স্বাধীন নিরীক্ষকরা সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে প্রায় ৯ কোটি ৭ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করেছেন।
তাদের অনুসন্ধানে কোম্পানির প্রতিবেদনে দেখানো বিনিয়োগ, কর, অর্জিত সুদ, অগ্রিম এবং পরিচালন ব্যয়ের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে এসব অসঙ্গতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অনিয়মগুলোর মধ্যে নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে থাকা ১৮টি স্থায়ী আমানত রসিদ (এফডিআর)-এর ৯০ শতাংশের বিপরীতে **৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
ফলে কোম্পানিটি ওই এফডিআরগুলোর ওপর অর্জিত কোনো সুদ তাদের আর্থিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি।
তবে ব্যাংকের বিবরণীতে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা অর্জিত সুদ দেখানো হয়েছে। এ কারণে নিরীক্ষকদের মতে, কোম্পানির সম্পদের মূল্য একই পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে।
বেশিরভাগ অনিয়মই সহযোগী প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড -এর হিসাবে পাওয়া গেছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির জন্য যথাযথ স্থায়ী সম্পদ নিবন্ধন সংরক্ষণ করেনি।
নিরীক্ষকরা শেয়ার বিনিয়োগের হিসাবায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি আগের বছরের ৪৩ লাখ টাকা অবাস্তবায়িত লোকসান চলতি বছরের হিসাবে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার বিনিয়োগের বিপরীতে সমন্বয় করেছে এবং চলতি বছরে আরও ২৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবাস্তবায়িত লোকসান স্বীকৃতি দিয়েছে।
নিরীক্ষকদের মতে, আগের বছরের অবাস্তবায়িত লোকসান চলতি বছরের আয়-ব্যয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করায় চলতি বছরের লোকসান ৪৩ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে।
নিরীক্ষায় অগ্রিম আয়কর হিসাবেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
যেখানে ২০২৪ সালের সমাপনী স্থিতি ছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা সেখানে ২০২৫ সালের প্রারম্ভিক স্থিতি দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। ফলে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকার একটি অমীমাংসিত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। এ পার্থক্যের পক্ষে কোনো সহায়ক নথি কোম্পানি দিতে পারেনি বলে নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন।
“অ্যাডভান্স টু সিকিউরিটি হাউস” হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আর্থিক বিবরণীতে এ হিসাবের স্থিতি ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও, চলতি বছরে কোম্পানি ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লোকসান হিসেবে লিখে দিয়েছে।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে প্রকৃত স্থিতি ছিল মাত্র ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা।
নিরীক্ষকরা এফডিআরের অর্জিত সুদের হিসাবেও অসঙ্গতি শনাক্ত করেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, অর্জিত সুদ হওয়া উচিত ছিল ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, অথচ আর্থিক বিবরণীতে দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ফলে ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা বেশি দেখানো হয়েছে।
পর্যাপ্ত সহায়ক নথির অভাবে নিরীক্ষকরা গ্রাহকদের পাওনা ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং পরিশোধযোগ্য সাবস্ক্রিপশন বাবদ ৫ লাখ টাকা যাচাই করতে পারেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে—
* বেতন ও ভাতা: ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা
* তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিফোন ব্যয়: ১ লাখ ২১ হাজার টাকা
* মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়: ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা
* বিবিধ ব্যয়: ৮ লাখ টাকা
নিরীক্ষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, দুটি অগ্নি বীমা দাবি এবং একটি সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন (মেরিন কার্গো) বীমা দাবির সমন্বয় প্রিমিয়াম আয়ের সঙ্গে করা হয়েছে।
এ ছাড়া অবিতরিত লভ্যাংশের হিসাবেও একটি অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কোম্পানি বছরের শেষে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা অনাদায়ী বা অবিতরিত লভ্যাংশ দেখালেও, এ-সংক্রান্ত নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল মাত্র ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার একটি অমীমাংসিত ঘাটতি দেখা গেছে।
নিরীক্ষকদের মতে, অনাদায়ী লভ্যাংশ হিসাবের স্থিতি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের স্থিতির সঙ্গে মিল থাকা উচিত ছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















