ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ সিএজি নুরুল ইসলামের অর্থপাচার ও দুর্নীতি মেহেরপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ মেহেরপুর খাদ্য গুদামে বোরো সংগ্রহে অনিয়ম, ওসিএলএসডি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গাইবান্ধায় হাসপাতালের ঠিকাদারের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সে ৯.০৭ কোটি টাকার নিরীক্ষা-অসঙ্গতি কাজ না করেই ৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অজিতকে সিইও নিয়োগের উদ্যোগে বিতর্কে যমুনা লাইফ!

কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

সাতক্ষীরার কলারোয়া কৃষি ব্যাংক শাখায় কৃষিঋণ বিতরণে অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে এসে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের চার সদস্যের একটি তদন্ত দলের বিরুদ্ধে। তদন্তের নামে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

জানা গেছে, কলারোয়া কৃষি ব্যাংক শাখার ঋণগ্রহীতা কৃষকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি দেশের ১০ থেকে ১২টি জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রিন্ট মিডিয়ায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল সোমবার (১৩ জুলাই) দ্বিতীয় দফায় ব্যাংকটিতে তদন্তে আসে।

তদন্ত দলে ছিলেন বিভাগীয় কার্যালয়ের ডিজিএম ফয়সাল, এজিএম জলিলসহ চার কর্মকর্তা। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলাকালে তারা কোনো ভুক্তভোগী গ্রাহক, অভিযোগকারী কিংবা কৃষকের বক্তব্য গ্রহণ করেননি। অভিযোগকারীরা ব্যাংকে উপস্থিত থাকলেও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে সম্পন্ন। প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটনের পরিবর্তে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও গ্রাহকরা।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনার চেয়ে আপ্যায়ন ও ভোজনেই বেশি সময় ব্যয় করেছেন। তাদের ভাষায়, “এটি কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছিল না; বরং দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার একটি আইওয়াশ।”

অভিযোগ রয়েছে, এ তদন্তকে প্রভাবিত করার নেপথ্যে ছিলেন বিভাগীয় কার্যালয়ের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এস এম এ কাইয়ূম এবং কলারোয়া শাখার ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন। তাদের যোগসাজশেই অভিযোগকারীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় কার্যালয় বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের দায়সারা তদন্ত চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে এবং কৃষকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা-রেলের আনিসুরপ্রীতির অভিযোগ

কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার কলারোয়া কৃষি ব্যাংক শাখায় কৃষিঋণ বিতরণে অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে এসে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের চার সদস্যের একটি তদন্ত দলের বিরুদ্ধে। তদন্তের নামে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

জানা গেছে, কলারোয়া কৃষি ব্যাংক শাখার ঋণগ্রহীতা কৃষকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি দেশের ১০ থেকে ১২টি জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রিন্ট মিডিয়ায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত দল সোমবার (১৩ জুলাই) দ্বিতীয় দফায় ব্যাংকটিতে তদন্তে আসে।

তদন্ত দলে ছিলেন বিভাগীয় কার্যালয়ের ডিজিএম ফয়সাল, এজিএম জলিলসহ চার কর্মকর্তা। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলাকালে তারা কোনো ভুক্তভোগী গ্রাহক, অভিযোগকারী কিংবা কৃষকের বক্তব্য গ্রহণ করেননি। অভিযোগকারীরা ব্যাংকে উপস্থিত থাকলেও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে সম্পন্ন। প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটনের পরিবর্তে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও গ্রাহকরা।

একাধিক অভিযোগকারী দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনার চেয়ে আপ্যায়ন ও ভোজনেই বেশি সময় ব্যয় করেছেন। তাদের ভাষায়, “এটি কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছিল না; বরং দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার একটি আইওয়াশ।”

অভিযোগ রয়েছে, এ তদন্তকে প্রভাবিত করার নেপথ্যে ছিলেন বিভাগীয় কার্যালয়ের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এস এম এ কাইয়ূম এবং কলারোয়া শাখার ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন। তাদের যোগসাজশেই অভিযোগকারীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় কার্যালয় বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের দায়সারা তদন্ত চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে এবং কৃষকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।