সংবাদ শিরোনাম ::
কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার মুকসুদপুরে কৃষকের মাঝে নারকেল গাছের চারা ও সার বিতরণ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বাস্তবায়নে জোর, অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শাতিলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্বচ্ছতা,জবাবদিহীতা ও ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত করা হবে : ভিসি হেমায়েত জাহান প্রেমের নামে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিধবা নারী বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় নাগরিকসহ ২ জন আটক প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে : আইনমন্ত্রী ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা

ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে?

কোরবানি একটি ইবাদত। এই ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তায়ালা কোরবানি শুধু তার জন্যই করার আদেশ দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তার কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম। (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ দিয়েছেন, যে সকল মুশরিক আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই করে তাদের যেন জানিয়ে দেওয়া হয়, আমরা তাদের বিরোধী। নামাজ, কোরবানি শুধু তার নামেই হবে, যার কোনো শরিক নেই। এ কথাই আল্লাহ তায়ালা সূরা কাউসারে বলেছেন, তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কোরবানি করো। (সুরা কাউসার, আয়াত : ২)

অর্থাৎ, নামাজ, কোরবানি সব ইবাদতই আল্লাহ তায়ালার জন্য আদায় করতে হবে। কারণ, মুশরিকরা প্রতিমার জন্য প্রার্থনা করে, পশু জবাই করে। এর বিপরীতে মুসলিমদের সব কাজে ইখলাস অবলম্বন করতে হবে।

কোরবানি কয় দিন করতে পারবেন?
কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম
ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারলে যা করবেন

ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই করার সময় শুরু হয় ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে। সুতরাং এলাকার ঈদের নামাজ শেষ হবার পর কোরবানি করতে হবে। ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা আদায় হবে না। জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) কোরবানির দিন নামাজ আদায় করেন, তারপর খুতবা দেন। তারপর জবেহ করেন এবং তিনি বলেন, নামাজের পূর্বে যে ব্যক্তি জবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবেহ করতে হবে এবং যে জবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার জবেহ করা উচিত। (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)

তবে যদি এমন কোন প্রত্যন্ত গ্রাম হয় যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না বা এমন কোনো এলাকা হয় যে এলাকায় ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয় এমন এলাকায় ঈদের দিন ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে।

হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানির সময় মূলত ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। তবে যেসব শহর বা বড় গ্রামে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত বিদ্যমান থাকে, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয়। আর যেসব ছোট গ্রামে বা জনপদে ঈদের নামাজ পড়ার আইনি বা শারীয় বাধ্যবাধকতা নেই কিংবা যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই কোরবানি করা যাবে। এক্ষেত্রে ঈদের নামাজের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি নয়।

মূলত শহর বা বড় জনপদে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা ছোট গ্রাম যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানকার বাসিন্দারা ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে?

আপডেট সময় ০৩:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানি একটি ইবাদত। এই ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তায়ালা কোরবানি শুধু তার জন্যই করার আদেশ দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। তার কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম। (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ দিয়েছেন, যে সকল মুশরিক আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই করে তাদের যেন জানিয়ে দেওয়া হয়, আমরা তাদের বিরোধী। নামাজ, কোরবানি শুধু তার নামেই হবে, যার কোনো শরিক নেই। এ কথাই আল্লাহ তায়ালা সূরা কাউসারে বলেছেন, তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কোরবানি করো। (সুরা কাউসার, আয়াত : ২)

অর্থাৎ, নামাজ, কোরবানি সব ইবাদতই আল্লাহ তায়ালার জন্য আদায় করতে হবে। কারণ, মুশরিকরা প্রতিমার জন্য প্রার্থনা করে, পশু জবাই করে। এর বিপরীতে মুসলিমদের সব কাজে ইখলাস অবলম্বন করতে হবে।

কোরবানি কয় দিন করতে পারবেন?
কোরবানির পশু জবাইয়ের নিয়ম
ওয়াজিব কোরবানি দিতে না পারলে যা করবেন

ঈদুল আজহার দিন কোরবানির পশু জবাই করার সময় শুরু হয় ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে। সুতরাং এলাকার ঈদের নামাজ শেষ হবার পর কোরবানি করতে হবে। ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কোরবানি করলে তা আদায় হবে না। জুনদাব ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) কোরবানির দিন নামাজ আদায় করেন, তারপর খুতবা দেন। তারপর জবেহ করেন এবং তিনি বলেন, নামাজের পূর্বে যে ব্যক্তি জবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি জবেহ করতে হবে এবং যে জবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার জবেহ করা উচিত। (বুখারি, হাদিস : ৯৮৫)

তবে যদি এমন কোন প্রত্যন্ত গ্রাম হয় যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না বা এমন কোনো এলাকা হয় যে এলাকায় ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয় এমন এলাকায় ঈদের দিন ফজরের পর থেকেই কোরবানি করা যাবে।

হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানির সময় মূলত ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। তবে যেসব শহর বা বড় গ্রামে জুমার নামাজ ও ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্ত বিদ্যমান থাকে, সেখানে ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয়। আর যেসব ছোট গ্রামে বা জনপদে ঈদের নামাজ পড়ার আইনি বা শারীয় বাধ্যবাধকতা নেই কিংবা যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই কোরবানি করা যাবে। এক্ষেত্রে ঈদের নামাজের জন্য অপেক্ষা করা জরুরি নয়।

মূলত শহর বা বড় জনপদে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা ছোট গ্রাম যেখানে ঈদের জামাত হয় না, সেখানকার বাসিন্দারা ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন।