সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ডিপিডিসির বিতর্কিত প্রকল্পে আলোচনার কেন্দ্রে মোরশেদ আলম খান

২১ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় বিদ্যুৎ খাত

দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বৃহৎ বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর একটি জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর পুরো ঘটনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান–এর নাম।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে ডিপিডিসির ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে এবং সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে মোরশেদ আলম খানের নাম উঠে এসেছে।

দুদক গত ২৩ এপ্রিল ডিপিডিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি চায়। ওই চিঠিতে বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত মূল চুক্তিপত্র, সংশোধিত চুক্তি, টেন্ডার নথি, প্রকল্পের আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট ভাউচার এবং ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিপিডিসি পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে তথ্য গোপনের চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিত কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের মতে, প্রকৌশল বিভাগে তার প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে আর কোনটি বাদ পড়বে—তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হতো তার সিদ্ধান্তে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো হয়। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে। ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছে দুদক। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা, কিছু বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রকল্পটি জিটুজিভিত্তিক, তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সুযোগ ব্যবহার করে অর্থ পাচারের পথ সহজ করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের যেসব সরঞ্জাম আমদানির কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর পরিমাণ ছিল অনেক কম। আবার কিছু যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অথচ বিল পরিশোধ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের দামে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে মোরশেদ আলম খানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে ভয়াবহ এক চিত্র। প্রকল্পের কিছু কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সেই কাজের অস্তিত্ব নেই। মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদন্তকারীরা অনেক স্থানে প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের মিল খুঁজে পাননি। কোথাও সাবস্টেশন নির্মাণ অসম্পূর্ণ, কোথাও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হয়নি, আবার কোথাও যন্ত্রপাতি স্থাপনের তথ্য থাকলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত। কিন্তু এসব কাজের বিপরীতে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগের তীর যাচ্ছে মোরশেদ আলম খানের দিকে।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রকৌশল বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। ঠিকাদার নির্বাচন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, বিল অনুমোদন এবং কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তার ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিপিডিসিতে একটি “অদৃশ্য বলয়” গড়ে উঠেছিল, যেখানে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলেই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন। আর সেই বলয়ের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন মোরশেদ আলম খান। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণের বিনিময়ে তাদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য টেন্ডারের শর্তও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে দুদক এখন শুধু প্রকল্প দুর্নীতিই নয়, মোরশেদ আলম খানের ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তার ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশ সফর, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা দেখতে চাইছেন, তার আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের বিল ছাড়ের সময়ের সঙ্গে কিছু আর্থিক লেনদেনের মিল পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এসব তথ্য যাচাইয়ে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সেবার মান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বরং প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। একই ধরনের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ বহুদিনের। ফলে ডিপিডিসির এই প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ পুরো বিদ্যুৎ খাতের অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জিটুজি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বচ্ছতা কম থাকে। কারণ সরকার-টু-সরকার চুক্তির আড়ালে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। ডিপিডিসির প্রকল্পেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিপিডিসির একাধিক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্নমত পোষণকারী কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করা হতো। কেউ অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে বদলি বা প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়ম দেখেও নীরব থাকতেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমেও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। যেসব যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, সেগুলোর জন্য কয়েকগুণ বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন যাচাই করছেন, এই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেশে ফিরেছে কি না।

ডিপিডিসির ভেতরে মোরশেদ আলম খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার ওপরও বড় ধরনের আঘাত। কারণ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের নামে জনগণের করের টাকা ব্যয় করা হলেও সেই অর্থের একটি বড় অংশ যদি দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এড়ানোর সুযোগ নেই।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হতে পারে।

এদিকে ডিপিডিসির অভ্যন্তরে এই অনুসন্ধান নিয়ে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, তদন্ত আরও গভীরে গেলে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র সামনে আসতে পারে। কারণ এই প্রকল্পের বাইরেও ডিপিডিসির আরও কয়েকটি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি “দুর্নীতির সংস্কৃতি” তৈরি হয়েছে। জরুরি প্রকল্প, বিশেষ অনুমোদন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের অজুহাতে নিয়ম-কানুন শিথিল করা হয়েছে। আর এই সুযোগে কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ডিপিডিসির এই অনুসন্ধান সেই পুরো ব্যবস্থার অস্বচ্ছতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেছেন, ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও এখনো আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্ত ঘিরে যেসব তথ্য সামনে আসছে, তাতে ডিপিডিসির বিতর্কিত প্রকল্পে মোরশেদ আলম খানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় দুর্নীতির অনুসন্ধানে রূপ নিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। নাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের এই চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের শাসনব্যবস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন মোরশেদ আলম খান।

