ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিমানে শাজাহান-শামিমা দম্পতির বিরুদ্ধে দাপটের অভিযোগ ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলাকে ‘অবাস্তব অনুভূতি’ বললেন হ্যারি কেইন প্রকল্পের নির্মাণ শুরুর আগেই পরামর্শে ২৩১ কোটি টাকার ব্যয় দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার্থীরা আলোকিত হতে পারে না: রিজভী শিল্পায়ন হবে, তবে পরিবেশের ক্ষতি করে নয়: পরিবেশমন্ত্রী দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা এমইপি গ্রুপের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইলেকট্রিশিয়ানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ব্রির হাসান আলীকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় গোপালগঞ্জে কুরিয়ার থেকে ৭১ হাজার পিস নকল সিগারেট জব্দ নীলফামারীতে গভীর রাতে নারীসহ আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত যুবক আটক

ব্রির হাসান আলীকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি/BRRI) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং কৃষি গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা দীর্ঘদিনের। তবে গবেষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঘুষ ও দূর্নীতির টাকায় গড়েছে সম্পদের পাহাড়, তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ হাসান আলীর নাম। বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
মোঃ হাসান আলী ব্রির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই বিভাগ সাধারণত ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলন, দরপত্র প্রস্তুতি, কারিগরি মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইমারত বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, এই সুযোগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ব্রির বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদার মাহবুবুল আলম রিপনের মালিকানাধীন মেসার্স সুমি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন এবং ঠিকাদার মোঃ সেলিমের মালিকানাধীন মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ গত কয়েক বছরে একাধিক কাজ পেয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দরপত্রের তথ্য আগাম জানানো, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে e-GP ব্যবস্থার মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দরপত্র নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও কার্যাদেশ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
অভিযোগের আরেকটি অংশ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের বিল-ভাউচার নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু প্রকল্পে কাজের পরিমাণ, ব্যয় এবং বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল বা কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত অডিট রিপোর্ট, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকল্পের হিসাব, পরিমাপ বই (Measurement Book), বিল যাচাই এবং অডিট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা সম্ভব।
মোঃ হাসান আলীকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কিত। অভিযোগকারীদের দাবি, মহাপরিচালকের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু সূত্রের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদন, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক অস্থিরতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামানের দায়িত্বকাল এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ড. মো. খালেকুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি নীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর মধ্যে প্লাম্বার পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে।
অভিযোগ ছিল, সুজা মিয়া নামে এক ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও নিয়োগপত্র পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তাকে আটক করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, নিয়োগের জন্য তিনি অর্থ দিয়েছেন। তবে তিনি কার কাছে অর্থ দিয়েছেন তা প্রকাশ করেননি বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ওই ঘটনায় মোঃ হাসান আলীর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ব্রির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও অভিযোগ ছিল যে, কিছু নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা যথাযথ ছিল না। বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি নীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিনের বিভাগভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য পদ্ধতিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আইনি নোটিশও দিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ নিয়েও ওই সময় আলোচনা হয়। কৃষি শ্রমিকদের একটি অংশ ওভারটাইম বন্ধ হওয়া এবং বহিরাগত শ্রমিক ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ওভারটাইম ব্যবস্থা পরিবর্তনের ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, টেন্ডার, নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র নথি প্রকাশ, নিয়মিত অডিট, কার্যক্রমের জবাবদিহিতা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রির মতো জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা শুধু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি দেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানে শাজাহান-শামিমা দম্পতির বিরুদ্ধে দাপটের অভিযোগ

ব্রির হাসান আলীকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট সময় ০৪:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি/BRRI) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং কৃষি গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা দীর্ঘদিনের। তবে গবেষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঘুষ ও দূর্নীতির টাকায় গড়েছে সম্পদের পাহাড়, তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ হাসান আলীর নাম। বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায়, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
মোঃ হাসান আলী ব্রির ইমারত ও নির্মাণ বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই বিভাগ সাধারণত ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রকল্পের কারিগরি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলন, দরপত্র প্রস্তুতি, কারিগরি মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইমারত বিভাগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, এই সুযোগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ব্রির বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদার মাহবুবুল আলম রিপনের মালিকানাধীন মেসার্স সুমি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন এবং ঠিকাদার মোঃ সেলিমের মালিকানাধীন মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ গত কয়েক বছরে একাধিক কাজ পেয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দরপত্রের তথ্য আগাম জানানো, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে e-GP ব্যবস্থার মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে এই প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দরপত্র নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও কার্যাদেশ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
অভিযোগের আরেকটি অংশ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের বিল-ভাউচার নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু প্রকল্পে কাজের পরিমাণ, ব্যয় এবং বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল বা কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত অডিট রিপোর্ট, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকল্পের হিসাব, পরিমাপ বই (Measurement Book), বিল যাচাই এবং অডিট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা সম্ভব।
মোঃ হাসান আলীকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কিত। অভিযোগকারীদের দাবি, মহাপরিচালকের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু সূত্রের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদন, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক অস্থিরতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামানের দায়িত্বকাল এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ড. মো. খালেকুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি নীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর মধ্যে প্লাম্বার পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ঘটনাও আলোচনায় আসে।
অভিযোগ ছিল, সুজা মিয়া নামে এক ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও নিয়োগপত্র পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তাকে আটক করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, নিয়োগের জন্য তিনি অর্থ দিয়েছেন। তবে তিনি কার কাছে অর্থ দিয়েছেন তা প্রকাশ করেননি বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ওই ঘটনায় মোঃ হাসান আলীর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণিত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ব্রির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও অভিযোগ ছিল যে, কিছু নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা যথাযথ ছিল না। বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি নীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিনের বিভাগভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য পদ্ধতিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আইনি নোটিশও দিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ নিয়েও ওই সময় আলোচনা হয়। কৃষি শ্রমিকদের একটি অংশ ওভারটাইম বন্ধ হওয়া এবং বহিরাগত শ্রমিক ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ওভারটাইম ব্যবস্থা পরিবর্তনের ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, টেন্ডার, নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র নথি প্রকাশ, নিয়মিত অডিট, কার্যক্রমের জবাবদিহিতা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রির মতো জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা শুধু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি দেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।