উত্তরা ব্যাংক পিএলসির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আরিফুল ইসলামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ এমপ্লয়ীজ ফেডারেশনের উদ্যোগে বিডিবিএল ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেইনিং এজেন্ট)-এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জিয়া পরিষদ ও অফিসার্স কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-নেতারাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা যেন সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হন, সে জন্য সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরিফুল ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হামলার শিকার উত্তরা ব্যাংক পিএলসির গোপীনাথপুর ইউনিয়ন শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পিংলু পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, গত ৬ জুলাই সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর বাজারে দুর্বৃত্তের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নোয়ামোড়া গ্রামের মো. আলী হোসেন (৪৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। হামলার পর স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আলী হোসেন পলাতক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আরিফুল ইসলাম ও অভিযুক্ত আলী হোসেন গোপীনাথপুরে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। এছাড়া আলী হোসেন উত্তরা ব্যাংক থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব বিরোধ কিংবা ঋণসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ৬ জুলাই রাত থেকেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। পূর্ব বিরোধ এবং আলী হোসেনের উত্তরা ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ—উভয় বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে চলছে। পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল।
এদিকে আরিফুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাত দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও নিন্দা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাত দিনের কর্মসূচির শেষ দিন ছিল ২৩ জুলাই।
কর্মসূচির শেষ দিনেই পুলিশের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনুমানিক রাত ১টার দিকে রাজধানীর শনিআকড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
সংবাদ শিরোনাম ::
আরিফুল ইসলাম হত্যা
বাংলাদেশ এমপ্লয়ীজ ফেডারেশনের মানববন্ধন, সাত দিনের কর্মসূচি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৭:১৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ



















