ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

নওগাঁয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

নওগাঁর চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জমি খারিজ অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা-খারিজসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই হাবিবুজ্জামান জিয়া একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর থেকে জমিসংক্রান্ত সেবা পেতে গ্রাহকদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই টাকা লেনদেন চলছে। এক নারী সেবাগ্রহীতাকে অফিসের এক কর্মচারীর হাতে টাকা দিতে দেখা যায়। এ সময় ওই কর্মচারীকে বলতে শোনা যায়, ‘বসকে দেন, আমাকে না।’
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই কাঠা জমি খারিজ (নিজের নামে খতিয়ান বা রেকর্ড হালনাগাদ) করতে গিয়ে প্রথমে ৩ হাজার এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপরও তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করা হয়।
আরেক ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছেও একটি মাদ্রাসার জমি খারিজের জন্য প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি এক লাখ টাকা দেন। পরে আরও ঘুষ দাবি করা হলে তিনি রাজি না হওয়ায় খারিজ আবেদন বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছেও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সদর উপজেলার হাপানিয়া-বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০১৯ সালে হাবিবুজ্জামান জিয়া অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই একটি জাল খতিয়ানের মাধ্যমে খারিজ অনুমোদন দেন। এ বিষয়ে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত খতিয়ানটি ছিল বানোয়াট এবং নিয়মবহির্ভূত।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি ছিল এবং অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেই খারিজ অনুমোদনের প্রস্তাব দেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। জাল খতিয়ানের বিষয়ে তিনি বলেন, ওটা মীমাংসিত একটি বিষয়।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এক ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

নওগাঁয় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নওগাঁর চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জমি খারিজ অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা-খারিজসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট নওগাঁ পৌরসভা-চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই হাবিবুজ্জামান জিয়া একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এরপর থেকে জমিসংক্রান্ত সেবা পেতে গ্রাহকদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাহিদামতো টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই টাকা লেনদেন চলছে। এক নারী সেবাগ্রহীতাকে অফিসের এক কর্মচারীর হাতে টাকা দিতে দেখা যায়। এ সময় ওই কর্মচারীকে বলতে শোনা যায়, ‘বসকে দেন, আমাকে না।’
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই কাঠা জমি খারিজ (নিজের নামে খতিয়ান বা রেকর্ড হালনাগাদ) করতে গিয়ে প্রথমে ৩ হাজার এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপরও তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করা হয়।
আরেক ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছেও একটি মাদ্রাসার জমি খারিজের জন্য প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি এক লাখ টাকা দেন। পরে আরও ঘুষ দাবি করা হলে তিনি রাজি না হওয়ায় খারিজ আবেদন বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছেও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সদর উপজেলার হাপানিয়া-বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০১৯ সালে হাবিবুজ্জামান জিয়া অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই একটি জাল খতিয়ানের মাধ্যমে খারিজ অনুমোদন দেন। এ বিষয়ে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত খতিয়ানটি ছিল বানোয়াট এবং নিয়মবহির্ভূত।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি ছিল এবং অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই হাবিবুজ্জামান জিয়া নিজেই খারিজ অনুমোদনের প্রস্তাব দেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। জাল খতিয়ানের বিষয়ে তিনি বলেন, ওটা মীমাংসিত একটি বিষয়।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এক ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।