সংবাদ শিরোনাম ::
নরসিংদী অধিগ্রহণ দুর্নীতিতে তদন্তপ্রধান আজমল হোসেনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ কেরানীগঞ্জের আলোচিত তারানগর-শাক্তা গরুর হাট পরিদর্শনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সন্তোষ প্রকাশ স্বর্ণের সন্ধানে অবৈধ অনুপ্রবেশ, খনিধসে প্রাণ হারালেন ২৮ জন ৪ বছরের মেয়ের নিরাপত্তায় শটগান চেয়ে বাবার আবেদন হঠাৎ গায়েব সালমান খানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট! মিরপুরের কালশী বস্তিতে ভ’য়া’বহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত পশুর যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি শুদ্ধ হয় না স্পেনের বিশ্বকাপ দলে নেই রিয়াল মাদ্রিদের কেউ ১ জুন থেকে শুরু হবে রামিসা হত্যার বিচার: আইনমন্ত্রী

নরসিংদী অধিগ্রহণ দুর্নীতিতে তদন্তপ্রধান আজমল হোসেনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ

নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে এবার সরাসরি নাম এসেছে ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেনের। অভিযোগ উঠেছে, সার্ভেয়ার ও কানুনগোর আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদনে সুপারিশ করেন। অথচ রহস্যজনকভাবে তাকেই প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

রোববার নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্তে গেলে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন আজমল হোসেন। বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ঘিরে ধরে বলেন, “আপনিই তো দুর্নীতিবাজ। আপনিই কেন তদন্ত করবেন?” উপস্থিত অনেকে তার বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুস বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে জমি অধিগ্রহণে সংঘটিত অনিয়মে জড়িত সাবেক ডিসি, এডিসি ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাদের রক্ষা করতেই তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্তকে ভিন্নখাতে নিতে এবং দায় নিচের স্তরের কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে তিনি ইতোমধ্যে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী সজল ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমল হোসেন নিজেই একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা। তিনি বিধিবহির্ভূত অধিগ্রহণ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি তদন্তে এসে মোটা অঙ্কের ঘুস নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অথচ তাকেই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে, যা পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এদিকে নরসিংদী ডিসি অফিসের সাবেক কানুনগো আব্দুল জলিলও আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, শিবপুরের চৈতন্যপুর এলাকায় আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার একটি ছোট একতলা ভবনের পাশে পরবর্তীতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরেকটি দোতলা কাঠামো নির্মাণ করা হয়, যাতে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাড়ানো যায়। যৌথ তদন্ত তালিকায় ভবন দুটিকে “উদ্দেশ্যমূলক নির্মাণ” হিসেবে উল্লেখ করে বাতিলের সুপারিশ করা হলেও পরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা গেছে, এলএ কেস নং ১১/২০২১-২০২২ এর একটি সুপারিশপত্রে মো. আজমল হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে একটি বৈধ একতলা ভবনের সঙ্গে অতিরিক্ত আরেকটি অবৈধ ভবন যুক্ত করে মোট ৩ কোটি ৪ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, যোশর মৌজার ১০৭৩ নম্বর দাগে জেবুন্নেছা রত্না নামে এক নারীর নামে অস্তিত্বহীন একটি সেমিপাকা ঘর দেখিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। অথচ কানুনগো আব্দুল জলিল তার প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন যে, ওই ঘরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপরও আপত্তি উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে “জমি অধিগ্রহণে বিস্ময়কর কাণ্ড, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ঘুস ভাগাভাগি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আজমল হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে আজমল হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া পুরো তদন্তকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, যিনি নিজেই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আজমল হোসেন বলেন, “১১ নম্বর এলএ কেসে যেসব আপত্তি উঠেছে, তদন্ত করে সেগুলো বাতিল করা হবে।” একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদী অধিগ্রহণ দুর্নীতিতে তদন্তপ্রধান আজমল হোসেনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ

নরসিংদী অধিগ্রহণ দুর্নীতিতে তদন্তপ্রধান আজমল হোসেনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে এবার সরাসরি নাম এসেছে ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেনের। অভিযোগ উঠেছে, সার্ভেয়ার ও কানুনগোর আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদনে সুপারিশ করেন। অথচ রহস্যজনকভাবে তাকেই প্রধান করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

রোববার নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্তে গেলে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন আজমল হোসেন। বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ঘিরে ধরে বলেন, “আপনিই তো দুর্নীতিবাজ। আপনিই কেন তদন্ত করবেন?” উপস্থিত অনেকে তার বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুস বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে জমি অধিগ্রহণে সংঘটিত অনিয়মে জড়িত সাবেক ডিসি, এডিসি ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাদের রক্ষা করতেই তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্তকে ভিন্নখাতে নিতে এবং দায় নিচের স্তরের কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে তিনি ইতোমধ্যে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী সজল ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমল হোসেন নিজেই একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা। তিনি বিধিবহির্ভূত অধিগ্রহণ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি তদন্তে এসে মোটা অঙ্কের ঘুস নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অথচ তাকেই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে, যা পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এদিকে নরসিংদী ডিসি অফিসের সাবেক কানুনগো আব্দুল জলিলও আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, শিবপুরের চৈতন্যপুর এলাকায় আব্দুল বাতেন ভূঁইয়ার একটি ছোট একতলা ভবনের পাশে পরবর্তীতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরেকটি দোতলা কাঠামো নির্মাণ করা হয়, যাতে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাড়ানো যায়। যৌথ তদন্ত তালিকায় ভবন দুটিকে “উদ্দেশ্যমূলক নির্মাণ” হিসেবে উল্লেখ করে বাতিলের সুপারিশ করা হলেও পরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা গেছে, এলএ কেস নং ১১/২০২১-২০২২ এর একটি সুপারিশপত্রে মো. আজমল হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে একটি বৈধ একতলা ভবনের সঙ্গে অতিরিক্ত আরেকটি অবৈধ ভবন যুক্ত করে মোট ৩ কোটি ৪ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, যোশর মৌজার ১০৭৩ নম্বর দাগে জেবুন্নেছা রত্না নামে এক নারীর নামে অস্তিত্বহীন একটি সেমিপাকা ঘর দেখিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। অথচ কানুনগো আব্দুল জলিল তার প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন যে, ওই ঘরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপরও আপত্তি উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে “জমি অধিগ্রহণে বিস্ময়কর কাণ্ড, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ঘুস ভাগাভাগি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আজমল হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে আজমল হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া পুরো তদন্তকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, যিনি নিজেই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আজমল হোসেন বলেন, “১১ নম্বর এলএ কেসে যেসব আপত্তি উঠেছে, তদন্ত করে সেগুলো বাতিল করা হবে।” একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।