শীর্ষ পদে আফজাল ঘুষের অভিযোগে বিতর্কিত সালাম আজাদ ফের ডিআইএতে, পদায়ন ঘিরে তোলপাড় ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে বিআরটিএর পরিচালক হলেন মাসুদ আলম ৩০ হাজার টাকার বেতন, হাজার কোটি টাকার সম্পদ-আবজাল দম্পতিকে ঘিরে বিস্ময়কর অভিযোগ
বোনের নামে আবাসন ব্যবসা

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা উপেক্ষা করে আবাসন নির্মাণ ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নামে ব্যবসা পরিচালনা করতে সরকারি চাকরির বিধিনিষেধের কারণে তিনি তাঁর বোনের নামে ‘হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আবাসন নির্মাণ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের কাটাসুরের কাদেরাবাদ হাউজিং মেইন রোড এলাকায় শহীদ রেজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটির আরএস দাগ নম্বর ২২৩০২২৩১, ২২৩৮, ২২৩৯, ২৩৪০, ২৩০৩ ও ২২৩৬ (P) এবং এমএস দাগ নম্বর ১৩৬৮৮, ১৩৭১৩, ১৩৭১৪ ও ১৩৭১৫ (P)।
ভবনটির নকশার স্মারক নম্বর ২৫.৩৯০০০০.১১৪.৩৩.০১১.২২ এবং এর তারিখ ২ মার্চ ২০২৩। সংশ্লিষ্ট নকশা অনুযায়ী ভবনটিতে জি+৯ অর্থাৎ গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ মোট ১০ তলা নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে। অনুমোদিত নকশায় প্রতি তলায় ৭২৮.৬৯ বর্গমিটার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে ভবনের প্রতিটি তলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত জায়গা নির্মাণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভবনের চারপাশে আলো-বাতাস চলাচল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা বা ‘ভয়েড’ রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনের আয়তন বাড়ানো শুধু নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণবিধির প্রশ্নই নয়, ভবনের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদন এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত হিসেবে বলা হচ্ছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনের প্রতি তলায় অতিরিক্ত আয়তন যুক্ত করা হলে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, আলো-বাতাস চলাচল এবং জরুরি সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে এ ধরনের নির্মাণকাজ যথাযথ কারিগরি ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের দাবি রাখে।
ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক তারিফের বক্তব্যও রয়েছে। তিনি জানান, ভবনের নকশা চেয়ে নোটিশ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এই নির্মাণকাজের সঙ্গে শহীদ রেজার সম্পৃক্ততার প্রশ্নে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। শহীদ রেজা নিজে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘এটি আমার বোনের ব্যবসা।’ তিনি আরও বলেন, তিনি সেখানে শুধু একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।
অন্যদিকে, হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেডের ম্যানেজার মো. মোকসেদ আহমেদ শহীদ রেজার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শহীদ রেজার নিজের প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন বলেই প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বোনের নামে করা হয়েছে বলে দাবি করেন মোকসেদ আহমেদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই শহীদ রেজা নিজে দেখাশোনা করেন।
ফলে এখানে মূল প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে—হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেডের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শহীদ রেজার ভূমিকা কতটুকু? যদি প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তাঁর বোনের মালিকানাধীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী ধরনের ভূমিকা পালন করছেন এবং তাঁর চাকরির বিধিমালার সঙ্গে সেই ভূমিকার কোনো সাংঘর্ষিকতা রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অপরাধ বিশেষজ্ঞ নূর হাকিমের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হলে তা আইনগতভাবে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অননুমোদিত ব্যবসা কখনো কখনো অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ—যেমন ঘুষ বা অনুপার্জিত আয়—লুকানো বা বৈধ করার ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি এটিকে সরকারি কর্মচারী আইন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে শহীদ রেজা অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন কিংবা কোনো অবৈধ অর্থ আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে লুকিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য আর্থিক নথি, সম্পদের বিবরণ, কোম্পানির মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা উপেক্ষা করে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা নির্মাণাধীন ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত নির্মাণের অভিযোগ—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের দাবি রাখছে। শহীদ রেজার বক্তব্য অনুযায়ী এটি তাঁর বোনের ব্যবসা; আবার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি মূলত তাঁরই এবং তিনি চাকরির কারণে বোনের নামে এটি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তের যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ

