এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন শিহাব হোসেন। অথচ তার এই সাফল্যে পরিবারের ঘরে নেই কোনো আনন্দ। কয়েক দিন আগেই ডাকাতিয়া নদীতে ডুবে প্রাণ হারানো একমাত্র সন্তানের ফল প্রকাশের দিনে শোকে কাতর বাবা-মা।
শিহাব হোসেন (১৮) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম শিপনের একমাত্র ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে যান শিহাব। একপর্যায়ে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর মধ্যেই প্রকাশিত হয় এসএসসি পরীক্ষার ফল। ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন শিহাব। সন্তানের এমন কৃতিত্বে যেখানে পরিবারের আনন্দে ভাসার কথা, সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিহাবের বাবা-মা বলেন, *“আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু আমরা এই আনন্দ কার সঙ্গে শেয়ার করব? ছেলে তো আমাদের মাঝে নেই।”*
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিহাব ছিলেন ভদ্র, মেধাবী ও সবার প্রিয়। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক ও সহপাঠীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকদের ভাষ্য, শিহাব ছিলেন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী। তার জিপিএ-৫ পাওয়া ছিল পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন তাকে পাশে না পাওয়ার বেদনা তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের জন্য আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
একমাত্র সন্তানের এমন সাফল্যের দিনে তাকে হারানোর শোক যেন আনন্দকেও ম্লান করে দিয়েছে। শিহাবের জিপিএ-৫ তাই পরিবারের কাছে এখন গর্বের পাশাপাশি এক গভীর বেদনার স্মৃতি।
আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লা 



















