ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী বরখাস্ত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সমবায় কর্মকর্তা আফজালের অনিয়ম-দুর্নীতি দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ মেহেরপুর খাদ্য গুদামে বোরো সংগ্রহে অনিয়ম, ওসিএলএসডি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গাইবান্ধায় হাসপাতালের ঠিকাদারের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ
হাসিনা সরকারের আস্থাভাজন (৫ম পর্বের প্রথম পর্ব)

সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি

বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ গুরুতর একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি অডিটর জেনারেলের মতো স্পর্শকাতর সাংবিধানিক পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।
২৬ জুলাই ২০২৩ সালে নিয়োগ পেলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ২০২১-২২ সালের একটি পুরোনো অডিট রিপোর্টকে বর্তমান সিএজি নিজের নামে নতুন করে উপস্থাপন করে বিগত সরকারকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান ও সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। এছাড়া অন্তর্র্বতীকালীন সরকার সাবেক স্বৈরাচার সরকারের অর্থপাচার ও রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প থেকে অর্থ পাচারের জবাবদিহি করতে তার সময়ের অডিট রিপোর্ট চাইলে ১ জানুয়ারি ২০২৫ একটি বিশেষ আদেশ জারি করে ৭ টি কমিটি গঠন করে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে একটি মিথ্যা অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আর্থিক অনিয়মসমূহ অডিট রিপোর্ট থেকে সুকৌশলে গোপন করা হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের বিষয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষ অডিট না করে, তড়িঘড়ি করে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল বিগত সরকারের পক্ষে একটি সুবিধাজনক ও দায়মুক্তির রিপোর্ট তৈরি করা, যা তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে রাশিয়ান কোম্পানি রোসাটমের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের দায়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর ব্রিটিশ সংসদের মন্ত্রিত্ব হারালেও অডিটর জেনারেল তার স্বপদে বহাল রয়েছেন নুরুল ইসলাম।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, সিএজি হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনি রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাপক তদবির করেছিলেন। পদে বসার পর তিনি অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিককরণ করেন। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়। বিগত সরকারের শীর্ষ মহলের সুনজরে থাকতে তিনি সরকারি অর্থ ব্যয়ে শেখ পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, ম্যুরাল নির্মাণ, টুঙ্গিপাড়া সফর ও প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত চারমাসের অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি যাচাই করে দেখা যায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খুনের দায়ে কোর্টমার্শলে ফাঁসি হওয়া কর্নেল নওয়াজেশের মেয়ে, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ এর জিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর আজীবন সদস্য এর মেয়ে পদোন্নতি পেয়েছে। এছাড়া গতমাসে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুণ্ডুর স্ত্রীকে সপরিবারে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন এই অডিটর জেনারেল। পাশাপশি বঙ্গবন্ধুর উপর ৪টি বই লেখা রাজস্ব অডিটের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পত্র প্রেরণ করলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে তার দায়মুক্তির পথ সুগম করেছেন।
এছাড়া, তিনি নিজের ভাই, মামাতো ভাই, ভগ্নিপতি ও নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদায়ন ও প্রভাবশালী অবস্থানে বসিয়েছেন। অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিজস্ব আত্মীয় ও অনুগত লোকদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী ‘প্রভাববলয়’ গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের নামে নিয়মিত মোটা অঙ্কের কমিশন ও ঘুষ আদায় করা হতো। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বিদেশ সফরের একচেটিয়া সুযোগ দিয়ে পুরো বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার দীর্ঘ তালিকাও (পৃষ্ঠা ৫ু৮) এখন প্রকাশ্যে।
চলতি অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারের একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের সঙ্গে সিএজি-র সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এমনকি রেলওয়ের একটি বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শিথিল ও ধামাচাপা দিতে তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি গোপন যোগাযোগ বজায় রাখতেন, যা বর্তমানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অর্থপাচারে সহায়তা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং দেশেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। চাপের মুখে পড়ে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করার মৌখিক আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে পদত্যাগ না করে কৌশলগতভাবে আত্মগোপনে চলে যান।
ঐ দপ্তরে থাকা দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ৮ জুন অডিটর জেনারেলের ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের বিষয় গণমাধ্যমে আসায় সে সফর বাতিল করে গোপনে অফিস আদেশ লুকিয়ে বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে আছেন। এতে করে বিদেশে থাকা আওয়ামীলীগের ঊর্ধ্বতনদের সাথে তার গোপন সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তার দপ্তরে চাউর হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশন অডিট, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারী প্রশাসন চালানো এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঝ আকাশে ভেঙে গেল বিমানের জানালা, স্বামীকে বাঁচাতে যা করলেন স্ত্রী

