ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) এর নির্বাচন ২০২৬-২৮ অনুষ্ঠিত গ্রেডভিত্তিক বিভাজন শিক্ষার্থীদের মানসিক কারাগারে বন্দি করে: তথ্যমন্ত্রী ভোটের ২৫ দিন আগেই চূড়ান্ত হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ভোটকেন্দ্র বাবার দাফনের পর প্রথমবার মুখ খুললেন মোজতবা বাঞ্ছারামপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিমানে শাজাহান-শামিমা দম্পতির বিরুদ্ধে দাপটের অভিযোগ ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলাকে ‘অবাস্তব অনুভূতি’ বললেন হ্যারি কেইন প্রকল্পের নির্মাণ শুরুর আগেই পরামর্শে ২৩১ কোটি টাকার ব্যয়

বাঞ্ছারামপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্বাস আলী চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আজিজুল ইসলাম নামের এক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুয়া নিয়োগপত্র বানিয়ে কুমিল্লা সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগদান করার জন্য পাঠানো হয়। কুমিল্লা সাউথইস্ট ব্যাংকের শাখায় আজিজুল যোগদান করার জন্য গেলে কর্তব্যরত ম্যানেজার বলেন, উক্ত নিয়োগপত্রটি ভুয়া।

ডেমরার বুশরাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আব্বাস আলী। আজও চাকরির কোনো হদিস পায়নি বুশরা। বুশরার বাবা মনির হোসেন বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আব্বাসের হাতে টাকা তুলে দিই। নিজের ভিটেবাড়ি বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে আব্বাসের হাতে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে আজ আমি পথে পথে ঘুরছি।

ঢাকার মতিঝিলে আব্বাসের একটি দালাল চক্র রয়েছে। যারা বিভিন্ন ব্যাংকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। তারা অসহায় মানুষকে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে যোগদান করার জন্য বলে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করলে দেখা যায়, নিয়োগপত্রটি ভুয়া। এভাবেই অসংখ্য সহজ-সরল মানুষ তার কাছে প্রতারিত হচ্ছেন। এভাবে অনেক লোককে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

বিভিন্ন পত্রিকা থেকে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সুন্দরী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে লুটে নেয় সর্বস্ব। সে এতই ভয়ংকর যে চাকরি দেওয়ার নাম করে মেয়েদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা, আর লুটে নেয় ইজ্জত।

বিগত ১৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখে আব্বাস উদ্দিনের কাছ থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ওমর খালেদ রুমি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। অভিযোগকারী ওমর খালেদ রুমি বলেন, আব্বাস উদ্দিন আমার কাছ থেকে ২০২০ সালে আমার ভাতিজাকে সাউথইস্ট ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৭ লাখ টাকা নেয়। আজও পর্যন্ত চাকরি দেয়নি, টাকাও ফেরত দেয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দিন বলেন, “আমি কয়েকজন ব্যক্তিকে সহযোগিতা করার জন্য চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটা কোনো দোষের কিছু না। আপনারা যা শুনেছেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়।
অভিযোগকারী ভুক্তভোগীরা প্রতারক আব্বাস উদ্দিনের দুর্নীতির তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল

বাঞ্ছারামপুর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্বাস আলী চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে আজিজুল ইসলাম নামের এক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুয়া নিয়োগপত্র বানিয়ে কুমিল্লা সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগদান করার জন্য পাঠানো হয়। কুমিল্লা সাউথইস্ট ব্যাংকের শাখায় আজিজুল যোগদান করার জন্য গেলে কর্তব্যরত ম্যানেজার বলেন, উক্ত নিয়োগপত্রটি ভুয়া।

ডেমরার বুশরাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আব্বাস আলী। আজও চাকরির কোনো হদিস পায়নি বুশরা। বুশরার বাবা মনির হোসেন বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আব্বাসের হাতে টাকা তুলে দিই। নিজের ভিটেবাড়ি বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করে আব্বাসের হাতে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে আজ আমি পথে পথে ঘুরছি।

ঢাকার মতিঝিলে আব্বাসের একটি দালাল চক্র রয়েছে। যারা বিভিন্ন ব্যাংকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। তারা অসহায় মানুষকে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে যোগদান করার জন্য বলে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করলে দেখা যায়, নিয়োগপত্রটি ভুয়া। এভাবেই অসংখ্য সহজ-সরল মানুষ তার কাছে প্রতারিত হচ্ছেন। এভাবে অনেক লোককে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

বিভিন্ন পত্রিকা থেকে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সুন্দরী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে লুটে নেয় সর্বস্ব। সে এতই ভয়ংকর যে চাকরি দেওয়ার নাম করে মেয়েদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা, আর লুটে নেয় ইজ্জত।

বিগত ১৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখে আব্বাস উদ্দিনের কাছ থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ওমর খালেদ রুমি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। অভিযোগকারী ওমর খালেদ রুমি বলেন, আব্বাস উদ্দিন আমার কাছ থেকে ২০২০ সালে আমার ভাতিজাকে সাউথইস্ট ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৭ লাখ টাকা নেয়। আজও পর্যন্ত চাকরি দেয়নি, টাকাও ফেরত দেয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দিন বলেন, “আমি কয়েকজন ব্যক্তিকে সহযোগিতা করার জন্য চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটা কোনো দোষের কিছু না। আপনারা যা শুনেছেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়।
অভিযোগকারী ভুক্তভোগীরা প্রতারক আব্বাস উদ্দিনের দুর্নীতির তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।