ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আর কত দিন লাগবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ালে সরকার টিকতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম শিবির করায় ববির এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ছাত্রদলের মারধর, অতঃপর চাকরিচ্যুত জুলাই দিবস পালন শেষে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ১২ হাজার টাকার ঋণ, ১৩ লাখ টাকার মামলা; বালিয়াডাঙ্গীতে গ্রেপ্তার সুদ ব্যবসায়ী কুমিল্লায় সোহান হত্যা মামলায় বৃদ্ধ মিজানুর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নওগাঁয় এআই কানেক্টেড ক্যামেরার সুফল: যশোরে স্পেশাল ড্রাইভে স্বর্ণ ছিনতাইকারী গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি’র সুযোগ পেলেন বেরোবি শিক্ষার্থী ইমন  রাজশাহীতে পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধন  পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!
মহাখালী সাততলা ফাঁড়িতে অ'পকর্মের পাহাড়

পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!

রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেট ‘সি’ ব্লক এবং সংলগ্ন সাততলা বস্তি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকের আড়ালে মাদক ও ‘ফিটিং’ বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের তির মহাখালী সাততলা ফাঁড়ির বিট কর্মকর্তা এএসআই অসীম ও তার গঠিত ‘অসীম-গং’-এর দিকে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই চক্রের কারণে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ এখন চরম জিম্মি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
​অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অসীম-গংয়ের নানা অপরাধ সাম্রাজ্যের চিত্র:
​পকেট সোর্স শাকিল দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ: এএসআই অসীমের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় মহাখালীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২১ মামলার আসামি শাকিল (বিদ্যুৎ দখলদারিত্বের গোলাগুলিতে নিহত রফিকের ছেলে)। শাকিলকে নিজের ‘পকেট সোর্স’ পরিচয়ে ব্যবহার করে মূলত অসীমের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাদকের কেনাবেচা ও সরবরাহ পরিচালনা করা হচ্ছে।
​নির্দোষদের ফাঁসিয়ে ‘ফিটিং’ বাণিজ্য: এএসআই অসীম ও তার সহযোগীরা স্থানীয় নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর (ফিটিং) ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভুয়া মামলায় গ্রেফতার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়।
​বিতাড়িত সীমা পুনর্বাসিত ও ক্ষমতার রদবদল: সাবেক বিট ইনচার্জ আব্দুল্লাহর আমলে এবং গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক হোসেনের নির্দেশে ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে সাধারণ জনগণ একজোট হয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি সীমাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই অভিযানের মুখে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় সীমা। তবে পরবর্তীতে অসীম-গংয়ের সাথে অনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে আবারও সেখানে তাকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমার দখলে থাকা পূর্বের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি অসীমের হাতে।
​শিশুদের খেলার স্থান দখল: মাদক বাণিজ্যের পাশাপাশি ওই এলাকার শিশুদের একটি বসবাস ও খেলার স্থানের ওপরও অসীম-গংয়ের নজর পড়েছে, যার একাংশ বর্তমানে তাদের অনৈতিক প্রভাবের আন্ডারে রয়েছে বলে জানা গেছে।
​আইওয়াশ অভিযান ও মাসোয়ারা: মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযানের নামে দু-একজন খুচরা মাদকসেবী বা বিক্রেতাকে ধরে চালান দেওয়া হলেও মূল হোতারা নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে অসীম-গংয়ের ছত্রচ্ছায়ায় অধরাই থেকে যায়।
​আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন অপকর্মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসআই অসীমের মুখোমুখি হন এই প্রতিবেদক। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনুসন্ধানী অভিযোগের বিষয়ে সদুত্তর না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদককে রীতিমতো হুমকি প্রদান করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
​আইনশৃঙ্খলার আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে মহাখালীর সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে এএসআই অসীম ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
​(এএসআই অসীমের অর্থ লেনদেনের রসিদ, শাকিল-শিরিন চক্রের নেপথ্যের মদদদাতা এবং সাততলা ফাঁড়ির আরও অজানা তথ্য নিয়ে চোখ রাখুন আগামী পর্বে…)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আর কত দিন লাগবে, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী

মহাখালী সাততলা ফাঁড়িতে অ'পকর্মের পাহাড়

পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!

আপডেট সময় ০৩:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেট ‘সি’ ব্লক এবং সংলগ্ন সাততলা বস্তি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকের আড়ালে মাদক ও ‘ফিটিং’ বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের তির মহাখালী সাততলা ফাঁড়ির বিট কর্মকর্তা এএসআই অসীম ও তার গঠিত ‘অসীম-গং’-এর দিকে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই চক্রের কারণে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ এখন চরম জিম্মি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
​অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অসীম-গংয়ের নানা অপরাধ সাম্রাজ্যের চিত্র:
​পকেট সোর্স শাকিল দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ: এএসআই অসীমের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় মহাখালীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২১ মামলার আসামি শাকিল (বিদ্যুৎ দখলদারিত্বের গোলাগুলিতে নিহত রফিকের ছেলে)। শাকিলকে নিজের ‘পকেট সোর্স’ পরিচয়ে ব্যবহার করে মূলত অসীমের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাদকের কেনাবেচা ও সরবরাহ পরিচালনা করা হচ্ছে।
​নির্দোষদের ফাঁসিয়ে ‘ফিটিং’ বাণিজ্য: এএসআই অসীম ও তার সহযোগীরা স্থানীয় নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর (ফিটিং) ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভুয়া মামলায় গ্রেফতার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়।
​বিতাড়িত সীমা পুনর্বাসিত ও ক্ষমতার রদবদল: সাবেক বিট ইনচার্জ আব্দুল্লাহর আমলে এবং গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক হোসেনের নির্দেশে ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে সাধারণ জনগণ একজোট হয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি সীমাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই অভিযানের মুখে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় সীমা। তবে পরবর্তীতে অসীম-গংয়ের সাথে অনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে আবারও সেখানে তাকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমার দখলে থাকা পূর্বের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি অসীমের হাতে।
​শিশুদের খেলার স্থান দখল: মাদক বাণিজ্যের পাশাপাশি ওই এলাকার শিশুদের একটি বসবাস ও খেলার স্থানের ওপরও অসীম-গংয়ের নজর পড়েছে, যার একাংশ বর্তমানে তাদের অনৈতিক প্রভাবের আন্ডারে রয়েছে বলে জানা গেছে।
​আইওয়াশ অভিযান ও মাসোয়ারা: মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযানের নামে দু-একজন খুচরা মাদকসেবী বা বিক্রেতাকে ধরে চালান দেওয়া হলেও মূল হোতারা নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে অসীম-গংয়ের ছত্রচ্ছায়ায় অধরাই থেকে যায়।
​আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন অপকর্মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসআই অসীমের মুখোমুখি হন এই প্রতিবেদক। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনুসন্ধানী অভিযোগের বিষয়ে সদুত্তর না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদককে রীতিমতো হুমকি প্রদান করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
​আইনশৃঙ্খলার আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে মহাখালীর সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে এএসআই অসীম ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
​(এএসআই অসীমের অর্থ লেনদেনের রসিদ, শাকিল-শিরিন চক্রের নেপথ্যের মদদদাতা এবং সাততলা ফাঁড়ির আরও অজানা তথ্য নিয়ে চোখ রাখুন আগামী পর্বে…)