সংবাদ শিরোনাম ::
খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা ভাওরা হাই স্কুল এন্ড কলেজে মাদক বিরোধী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডা. মাহফুজ রায়হান আক্কেলের বদলিতে উদ্বিগ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউপির দুর্নীতি মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানের ৫ বছর, সচিবের ৩ বছর জেল জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ফরিদপুর জেলা ইউনিট অনুমোদিত  চীনে প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বাংলা‌দে‌শিদের জন্য দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই : শিক্ষামন্ত্রী মির্জাপুরের অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ই-য়াবাসহ তিন জন আ’টক মনোহরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মূলত নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই, সেটি শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নে কী করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে গতকাল সারাদেশের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যেসব মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল, সেগুলো মহামান্য আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। আজও একটি মামলার শুনানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করা হচ্ছে। সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো সেশনজট থাকবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রতিটি বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় কেন। তারা বলেছিলেন, কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন ফাঁস হলে অন্য বোর্ডগুলো অন্তত সুরক্ষিত থাকবে। এ কথা শুনে আমি অবাক হয়েছি। প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া হবে না। কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্ন ফাসে জড়িতদের এমন পানিশমেন্ট দেওয়া হবে সারাজীবন বাংলাদেশকে মনে রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, সিংহের মতো থাকবো। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করতে হবে। কোনো সেশনজট থাকবে না। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে দায়িত্ব পালনের জন্য। কেউ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা থাকতে দেওয়া হবে না।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল-২ আসনের এমপি এস এম সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

সভায় জানানো হয়- বরিশাল বিভাগের ১৫০টি কেন্দ্রে ৬০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৪১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মূলত নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই, সেটি শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা শিক্ষার মান উন্নয়নে কী করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে গতকাল সারাদেশের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যেসব মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল, সেগুলো মহামান্য আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। আজও একটি মামলার শুনানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করা হচ্ছে। সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো সেশনজট থাকবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রতিটি বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় কেন। তারা বলেছিলেন, কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন ফাঁস হলে অন্য বোর্ডগুলো অন্তত সুরক্ষিত থাকবে। এ কথা শুনে আমি অবাক হয়েছি। প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া হবে না। কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্ন ফাসে জড়িতদের এমন পানিশমেন্ট দেওয়া হবে সারাজীবন বাংলাদেশকে মনে রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, সিংহের মতো থাকবো। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করতে হবে। কোনো সেশনজট থাকবে না। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে দায়িত্ব পালনের জন্য। কেউ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা থাকতে দেওয়া হবে না।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল-২ আসনের এমপি এস এম সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

সভায় জানানো হয়- বরিশাল বিভাগের ১৫০টি কেন্দ্রে ৬০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।