বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২৫ জুন বৃহস্পতিবার বরগুনা সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইবুনাল-১ আদালতে দূর্নীতি দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন একই ইউনিয়নের অপর এক ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ। মামলাটি আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান আমলে নিয়ে আগামী ০৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন পটুয়াখালীকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামি মো. ফজলুল হক বাচ্চু কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান। মামলার বাদী মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীতে জাটকা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের জেলেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চলতি বছরের ৩ মার্চ ও ২ এপ্রিল জারি করা পৃথক দুটি স্মারকে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে এই চার মাসের জন্য মোট ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণের দায়িত্ব লিখিতভাবে দেওয়া হয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুকে। পরে গত ১০ এপ্রিল ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলের মাঝে ৮০ কেজি করে মোট ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মামলায় বাদী আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হয়েও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য গত ২২ এপ্রিল বরগুনা জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক এবং পটুয়াখালী সমন্বিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে গত ৪ জুন দুদকের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মামলার আসামি মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা চাল আত্মসাতের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি, নিয়ম মেনেই সব বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, “সরকারি চাল আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন পটুয়াখালীকে আগামী তিন সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং অপরাধী আইনের আওতায় আসবে।
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোটার 





















