কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর সরসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ফিরোজ আহম্মদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দোকান বরাদ্দ, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজ আহম্মদ সেক্রেটারি পদে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জাকের মার্কেটসহ অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক মার্কেটে নামে-বেনামে একাধিক অবৈধ দোকান বসান। পরবর্তীতে এসব দোকান সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লোকবল ব্যবহার করে উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মালামাল সরিয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, তিনি বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে মিলে তার কথিত অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি নিয়মিত বিএনপি কার্যালয়ে যাতায়াত করেন।
জুলাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততার মামলা
গত জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে লোকবল ও অর্থ দিয়ে আন্দোলন দমনে সরাসরি সহযোগিতা করার অভিযোগে ফিরোজ আহম্মদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে অর্থায়ন ও সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এই নেতার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রাজধানীর রমনা থানার ঠিক সামনে অবস্থিত ‘হোটেল মেরিনা’সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার একাধিক বেনামি ব্যবসা পরিচালনার তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এসব আর্থিক অনিয়ম, কথিত অবৈধ উচ্ছেদ বাণিজ্য এবং জুলাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















