ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে ‘চ্যানেল’ বাণিজ্য, দিনে ৪-৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ বাঘারচর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক রকিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গোয়াইনঘাটে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গুলনী চা বাগানে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ বিএসইসির দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন পিডিবিএফ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে ঘিরে নিয়োগ,পদোন্নতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ১২ দিনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত, দুর্নীতির ‘প্রমাণ’ থেকে ‘ক্লিন চিট’ নির্বাহী প্রকৌশলী তবিবুরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কাজ না করেও দুই মাসের বেতন পান আরেকজন, বঞ্চিত পুরোনো ১৩ কর্মী বরিশাল গণপূর্তে টেন্ডার সিন্ডিকেটের দাপট, নিয়ন্ত্রণে প্রকৌশলী ফয়সাল রেলের ১,২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পে অসংগতির পাহাড় অবৈধ ব্যবসায় গণপূর্তের পাঁচ প্রকৌশলী এখন ‘মিনি শিল্পপতি

গোয়াইনঘাটে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গুলনী চা বাগানে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনী চা বাগানে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরিসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয় দিনের মতো গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনী চা বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বাগানের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, চা শ্রমিকদের নিজস্ব ভূমির আইনি অধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মীর সভাপতিত্বে ও যুবনেতা লিটন সাঁওতালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বাগানের চা শ্রমিক নেতা মিঠুন কুর্মী, ছাত্রনেতা যতিন সিং ছত্রী, সবুজ কুর্মী, নারী চা শ্রমিক নাজমিন বেগম, মালা বিশ্বাস, গীতা মুদি ও বিনা মুদিসহ চা শ্রমিকরা।
সভাপতির বক্তব্যে গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালতে পারছে, কিন্তু দেড় লাখ চা শ্রমিক পালতে পারছে না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরি দিয়ে চা শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকার ও মৌলিক বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় চা শ্রমিক নেতারা বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের জীবনযাত্রার মান ও মজুরি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে ‘চ্যানেল’ বাণিজ্য, দিনে ৪-৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

গোয়াইনঘাটে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গুলনী চা বাগানে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০২:৩১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনী চা বাগানে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরিসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয় দিনের মতো গোয়াইনঘাট উপজেলার গুলনী চা বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বাগানের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, চা শ্রমিকদের নিজস্ব ভূমির আইনি অধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন।
গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মীর সভাপতিত্বে ও যুবনেতা লিটন সাঁওতালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বাগানের চা শ্রমিক নেতা মিঠুন কুর্মী, ছাত্রনেতা যতিন সিং ছত্রী, সবুজ কুর্মী, নারী চা শ্রমিক নাজমিন বেগম, মালা বিশ্বাস, গীতা মুদি ও বিনা মুদিসহ চা শ্রমিকরা।
সভাপতির বক্তব্যে গুলনী চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুর্মী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালতে পারছে, কিন্তু দেড় লাখ চা শ্রমিক পালতে পারছে না। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরি দিয়ে চা শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকার ও মৌলিক বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এ সময় চা শ্রমিক নেতারা বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের জীবনযাত্রার মান ও মজুরি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।