২য় পর্বে থাকছে  তার সম্পদের বিবরনী

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

ডিপিডিসির বিতর্কিত প্রকল্পে আলোচনার কেন্দ্রে মোরশেদ আলম খান

২১ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় বিদ্যুৎ খাত

আপডেট সময় ০১:২২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বৃহৎ বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর একটি জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর পুরো ঘটনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান–এর নাম।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে ডিপিডিসির ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে এবং সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে মোরশেদ আলম খানের নাম উঠে এসেছে।

দুদক গত ২৩ এপ্রিল ডিপিডিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি চায়। ওই চিঠিতে বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত মূল চুক্তিপত্র, সংশোধিত চুক্তি, টেন্ডার নথি, প্রকল্পের আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট ভাউচার এবং ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিপিডিসি পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে তথ্য গোপনের চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিত কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের মতে, প্রকৌশল বিভাগে তার প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে আর কোনটি বাদ পড়বে—তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হতো তার সিদ্ধান্তে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো হয়। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে। ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছে দুদক। অনুসন্ধানকারীদের ধারণা, কিছু বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রকল্পটি জিটুজিভিত্তিক, তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সুযোগ ব্যবহার করে অর্থ পাচারের পথ সহজ করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের যেসব সরঞ্জাম আমদানির কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর পরিমাণ ছিল অনেক কম। আবার কিছু যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অথচ বিল পরিশোধ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের দামে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে মোরশেদ আলম খানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে ভয়াবহ এক চিত্র। প্রকল্পের কিছু কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সেই কাজের অস্তিত্ব নেই। মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদন্তকারীরা অনেক স্থানে প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের মিল খুঁজে পাননি। কোথাও সাবস্টেশন নির্মাণ অসম্পূর্ণ, কোথাও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হয়নি, আবার কোথাও যন্ত্রপাতি স্থাপনের তথ্য থাকলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত। কিন্তু এসব কাজের বিপরীতে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগের তীর যাচ্ছে মোরশেদ আলম খানের দিকে।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রকৌশল বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। ঠিকাদার নির্বাচন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, বিল অনুমোদন এবং কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তার ব্যাপক প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিপিডিসিতে একটি “অদৃশ্য বলয়” গড়ে উঠেছিল, যেখানে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলেই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন। আর সেই বলয়ের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন মোরশেদ আলম খান। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণের বিনিময়ে তাদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য টেন্ডারের শর্তও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে দুদক এখন শুধু প্রকল্প দুর্নীতিই নয়, মোরশেদ আলম খানের ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তার ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশ সফর, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা দেখতে চাইছেন, তার আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের বিল ছাড়ের সময়ের সঙ্গে কিছু আর্থিক লেনদেনের মিল পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এসব তথ্য যাচাইয়ে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সেবার মান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বরং প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। একই ধরনের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ বহুদিনের। ফলে ডিপিডিসির এই প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ পুরো বিদ্যুৎ খাতের অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জিটুজি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বচ্ছতা কম থাকে। কারণ সরকার-টু-সরকার চুক্তির আড়ালে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। ডিপিডিসির প্রকল্পেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিপিডিসির একাধিক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্নমত পোষণকারী কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করা হতো। কেউ অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে বদলি বা প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়ম দেখেও নীরব থাকতেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমেও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। যেসব যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, সেগুলোর জন্য কয়েকগুণ বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন যাচাই করছেন, এই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দেশে ফিরেছে কি না।

ডিপিডিসির ভেতরে মোরশেদ আলম খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার ওপরও বড় ধরনের আঘাত। কারণ বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের নামে জনগণের করের টাকা ব্যয় করা হলেও সেই অর্থের একটি বড় অংশ যদি দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এড়ানোর সুযোগ নেই।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হতে পারে।

এদিকে ডিপিডিসির অভ্যন্তরে এই অনুসন্ধান নিয়ে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, তদন্ত আরও গভীরে গেলে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র সামনে আসতে পারে। কারণ এই প্রকল্পের বাইরেও ডিপিডিসির আরও কয়েকটি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি “দুর্নীতির সংস্কৃতি” তৈরি হয়েছে। জরুরি প্রকল্প, বিশেষ অনুমোদন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের অজুহাতে নিয়ম-কানুন শিথিল করা হয়েছে। আর এই সুযোগে কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ডিপিডিসির এই অনুসন্ধান সেই পুরো ব্যবস্থার অস্বচ্ছতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেছেন, ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও এখনো আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্ত ঘিরে যেসব তথ্য সামনে আসছে, তাতে ডিপিডিসির বিতর্কিত প্রকল্পে মোরশেদ আলম খানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় দুর্নীতির অনুসন্ধানে রূপ নিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। নাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের এই চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের শাসনব্যবস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন মোরশেদ আলম খান।

২য় পর্বে থাকছে  তার সম্পদের বিবরনী