মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কর্মসংস্থান ব্যাংক শাখায় ঋণ বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. সাঈদ যোগদানের পর থেকেই ঋণ বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত বেকার ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা পেয়েছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব নিয়মবহির্ভূত ঋণের একটি বড় অংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শাখা ব্যবস্থাপক মো. সাঈদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না।
তবে তথ্য গোচরে না আনার বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল করিম। তিনি জানান, “আইন অনুযায়ী শাখা ব্যবস্থাপক নিজেই সংশ্লিষ্ট শাখার তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা। তাই যে তথ্যগুলো প্রকাশযোগ্য, তা সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকেরই সরবরাহ করা উচিত।”
অন্যদিকে, এ বিষয়ে কর্মসংস্থান ব্যাংকের কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (রিজিওনাল ম্যানেজার) জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে নিয়ম অনুযায়ী তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করে তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।
সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের মূল লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে গাংনী শাখার ঋণ বিতরণ কার্যক্রম, খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র এবং ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গাংনী (মেহেরপুর) 























