ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ মনোহরগঞ্জের আ’লীগ নেতা ফিরোজের বিরুদ্ধে অবৈধ মার্কেট ও সম্পদ গড়ার অভিযোগ রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি আসছে কাল, কেন্দ্রে পৌঁছাবে শনিবার ক্যাশলেস লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না: অর্থমন্ত্রী চন্দ্রগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হামলার শিকার ফুটপাত দখল করলেই মামলা, হকারদের কড়া বার্তা দিল ডিএসসিসি সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনায় মব সৃষ্টি করে হেনস্তার শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন জোরেসোরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।

দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের কারণে গ্রাহকপর্যায়ে লোডশেডিং বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে এই পারমাণবিক কেন্দ্রটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হয়েছে। দুই ধাপে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে শতাধিক পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

একবার পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কেন্দ্রটি থেকে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর টানা ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর পুনরায় রিফুয়েলিং ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ ২ মাস বন্ধ রাখতে হতে পারে।

সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ অন্য উৎসগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভেজাল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে চালনা করতে হয়। ফলে গ্রিডের অবকাঠামোগত সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। গ্রিডে যেন সামান্য ত্রুটিও তৈরি না হয় এবং সংবহনে বাধা না আসে, সে জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সঞ্চালন কাঠামোর আরও নিবিড় প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের দ্রুতগতির উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি খাপ খাওয়ানোর জন্য নিয়মিত আপগ্রেডেশন দরকার। এই সমন্বয় ঠিকমতো না হলে হঠাৎ দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সেই ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড ও প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

তবে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের চূড়ান্ত দাম কত হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর পিডিবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই হবে। প্রাথমিক খসড়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাশিয়া ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর প্রকল্পের কিছু বড় আর্থিক লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প চ্যানেলগুলো সময়মতো নিশ্চিত করতে না পারায় আন্তর্জাতিক পরিশোধপ্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব প্রকল্পের স্বাভাবিক গতিতে পড়ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ গোল হজম করে আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আপডেট সময় ১২:২০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন জোরেসোরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারবে।

দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের কারণে গ্রাহকপর্যায়ে লোডশেডিং বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে এই পারমাণবিক কেন্দ্রটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হয়েছে। দুই ধাপে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে শতাধিক পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

একবার পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কেন্দ্রটি থেকে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর টানা ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর পুনরায় রিফুয়েলিং ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ ২ মাস বন্ধ রাখতে হতে পারে।

সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ অন্য উৎসগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভেজাল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে চালনা করতে হয়। ফলে গ্রিডের অবকাঠামোগত সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। গ্রিডে যেন সামান্য ত্রুটিও তৈরি না হয় এবং সংবহনে বাধা না আসে, সে জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সঞ্চালন কাঠামোর আরও নিবিড় প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের দ্রুতগতির উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি খাপ খাওয়ানোর জন্য নিয়মিত আপগ্রেডেশন দরকার। এই সমন্বয় ঠিকমতো না হলে হঠাৎ দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সেই ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড ও প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

তবে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের চূড়ান্ত দাম কত হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর পিডিবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই হবে। প্রাথমিক খসড়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাশিয়া ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর প্রকল্পের কিছু বড় আর্থিক লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প চ্যানেলগুলো সময়মতো নিশ্চিত করতে না পারায় আন্তর্জাতিক পরিশোধপ্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব প্রকল্পের স্বাভাবিক গতিতে পড়ছে।