ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকটকার লিটন ও লেবু মিয়ার চুল কেটে দিল জনতা মাদলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেল জব্দ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যার্তদের পাশে ৫২ বিজিবি: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ : হাসনাত আবদুল্লাহ কালুখালীতে দিনব্যাপী পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে পুরুষদের জন্য বড় সতর্কবার্তা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে নীলফামারীর শিক্ষার্থীদের সমর্থন
প্রতারণার জালে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী

বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র অতিরিক্ত মহাপরিচাল কর্মসংস্থানের দপ্তরে কর্মরত এক অফিস সহায়কের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে দাপুটে সিন্ডিকেট। অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে অবৈধ চুক্তি, জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড জালিয়াতি, অবৈধ বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ দপ্তরের এমন কোনো কাজ নেই যা এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখান সিন্ডিকেটের মূলহোতা শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।

পদে অফিস সহায়ক হলেও অর্থ-বিত্তে নূর-এ-আলম এখন কোটিপতি। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সাবেক ডিজি শহিদুল আলমের হাত ধরে বিএমইটিতে প্রবেশ করে ক্ষমতার দাপট বিস্তার করেই চলেছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায় বিএমইটিতে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলম। এর কিছুদিনের মধ্যেই “মানি টু সাকসেস ফাইল” এই হিসাবটা বুঝতে তার দেরি হয়নি।

অবৈধ টাকার জোরে ফাইল চালাচালি,বর্তমান পরিচালক বহির্গমন তাজিম-উর-রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা — সব মিলিয়ে দ্রুতই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সময়কার সাবেক ডিজি শহিদুল আলমের বিশ্বস্ত সহচর হয়ে ওঠেন এই নূর-এ-আলম।

এরপর তার কাঁধে ভর করে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে জাল ভিসা, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড পাইয়ে দেওয়া, অবৈধ বদলি বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

এখানেই থেমে থাকেননি নূর-এ-আলম। সাবেক ডিজি শহিদুল আলমকে দিয়ে পুরস্কার হিসেবে অবৈধভাবে কর্মচারী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে খুব অল্প দিনেই কোটিপতি বনে গেছেন নূর-এ-আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান,
“শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আমাদের অভিযোগের কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। আমাদের মনে হয় কোনো অসাধু কর্মকর্তা অভিযোগের ফাইল গায়েব করে দেন। যদি তা না হয়, তাহলে অভিযোগের তদন্ত হয় না কেন?”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান,
“আমার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অফিস সহায়ক শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বক্তব্য নিতে গেলে অতিরিক্ত মহাপরিচালক, কর্মসংস্থানের দপ্তরে তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকটকার লিটন ও লেবু মিয়ার চুল কেটে দিল জনতা

প্রতারণার জালে কয়েক হাজার ভুক্তভোগী

বিএমইটিতে নূর-এ-আলমকে ঘিরে দাপুটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র অতিরিক্ত মহাপরিচাল কর্মসংস্থানের দপ্তরে কর্মরত এক অফিস সহায়কের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে দাপুটে সিন্ডিকেট। অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে অবৈধ চুক্তি, জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড জালিয়াতি, অবৈধ বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ দপ্তরের এমন কোনো কাজ নেই যা এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখান সিন্ডিকেটের মূলহোতা শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।

পদে অফিস সহায়ক হলেও অর্থ-বিত্তে নূর-এ-আলম এখন কোটিপতি। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সাবেক ডিজি শহিদুল আলমের হাত ধরে বিএমইটিতে প্রবেশ করে ক্ষমতার দাপট বিস্তার করেই চলেছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায় বিএমইটিতে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলম। এর কিছুদিনের মধ্যেই “মানি টু সাকসেস ফাইল” এই হিসাবটা বুঝতে তার দেরি হয়নি।

অবৈধ টাকার জোরে ফাইল চালাচালি,বর্তমান পরিচালক বহির্গমন তাজিম-উর-রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে জনপ্রিয়তা — সব মিলিয়ে দ্রুতই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সময়কার সাবেক ডিজি শহিদুল আলমের বিশ্বস্ত সহচর হয়ে ওঠেন এই নূর-এ-আলম।

এরপর তার কাঁধে ভর করে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে জাল ভিসা, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড পাইয়ে দেওয়া, অবৈধ বদলি বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

এখানেই থেমে থাকেননি নূর-এ-আলম। সাবেক ডিজি শহিদুল আলমকে দিয়ে পুরস্কার হিসেবে অবৈধভাবে কর্মচারী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে খুব অল্প দিনেই কোটিপতি বনে গেছেন নূর-এ-আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান,
“শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আমাদের অভিযোগের কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। আমাদের মনে হয় কোনো অসাধু কর্মকর্তা অভিযোগের ফাইল গায়েব করে দেন। যদি তা না হয়, তাহলে অভিযোগের তদন্ত হয় না কেন?”

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান,
“আমার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অফিস সহায়ক শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বক্তব্য নিতে গেলে অতিরিক্ত মহাপরিচালক, কর্মসংস্থানের দপ্তরে তাকে পাওয়া যায়নি।