রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে আইসিটি আইনে মামলা ও সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বজরুক সন্তোষপুর গ্রামের রওশন আরা বেগমসহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা গত প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। রাস্তা উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সম্প্রতি এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী রওশন আরা বেগমের মেয়ে উজালী বেগমের সঙ্গে বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে উজালী বেগমকে প্রশাসন বা আদালতের দ্বারস্থ হলে আইসিটি আইনে মামলা করে সাজা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী উজালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে সব সময় ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেড় থেকে দুই বছরের সাজা দেওয়ার কথা বলে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, তহশিলদার নুরুজ্জামান নুরুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি অপপ্রচার চালায়, আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কমিশনারকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমি বলেছি।
আইসিটি আইনে উপজেলা ভূমি কমিশনার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা দিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “হ্যাঁ, পারেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্যারকে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন সেবা গ্রহীতাকে আইনগত ব্যবস্থা ও সাজা দেওয়ার ভয় দেখানো কতটা বিধিসম্মত এবং একজন তহশিলদারের এ ধরনের বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি কী?
ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চলাচলের রাস্তা দ্রুত খুলে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে হুমকির অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি 





