বোনের নামে আবাসন ব্যবসা

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা উপেক্ষা করে আবাসন নির্মাণ ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নামে ব্যবসা পরিচালনা করতে সরকারি চাকরির বিধিনিষেধের কারণে তিনি তাঁর বোনের নামে ‘হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে আবাসন নির্মাণ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের কাটাসুরের কাদেরাবাদ হাউজিং মেইন রোড এলাকায় শহীদ রেজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটির আরএস দাগ নম্বর ২২৩০২২৩১, ২২৩৮, ২২৩৯, ২৩৪০, ২৩০৩ ও ২২৩৬ (P) এবং এমএস দাগ নম্বর ১৩৬৮৮, ১৩৭১৩, ১৩৭১৪ ও ১৩৭১৫ (P)।
ভবনটির নকশার স্মারক নম্বর ২৫.৩৯০০০০.১১৪.৩৩.০১১.২২ এবং এর তারিখ ২ মার্চ ২০২৩। সংশ্লিষ্ট নকশা অনুযায়ী ভবনটিতে জি+৯ অর্থাৎ গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ মোট ১০ তলা নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে। অনুমোদিত নকশায় প্রতি তলায় ৭২৮.৬৯ বর্গমিটার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে ভবনের প্রতিটি তলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত জায়গা নির্মাণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভবনের চারপাশে আলো-বাতাস চলাচল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা বা ‘ভয়েড’ রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনের আয়তন বাড়ানো শুধু নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণবিধির প্রশ্নই নয়, ভবনের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদন এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত হিসেবে বলা হচ্ছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনের প্রতি তলায় অতিরিক্ত আয়তন যুক্ত করা হলে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, আলো-বাতাস চলাচল এবং জরুরি সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে এ ধরনের নির্মাণকাজ যথাযথ কারিগরি ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের দাবি রাখে।
ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক তারিফের বক্তব্যও রয়েছে। তিনি জানান, ভবনের নকশা চেয়ে নোটিশ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এই নির্মাণকাজের সঙ্গে শহীদ রেজার সম্পৃক্ততার প্রশ্নে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। শহীদ রেজা নিজে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘এটি আমার বোনের ব্যবসা।’ তিনি আরও বলেন, তিনি সেখানে শুধু একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।
অন্যদিকে, হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেডের ম্যানেজার মো. মোকসেদ আহমেদ শহীদ রেজার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শহীদ রেজার নিজের প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করেন বলেই প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বোনের নামে করা হয়েছে বলে দাবি করেন মোকসেদ আহমেদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই শহীদ রেজা নিজে দেখাশোনা করেন।
ফলে এখানে মূল প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে—হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেডের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শহীদ রেজার ভূমিকা কতটুকু? যদি প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তাঁর বোনের মালিকানাধীন হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী ধরনের ভূমিকা পালন করছেন এবং তাঁর চাকরির বিধিমালার সঙ্গে সেই ভূমিকার কোনো সাংঘর্ষিকতা রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অপরাধ বিশেষজ্ঞ নূর হাকিমের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হলে তা আইনগতভাবে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অননুমোদিত ব্যবসা কখনো কখনো অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ—যেমন ঘুষ বা অনুপার্জিত আয়—লুকানো বা বৈধ করার ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি এটিকে সরকারি কর্মচারী আইন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে শহীদ রেজা অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন কিংবা কোনো অবৈধ অর্থ আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে লুকিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণের জন্য আর্থিক নথি, সম্পদের বিবরণ, কোম্পানির মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে চাকরির বিধিমালা উপেক্ষা করে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা নির্মাণাধীন ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত নির্মাণের অভিযোগ—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের দাবি রাখছে। শহীদ রেজার বক্তব্য অনুযায়ী এটি তাঁর বোনের ব্যবসা; আবার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি মূলত তাঁরই এবং তিনি চাকরির কারণে বোনের নামে এটি করেছেন।