ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা নারকোটিক্সের সার্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

আত্রাইয়ে সরকারি কৃষি কোয়ার্টারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় ধ্বংসের মুখে

আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ): নওগাঁর আত্রাইয়ে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত সরকারি কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, সংস্কারের উদ্যোগ না থাকা এবং তদারকির দুর্বলতায় এসব সরকারি স্থাপনা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ১ টি কোয়ার্টার সংস্কার করা হয়েছে। বাকি ৭ টিই ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে জেলা অফিসে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ মেলেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এই ভবনগুলো কর্মকর্তাদের আবাস, বীজ সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘ দিন কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে। কোনোটির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ভবনের ভেতরে রাখা হচ্ছে গবাদিপশু। এমনকি ভবনের চারপাশের সরকারি জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে গাছপালা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ বলেন, “সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ঘর তোলা হয়েছে, অথচ প্রশাসন নীরব। সাধারণ মানুষ এসব সরকারি সম্পত্তিকে নিজেদের মনে করে ব্যবহার করছে। দ্রুত এগুলো দখলমুক্ত করা জরুরি।”

উদয়পুর গ্রামের কিসমত হায়াত আক্ষেপ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়নে না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পরামর্শ পাচ্ছেন না। আগে কর্মকর্তারা ইউনিয়নে থাকলেও এখন সব কার্যক্রম উপজেলা সদর থেকে পরিচালিত হয়। ফলে মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মথুরাবাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম জানান, অনেক কৃষকই জানেন না যে ইউনিয়নে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অফিস বা ভবন রয়েছে। ভবনগুলো সংস্কার করে কার্যক্রম চালু করলে সাধারণ কৃষকদের অনেক উপকার হতো।

এ বিষয়ে কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভবনগুলো বসবাসের অযোগ্য ও জরাজীর্ণ হওয়ায় দাপ্তরিক কাজ চালানো অসম্ভব। বাধ্য হয়েই তাদের উপজেলা সদর থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সরকারি জমি যাতে বেদখল না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ

আত্রাইয়ে সরকারি কৃষি কোয়ার্টারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় ধ্বংসের মুখে

আপডেট সময় ১২:১৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ): নওগাঁর আত্রাইয়ে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত সরকারি কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, সংস্কারের উদ্যোগ না থাকা এবং তদারকির দুর্বলতায় এসব সরকারি স্থাপনা এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ১ টি কোয়ার্টার সংস্কার করা হয়েছে। বাকি ৭ টিই ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে জেলা অফিসে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ মেলেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এই ভবনগুলো কর্মকর্তাদের আবাস, বীজ সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘ দিন কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ। অনেক ভবনের দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে। কোনোটির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ভবনের ভেতরে রাখা হচ্ছে গবাদিপশু। এমনকি ভবনের চারপাশের সরকারি জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে গাছপালা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলার ঘোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ বলেন, “সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ঘর তোলা হয়েছে, অথচ প্রশাসন নীরব। সাধারণ মানুষ এসব সরকারি সম্পত্তিকে নিজেদের মনে করে ব্যবহার করছে। দ্রুত এগুলো দখলমুক্ত করা জরুরি।”

উদয়পুর গ্রামের কিসমত হায়াত আক্ষেপ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়নে না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পরামর্শ পাচ্ছেন না। আগে কর্মকর্তারা ইউনিয়নে থাকলেও এখন সব কার্যক্রম উপজেলা সদর থেকে পরিচালিত হয়। ফলে মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মথুরাবাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম জানান, অনেক কৃষকই জানেন না যে ইউনিয়নে তাদের জন্য নির্দিষ্ট অফিস বা ভবন রয়েছে। ভবনগুলো সংস্কার করে কার্যক্রম চালু করলে সাধারণ কৃষকদের অনেক উপকার হতো।

এ বিষয়ে কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভবনগুলো বসবাসের অযোগ্য ও জরাজীর্ণ হওয়ায় দাপ্তরিক কাজ চালানো অসম্ভব। বাধ্য হয়েই তাদের উপজেলা সদর থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সরকারি জমি যাতে বেদখল না হয়, সে বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।