সংবাদ শিরোনাম ::
তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে, কাজীর ভূমিকা ও ফৌজদারি অভিযোগ যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা? কুমিল্লা মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ পলাশে গাঁজার গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  পুলিশ সুপারের কালিয়াকৈর থানা বার্ষিক পরিদর্শন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ বৃক্ষরোপণ করে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের বনবিভাগের মালি বাউন্ডারি শহিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ভুয়া সনদে চাকরি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল

যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?

পশ্চিবঙ্গ বিধানসভায় মহাবিপর্যয়ের পর টালমাটাল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। বিধানসভা ও লোকসভায় ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন টিএমসি সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে থাকাকালীন শর্ত সাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা, এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী,একটি সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজ্যের নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে, এমন প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা এত দিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসাবে মানবেন? এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

প্রদেশের একটা অংশ মনে করছেন, মমতাকে দলে নেতার বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সময় মমতাকে সঙ্গে নেওয়ার অর্থ, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা।

অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলে।

আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সুর অধীরেরও। তিনি বলছেন, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাঁকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনায় নরম। তিনি বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে তাকে আগে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ।

আরেক প্রবীণ নেতা শুভঙ্কর বলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যারাই কংগ্রেসে আসবেন তাদের প্রত্যেককে স্বাগত। বস্তুত তৃণমূলে ভাঙন যত বাড়ছে, ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এক দিন আগে ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয়। পরপর দুই দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে, কাজীর ভূমিকা ও ফৌজদারি অভিযোগ

যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?

আপডেট সময় ০৬:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পশ্চিবঙ্গ বিধানসভায় মহাবিপর্যয়ের পর টালমাটাল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। বিধানসভা ও লোকসভায় ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন টিএমসি সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে থাকাকালীন শর্ত সাপেক্ষে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা, এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী,একটি সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেসের তরফ থেকে মমতাকে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজ্যের নেতৃত্ব কি আদৌ সেই সিদ্ধান্ত মানবে, এমন প্রশ্ন উঠেছে।

রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা এত দিন তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসাবে মানবেন? এ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

প্রদেশের একটা অংশ মনে করছেন, মমতাকে দলে নেতার বা এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ধরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সময় মমতাকে সঙ্গে নেওয়ার অর্থ, তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসনের দায় নিজেদের গায়ে মাখা।

অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা এই দলে।

আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সুর অধীরেরও। তিনি বলছেন, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাঁকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সুর তুলনায় নরম। তিনি বলছেন, যদি কেউ দলে আসতে চান, তাহলে তাকে আগে মেনে নিতে হবে যে রাহুল গান্ধীই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ।

আরেক প্রবীণ নেতা শুভঙ্কর বলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যারাই কংগ্রেসে আসবেন তাদের প্রত্যেককে স্বাগত। বস্তুত তৃণমূলে ভাঙন যত বাড়ছে, ততই যেন কংগ্রেসের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এক দিন আগে ১০ জনপথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দলের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠক হয়। পরপর দুই দিন দুই দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাদের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।