হাসিনা সরকারের আস্থাভাজন (৫ম পর্বের প্রথম পর্ব)

সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি

আপডেট সময় ০৩:১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ গুরুতর একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি অডিটর জেনারেলের মতো স্পর্শকাতর সাংবিধানিক পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।
২৬ জুলাই ২০২৩ সালে নিয়োগ পেলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ২০২১-২২ সালের একটি পুরোনো অডিট রিপোর্টকে বর্তমান সিএজি নিজের নামে নতুন করে উপস্থাপন করে বিগত সরকারকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান ও সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। এছাড়া অন্তর্র্বতীকালীন সরকার সাবেক স্বৈরাচার সরকারের অর্থপাচার ও রাষ্ট্রীয় মেগা প্রকল্প থেকে অর্থ পাচারের জবাবদিহি করতে তার সময়ের অডিট রিপোর্ট চাইলে ১ জানুয়ারি ২০২৫ একটি বিশেষ আদেশ জারি করে ৭ টি কমিটি গঠন করে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে একটি মিথ্যা অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আর্থিক অনিয়মসমূহ অডিট রিপোর্ট থেকে সুকৌশলে গোপন করা হয়।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের বিষয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষ অডিট না করে, তড়িঘড়ি করে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল বিগত সরকারের পক্ষে একটি সুবিধাজনক ও দায়মুক্তির রিপোর্ট তৈরি করা, যা তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে রাশিয়ান কোম্পানি রোসাটমের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের দায়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর ব্রিটিশ সংসদের মন্ত্রিত্ব হারালেও অডিটর জেনারেল তার স্বপদে বহাল রয়েছেন নুরুল ইসলাম।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, সিএজি হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনি রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাপক তদবির করেছিলেন। পদে বসার পর তিনি অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিককরণ করেন। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেছে বেছে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়। বিগত সরকারের শীর্ষ মহলের সুনজরে থাকতে তিনি সরকারি অর্থ ব্যয়ে শেখ পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, ম্যুরাল নির্মাণ, টুঙ্গিপাড়া সফর ও প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত চারমাসের অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি যাচাই করে দেখা যায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খুনের দায়ে কোর্টমার্শলে ফাঁসি হওয়া কর্নেল নওয়াজেশের মেয়ে, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ এর জিএস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর আজীবন সদস্য এর মেয়ে পদোন্নতি পেয়েছে। এছাড়া গতমাসে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুণ্ডুর স্ত্রীকে সপরিবারে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন এই অডিটর জেনারেল। পাশাপশি বঙ্গবন্ধুর উপর ৪টি বই লেখা রাজস্ব অডিটের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পত্র প্রেরণ করলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে তার দায়মুক্তির পথ সুগম করেছেন।
এছাড়া, তিনি নিজের ভাই, মামাতো ভাই, ভগ্নিপতি ও নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদায়ন ও প্রভাবশালী অবস্থানে বসিয়েছেন। অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিজস্ব আত্মীয় ও অনুগত লোকদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ দিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী ‘প্রভাববলয়’ গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের নামে নিয়মিত মোটা অঙ্কের কমিশন ও ঘুষ আদায় করা হতো। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বিদেশ সফরের একচেটিয়া সুযোগ দিয়ে পুরো বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার দীর্ঘ তালিকাও (পৃষ্ঠা ৫ু৮) এখন প্রকাশ্যে।
চলতি অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারের একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারি বাণিজ্যের সঙ্গে সিএজি-র সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এমনকি রেলওয়ের একটি বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা শিথিল ও ধামাচাপা দিতে তিনি নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি গোপন যোগাযোগ বজায় রাখতেন, যা বর্তমানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অর্থপাচারে সহায়তা করার পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং দেশেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। চাপের মুখে পড়ে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করার মৌখিক আশ্বাস দিলেও, পরবর্তীতে পদত্যাগ না করে কৌশলগতভাবে আত্মগোপনে চলে যান।
ঐ দপ্তরে থাকা দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ৮ জুন অডিটর জেনারেলের ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের বিষয় গণমাধ্যমে আসায় সে সফর বাতিল করে গোপনে অফিস আদেশ লুকিয়ে বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে আছেন। এতে করে বিদেশে থাকা আওয়ামীলীগের ঊর্ধ্বতনদের সাথে তার গোপন সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তার দপ্তরে চাউর হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশন অডিট, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারী প্রশাসন চালানো এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।