সংবাদ শিরোনাম ::
গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না : সংসদে রুমিন ফারহানা বন ধ্বংস করে ইন্ডাস্ট্রি করা ব্যক্তিই পরিবেশমন্ত্রী: আসিফ মাহমুদ রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু ৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনছে বিটিভি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নীতিমালা করছে সরকার বিসিবি সভাপতি তামিম, সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারআইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবেন : মন্ত্রীকে স্পিকার

হাসিনার সময়ে পাওয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান ফেরত চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দুই দফায় ১০ কোটি করে ২০ টাকা দেয়া হয়েছিল। সেই টাকা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে এফডিআর ছিল। সেই এফডিআর মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে না জানিয়ে সরকারি তহবিলে ফেরত নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আজ বিকেলে ধানমন্ডিস্থ মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় এক সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যরিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা কীভাবে রাষ্ট্রীয় অনুদান বাতিল হলো, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিশেষ আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। কোনো নোটিশ ছাড়াই নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের এ অর্থ ফেরত নেয়া দেশের গোটা নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত নেওয়া যায় এমনটাও জানান সভানেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে ২০২২ সালের এপ্রিলে ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ১০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় স্থায়ী আমানত করা হয়। এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য ব্যয় এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল ‘সিড মানি’র সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম ছিল। ৫.৫ শতাংশ সুদে তিন মাস পরপর এই লভ্যাংশ পেয়ে আসছিল মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তারা ১৫ লাখ টাকা এবং একই বছরের ৩০ এপ্রিল ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকাসহ এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে।

সংস্থাটি সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে এফডিআরের লভ্যাংশ পেয়েছিল। এর পর থেকে লভ্যাংশ আর পায়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর দুই মাস আগে থেকে ফিডিআরের বিপরীতে লভ্যাংশ পায়নি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ব্যাংক থেকে মৌখিকভাবে জানতে পারে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনূস সরকার বাতিল করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছে।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী শুক্লা লিখিত বক্তব্যে বলেন,‌ ‘তৎকালীন মুখ্য সচিব মোঃ সিরাজ উদ্দিন মিঞা ওরফে সিরাজ উদ্দিন সাথী স্বাক্ষরিত আদেশের প্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরট নগদায়ন করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছেন মর্মে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস নিজে দুই কন্যার পিতা। নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তার নোবেল পুরস্কারের অংশীদারও একজন নারী। অথচ তার শাসনামলে বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার জন্য দেওয়া অনুদান কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না : সংসদে রুমিন ফারহানা

হাসিনার সময়ে পাওয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান ফেরত চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

আপডেট সময় ০৭:১৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দুই দফায় ১০ কোটি করে ২০ টাকা দেয়া হয়েছিল। সেই টাকা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নামে এফডিআর ছিল। সেই এফডিআর মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে না জানিয়ে সরকারি তহবিলে ফেরত নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আজ বিকেলে ধানমন্ডিস্থ মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় এক সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ব্যরিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা কীভাবে রাষ্ট্রীয় অনুদান বাতিল হলো, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিশেষ আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। কোনো নোটিশ ছাড়াই নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের এ অর্থ ফেরত নেয়া দেশের গোটা নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। অনুদানের শর্তে এমন কোনো ধারা ছিল না, যার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত নেওয়া যায় এমনটাও জানান সভানেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুকূলে ২০২২ সালের এপ্রিলে ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ১০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় স্থায়ী আমানত করা হয়। এফডিআরের লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য ব্যয় এবং বাকি ২০ শতাংশ মূল ‘সিড মানি’র সঙ্গে যুক্ত থাকার নিয়ম ছিল। ৫.৫ শতাংশ সুদে তিন মাস পরপর এই লভ্যাংশ পেয়ে আসছিল মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তারা ১৫ লাখ টাকা এবং একই বছরের ৩০ এপ্রিল ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকাসহ এ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে।

সংস্থাটি সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে এফডিআরের লভ্যাংশ পেয়েছিল। এর পর থেকে লভ্যাংশ আর পায়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর দুই মাস আগে থেকে ফিডিআরের বিপরীতে লভ্যাংশ পায়নি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ব্যাংক থেকে মৌখিকভাবে জানতে পারে এই ২০ কোটি টাকার অনুদান ড. ইউনূস সরকার বাতিল করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছে।

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী শুক্লা লিখিত বক্তব্যে বলেন,‌ ‘তৎকালীন মুখ্য সচিব মোঃ সিরাজ উদ্দিন মিঞা ওরফে সিরাজ উদ্দিন সাথী স্বাক্ষরিত আদেশের প্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরট নগদায়ন করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নিয়েছেন মর্মে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূস নিজে দুই কন্যার পিতা। নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষমতায়নের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তার নোবেল পুরস্কারের অংশীদারও একজন নারী। অথচ তার শাসনামলে বাংলাদেশের মহিলাদের খেলাধুলার জন্য দেওয়া অনুদান কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনা আমাদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।’