সংবাদ শিরোনাম ::
মদনপুর ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের হরিপুর সীমান্তের অমানবিক দৃশ্য: কাঁটাতার ও আইনি মারপ্যাঁচে আর কত বিপন্ন হবে মানবতা?  নির্বাচন ঘিরে কালিকাপুরে রোজেল পারভেজ রানার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত নেইমারের স্বপ্ন, মেসির মিশন, রোনালদোর ক্ষুধা বড়াইগ্রামে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ১৫ হঠাৎ অপু বিশ্বাসের রহস্যময় পোস্ট, নেটদুনিয়ায় নতুন আলোচনার ঝড় সাইবার ঝুঁকি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছে: তথ্যমন্ত্রী শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে

নেইমারের স্বপ্ন, মেসির মিশন, রোনালদোর ক্ষুধা

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ৫১২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও একসঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার। অনেকের কাছেই এটি হতে পারে তাদের শেষ বিশ্বকাপ। তাই এই আসর শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি যুগের শেষ অধ্যায়। প্রশ্ন একটাই, শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

বছরের পর বছর ধরে রেকর্ড ভেঙেছেন তারা, জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, তৈরি করেছেন অসংখ্য বিতর্ক। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়, তারা ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন এমন সব মুহূর্ত, যা সময়ের সঙ্গে মুছে যাওয়ার নয়। কিন্তু এই আবেগঘন মঞ্চেও চাপ কম নয়, বরং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থামেননি। সময়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি এখনও খেলছেন একই তীব্রতা নিয়ে। তার ক্যারিয়ারে সবকিছু থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি আগের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত। পর্তুগালের বর্তমান স্কোয়াডও তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যা রোনালদোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে লিওনেল মেসি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবারও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তার জন্য বড় সুবিধা। যদিও সাম্প্রতিক চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, তবুও তিনি এখনো দলের মূল ভরসা।

নেইমারের গল্পটা সবচেয়ে অনিশ্চিত। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আবার চোটে পড়ায় তার ফিটনেস নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমনকি উদ্বোধনী ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে কি না, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তারপরও নেইমার এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি নিজের দিনে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই সেরা দিনগুলো এখন খুব কমই দেখা যায়। ব্রাজিলও ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, আর সাম্প্রতিক আসরগুলোতে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেছে। ফলে এবার তাদের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে।

মেসির ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হলো দলীয় সমর্থন। জুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজের মতো তরুণরা তাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করতে পারে। অন্যদিকে রোনালদোর ক্ষেত্রেও দলটি তাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা অত্যন্ত কঠিন। মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়তে পেরেছে, সেটিও বহু বছর আগে। তাই মেসির সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি রোনালদোর জন্য এটি শেষ সুযোগ হতে পারে ইতিহাস গড়ার।

বিশ্বকাপ মানেই অনিশ্চয়তা, চমক আর নাটকীয়তা। এখানে কাগজে কলমের হিসাব সবসময় মেলে না। তাই শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই বিশ্বকাপ শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। এটি একটি যুগের সমাপ্তির গল্প। যেখানে মেসি, রোনালদো ও নেইমার নিজেদের শেষ ছাপ রেখে যেতে চাইবেন।

সূত্র: স্পোর্টসকেডা

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনপুর ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

নেইমারের স্বপ্ন, মেসির মিশন, রোনালদোর ক্ষুধা

আপডেট সময় ০৮:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও একসঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, নেইমার। অনেকের কাছেই এটি হতে পারে তাদের শেষ বিশ্বকাপ। তাই এই আসর শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি যুগের শেষ অধ্যায়। প্রশ্ন একটাই, শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

বছরের পর বছর ধরে রেকর্ড ভেঙেছেন তারা, জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, তৈরি করেছেন অসংখ্য বিতর্ক। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়, তারা ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন এমন সব মুহূর্ত, যা সময়ের সঙ্গে মুছে যাওয়ার নয়। কিন্তু এই আবেগঘন মঞ্চেও চাপ কম নয়, বরং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থামেননি। সময়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি এখনও খেলছেন একই তীব্রতা নিয়ে। তার ক্যারিয়ারে সবকিছু থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি আগের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত। পর্তুগালের বর্তমান স্কোয়াডও তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যা রোনালদোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে লিওনেল মেসি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবারও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তার জন্য বড় সুবিধা। যদিও সাম্প্রতিক চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে, তবুও তিনি এখনো দলের মূল ভরসা।

নেইমারের গল্পটা সবচেয়ে অনিশ্চিত। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরিতে ভুগছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আবার চোটে পড়ায় তার ফিটনেস নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এমনকি উদ্বোধনী ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে কি না, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তারপরও নেইমার এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি নিজের দিনে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই সেরা দিনগুলো এখন খুব কমই দেখা যায়। ব্রাজিলও ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, আর সাম্প্রতিক আসরগুলোতে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেছে। ফলে এবার তাদের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে।

মেসির ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হলো দলীয় সমর্থন। জুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজের মতো তরুণরা তাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করতে পারে। অন্যদিকে রোনালদোর ক্ষেত্রেও দলটি তাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা অত্যন্ত কঠিন। মাত্র দুটি দল এই কীর্তি গড়তে পেরেছে, সেটিও বহু বছর আগে। তাই মেসির সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি রোনালদোর জন্য এটি শেষ সুযোগ হতে পারে ইতিহাস গড়ার।

বিশ্বকাপ মানেই অনিশ্চয়তা, চমক আর নাটকীয়তা। এখানে কাগজে কলমের হিসাব সবসময় মেলে না। তাই শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই বিশ্বকাপ শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। এটি একটি যুগের সমাপ্তির গল্প। যেখানে মেসি, রোনালদো ও নেইমার নিজেদের শেষ ছাপ রেখে যেতে চাইবেন।

সূত্র: স্পোর্টসকেডা